অন্যান্য (U P) সাহিত্য কথা

খুন!

চোখ খুলার পরেও রহমতের মনে হলো এখনো চোখ বুজেই আছে সে!

চারপাশ থেকে একটা কাঁথা শক্ত করে জড়ানো গায়ে। একদমই নড়াচড়া করতে পারছেনা। মনে মনে বেশ ভয় ভয় লাগছে তার।

-মাগ্গো! এ কেমুন আন্ধাইর দুনিয়া!

মনে মনে নিজেকে সাহস দেয়ার চেষ্টায় স্মৃতি ঘাটাঘাটি শুরু করলো রহমত।
– আইচ্ছা অখন রাইত না দিন? কাইলকা যেন্ কই আসলাম এমুন সময়?

পুরনো স্মৃতি সব অন্ধকারে তলিয়ে আছে রহমতের। বর্তমানের ভয় ভুলার জন্য অতীত ভাবতে গিয়ে আরো গহীন আঁধারে ডুবে গেলো রহমত। সেই সাথে নতুন করে ভয়টা আবার জেঁকে ধরলো! চিৎকার করার চেষ্টা করেও পারলোনা, গলা শুকিয়ে কাঠ, কেমন চাঁমচিকার মতো চিঁ চিঁ শব্দ বের হলো একটা!

নড়াচড়ার চেষ্টা করেও সুবিধে হলোনা, কাঁথা দিয়ে মুড়ানো নয় একদম যেনো কেও কষে বেঁধে রেখেছে রহমতকে!

সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতেই মনে পড়ে গেলো মাঝ রাতে কি করে এসেছে সে। ছবির মাঝির নৌকাটা ডুবিয়ে এসেছে মাঝ পদ্মায়, গলুইয়ে কষে বাঁধা ছিলো ছবির মাঝি। ঠিক তার নিজের মতই!
ডুবে যাওয়ার আগ মূহুর্তে একবার ছবির মাঝির দিকে তাকিয়েছিলো রহমত, আতঙ্কে চোখ দুটো কোটর ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলো, মুখে টু শব্দটি নেই! ছই এর দড়ি টা মুখে গুজে দিয়ে রেখেছিলো যে আগেই!

ছবির মাঝির ঐ আতঙ্ক নিজের মনেও আবিষ্কার করলো রহমত।
হাত-পা মোড়ানো!
মুখে শব্দ নেই!
চারদিন আন্ধার!!
একটু ক্ষন বাদেই সেও মাঝির মতোই…….

ভাবনাটা মাথায় আসতেই ঝটকা দিয়ে ওঠে বসলো রহমত।

-আল্লার দোহাই লাগে ছবিরা, আমারেও লগে নিছ না! এই জীবনে আর খুনখারাবি করুম না। বান্ধন ছাইরা দে আমারে!

চিৎকার করতে করতে চোখ মেলতেই থমকে গেলো রহমত। পিট পিট করে তাকালো ওর ওপর হুমড়ি খেয়ে থাকা মুখগুলোর দিকে!

জোয়ার্দার কষাই পানের পিক ফেলে বললো,
-লও মিয়া, ওইট্যা হাডা দেও,,ওসি সাব হেই কহন থিক্যা বইয়া রইছে ইস্টিটমিন্ট না কিয়ে জানি খত লওনের লিগ্গা।
মারছো বালা কতা, নিজে লিগ্গা আলেদা একখান নাও লইয়া যাইবানা বলদা?

জোয়ার্দারের কথা শুনে সবাই হ্যা হ্যা করে হেসে ওঠলো। এ যেনো আস্ত একটা রসিকতা হলো!

আস্তে করে ওঠে বসলো রহমত। ওসি সাহেবকে খুজে পেয়ে ওদিকে হাটা দিলো। পেছন থেকে পানের পিক ফেলে কষাই জোয়ার্দার রসিকতার ছলে বলে ওঠলো আবার,

-“কি মিয়া এই যাত্রায় কি শিখলা?”

– “কষাই হারাজীবন কষাই ই থাহে।
এর কতায় বালা মাইনষেরে না মাইরা এরেই মারন লাগবো। আর তহন নিজের বাঁচনের নাও কিনোনের ট্যাহাডাও কষাইয়েত্তেই নিয়াা রাহন লাগবো আগেই।”

রহমত আর দাড়ালোনা,

যা বলার বলে এসেছে, এখন নিজের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত তো নিজেকেই করতে হবে!

 

 

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

৩৩ নং মাথা

Kazi Mohammad Arafat Rahaman

ভারতীয় ক্রিকেটের দুই নায়ক

আবেগ বিষাদের কথাকার লেখক কাজুওর নোবেল জয়

Maksuda Akter

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy