Now Reading
ফরেস্ট গাম্প(শেষ পর্ব)



ফরেস্ট গাম্প(শেষ পর্ব)

ফরেস্ট তার মায়ের ক্যান্সার হওয়ার কথা শুনে গ্রিনবো তে ফিরে আসে। মায়ের মৃত্যুর পরে সে চিংড়ি কোম্পানির সব দায়িত্ব ড্যান এর কাছে দিয়ে দেয়। বাড়িতে সে লনে ঘাস কাটার কাজ করত। কেননা এই কাজ সে উপভোগ করত।

th1.jpgড্যান ‘অ্যাপল কম্পিউটার’ নামে এক কোম্পানিতে অর্থ বিনিয়োগ করে। এ থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে ফরেস্ট একটি চার্চ নির্মাণ করে, বুব্বার শহরে একটি হাসপাতাল নির্মাণ করে এবং বিনিয়োগকৃত অর্থে বুব্বার যে অংশ ছিল তা তার পরিবারকে দিয়ে দেয়। এরপর থেকে বুব্বার পরিবারকে আর কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে হয়নি।জেনি গ্রিনবোতে আসে এবং ফরেস্টের সাথে থাকতে শুরু করে। একদিন তারা হাঁটতে হাঁটতে জেনির বাবার পরিত্যক্ত বাড়ির সামনে আসে। কিছুক্ষণের জন্য জেনি নিশ্চুপ হয়ে যায়। এরপর সে তার হাতের কছে যা পায় তাই সেই বাড়ির দিকে ছুঁড়ে মারতে থাকে। একসময় সে কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে বসে পড়ে। ফরেস্ট বুঝতে পারে যে জেনি ছোটবেলায় কতটা অসহায় জীবন কাটিয়েছে।

53-1-forrest-gump-p1.jpg

১৯৭৬ সালের ৪ জুলাই রাতে ফরেস্ট জেনিকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। জেনি ফরেস্টকে তার ভাললাগার কথা জানায়। পরেরদিন সকালে ফরেস্ট ঘুম থেকে উঠার আগে জেনি চলে যায়।ফরেস্ট এতে খুব কষ্ট পায়। সে দৌড়াতে শুরু করে। প্রথমে সে ঠিক করে যে সে রাস্তার শেষ পর্যন্ত দৌড়াবে। কিন্তু দেখা গেলো সে শহর,দেশ পার করে মিসিসিপি বর্ডার পর্যন্ত চলে গেছে। প্রায় তিন বছর ধরে সে বিভিন্ন দেশের ভিতর দিয়ে দৌড়াতে থাকে।

forrest-gump-6.jpg

ফরেস্ট মিডিয়া  ও অন্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। অনেকে তার অনুসারী হয়। এই ঘটনা থেকে ১৯৭৮-১৯৮১ সালে জগিং করার বাতিক দেখা যায়। এদিকে জেনিকে জর্জিয়ার সাভান্নাহ তে ওয়েটার এর কাজ করতে দেখা যায়। সে টেলিভিশনে ফরেস্টের দৌড়ানোর ঘটনা দেখতে পায়। দৌড়ানোর সময় ফরেস্ট একজন বিক্রেতাকে কুকুরের নোংরার উপর পা দিতে দেখে ‘শিট হ্যাপেন্স’ শব্দটিকে ব্যবহার করে। ফরেস্ট তার মুখে লাগা কাদা মোছার জন্য একজন ডিজাইনারের দেওয়া হলুদ টি সার্ট ব্যবহার করে। টি সার্ট এর উপরে ফরেস্টের মুখের যে আকৃতি পাওয়া যায় সেখান থেকে ‘স্মাইলি ফেইস’ লোগোটির উৎপত্তি হয়। একদিন পশ্চিম আমেরিকার এক জায়গায় গিয়ে সে থেমে যায়। সে বলে যে সে ক্লান্ত। সে আলাবামাতে ফিরে আসে।

সেখানে আসার পড়ে ফরেস্ট জেনির কাছ থেকে একটা চিঠি পায়। সে জেনির সাথে দেখা করতে যায়। তারা একে অপরকে দেখে খুব খুশি হয়। ফরেস্টের সাথে জেনি তার ছেলের পরিচয় করিয়ে দেয়। সে বলে ছেলের নাম বাবার নামানুসারে ফরেস্ট রাখা হয়েছে। ফরেস্ট প্রথমে ভাবে যে ফরেস্ট নামের অন্য আরেকজন লোকের সাথে  জেনির দেখা হয়েছিল। পরে জেনি তাকে জানায় যে সেই বাচ্চাটির বাবা। ফরেস্ট ভয়ে ভয়ে বাচ্চাটির আই কিউ সম্পর্কে জানতে চায়। জেনি জানায় যে বাচ্চাটির আই কিউ স্বাভাবিক। জেনি ফরেস্টকে বলে যে তার অনিরাময়যোগ্য একটি রোগ হয়েছে। ফরেস্ট জেনি আর তাদের বাচ্চাকে তার বাড়িতে থাকার আমন্ত্রণ জানায়। জেনি ফরেস্টকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এতে সে রাজি হয়।তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান খুব ছিমছাম ভাবে শেষ হয়। সেখানে খুব কাছের কিছু মানুষ এসেছিল। তাদের মধ্যে ছিল লেফটেন্যান্ট ড্যান। সে তার ভিয়েতনামী হবু স্ত্রী সুসানকে সাথে নিয়ে এসেছিল। জেনি আর ড্যান এর এই একবারই দেখা হয়েছিল। বিয়ের পরে তারা একবছর একসাথে ছিল।

203259_1237017110511_full.jpg

এরপর জেনি মারা যায়। জেনিকে সেই গাছের নিচে সমাহিত করা হয় যেখানে তারা ছোটবেলায় খেলা করত। ফরেস্ট জেনির বাবার বাড়িটি ক্রয় করে ও বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে দেয়। ফরেস্ট একজন ভালো বাবা হওয়ার চেষ্টা করতে থাকে।

১৯৮২ সালে ফরেস্ট জেনির কবরে যায়। সে নিয়তি সম্পর্কে তার মতামত প্রকাশ করে। লেফটেন্যান্ট ড্যান মনে করে যে একজন মানুষ নিজেই তার ভাগ্য তৈরি করে। ফরেস্টের মা মনে করতেন যে ভাগ্য তার আপন গতিতে বহমান। ফরেস্টের মনে হয় দুটো কথাই ঠিক। তাদের সন্তানের লেখা একটা চিঠি জেনির কবরের উপর রেখে ফরেস্ট চলে যায়। শেষ দৃশ্যে দেখা যায় ফরেস্ট তার ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিয়ে বলছে যে সে তাকে ভালবাসে।

কাস্টিং

ফরেস্ট গাম্প     – টম হ্যাঙ্কস

জেনি কারেন     – রবিন রাইট

লেফটেন্যান্ট ড্যান  – গ্যারি সাইনাইজ

বুব্বা          – মাইকেলটি উইলিয়ামসন

মিসেস  গাম্প    – স্যালি ফিল্ড

ফরেস্ট গাম্প জুনিওর- হ্যালি জোয়েল অস্মেনট

 

পুরস্কার

মুভিটি মোট ছয়টি বিভাগে অস্কার পুরস্কার পায়। এগুলো হল- শ্রেষ্ঠ ছবি, শ্রেষ্ঠ অভিনেতা, শ্রেষ্ঠ পরিচালক, শ্রেষ্ঠ ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট, শ্রেষ্ঠ স্ক্রিনপ্লে এবং শ্রেষ্ঠ ফ্লিম এডিটিং।

তিনটি বিভাগে গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার পায়। এগুলো হল- শ্রেষ্ঠ অভিনেতা, শ্রেষ্ঠ পরিচালক এবং শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্য।

শ্রেষ্ঠ ছবি ও শ্রেষ্ঠ সহঅভিনেতা বিভাগে পায় স্যাটার্ন পুরস্কার।

রেটিং

আইএমডিবিঃ ৮.৮/১০

রোটেন টমাটোসঃ ৭১%

গড় রেটিং -৭.৭/১০

মোট রিভিইউ-৮৬

ফ্রেশ      -৬১

রোটেন     -২৬

বক্স অফিস

মুভিটি বক্স অফিসে প্রায় ৬৭৭.৯ মিলিয়ন ডলার আয় করে। এটি রবার্ট জেমেকিস এর পরিচালিত সবচেয়ে বেশি আয় করা মুভি।

59424-o.jpg

এই মুভির শুরুতে এবং শেষে পালক দেখানো হয়েছে। টম হ্যাঙ্কস এর মতে আমরা আমাদের জীবনে যে সুযোগ গুলো পাই সেগুলোর ব্যবহারের উপর আমাদের ভাগ্য কেমন হবে তা নির্ভর করে।মুভিতে পালকের ব্যবহার এরই প্রতিরূপ। পালক যেমন উড়ে গিয়ে যেকোন জায়গায় পড়তে পারে; তেমন আমরাও আমদের জীবনে আসা সুযোগ গুলো কাজে লাগাতে পারলে খারাপ থেকে ভালো অবস্থায় যেতে পারব। আবার স্যালি ফিল্ডের এর মতে পালক বাতাসে উড়ে যেকোনো একটা জায়গায় গিয়ে পড়তে পারে। সেই জায়গা কি আগে থেকে নির্ধারণ করা থাকে নাকি পালকটি হটাত করে কোন একটা জায়গায় গিয়ে পড়ে?আমাদের জীবনে যে ঘটনাগুলো ঘটে সেগুলোও কি কেউ আগে থেকে কেউ নির্ধারণ করে রেখেছে নাকি হটাত করে হয়? হয়ত উপরের দুইটি কথাই ঠিক।

 

About The Author
Farhana Afrose
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment