অসম্ভব সুন্দর শহর আজ জনশূন্য দ্বীপ ! কিন্তু কেন ?

Please log in or register to like posts.
News

ব্রাদার আইল্যান্ড নিউ ইয়র্কের রহস্যময় একটি দ্বীপ যেটি ভূতের দ্বীপ নামেও পরিচিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত। শহর থেকে বিচ্ছিন্ন এই দ্বীপটির নাম হচ্ছে উত্তর ব্রাদার আইল্যান্ড (North Brother Island)। এর আরেক নাম এবানডন্ড আইল্যান্ড (Abandoned Island)।

এটির ভূতের দ্বীপ নামের পেছনে রয়েছে রহস্যময় ভয়ঙ্কর সব কর্মকান্ড। যার কোন সমাধানতো নেইই বরং ঘটনার সত্যতা অনুধাবন করতে যারা গিয়েছিল তারাও বিভিন্ন পরিস্থিতির শিকার হয়েছে এবং অনেকে হারিয়ে গেছে চিরতরে এর ঘন সবুজ অরণ্যে অথবা মানুষখেকো পাথুরে গুহায় ! অনেকের মতে এর ঘন সবুজ অরণ্যে দিনের বেলাতেও ভয়ঙ্কর অন্ধকার বিরাজ করে। এর মাঝে বনের ভেতরে ওৎ পেতে হাঃ করে থাকে অন্ধকার পাথুরে গুহা ! কোন মানুষ যদি পথ ভুল করে গুহায় ঢুকে পড়ে তবে বন্ধ হয়ে যায় গুহার মুখ !

এছাড়াও রাতের অন্ধকারে অশরীরিদের চলাফেরা এবং সারারাত থেকে থেকে কান্নার আওয়াজ ! বনের যেখানে সেখানে যখন তখন জ্বলে ওঠে আগুন ! কিন্তু আগুনের উৎস কি বা কোথা থেকে আসে কেউ জানেনা !

যারা এই দ্বীপ ছেড়ে পালিয়ে এসেছিল তাদের মুখ থেকে শোনা যেত ভয়ংকর সব ঘটনার বর্ণনা। অনেকে আবার অশুভ আত্মার ভয়ানক সব কর্মকাণ্ডের কথা বলেন যাতে মানুষের ভয় আরো বেড়ে যায়। এক সময়  ব্রাদার আইল্যান্ড স্থায়ীভাবে প্রেতের দ্বীপ বলে পরিচিত পায়। এক হেরোইন আসক্ত ব্যক্তির কথায়, চিকিৎসা চলাকালীন অনেক ভয়ানক সব ঘটনার স্বাক্ষী তিনি। সে বর্ণনা করে, রাত্রিকালীন মৃত মানুষের চলাফেরা এবং রাতভর থাকে তাদের কান্নার আওয়াজ। এসব ঘটনা তিনি নিজে দেখেছেন। দ্বীপের আনাচে-কানাচে জ্বলতে দেখেছেন আগুন। এই দ্বীপে ঢুকলে হঠাৎ নেমে আসত অন্ধকার। সেই অন্ধকার পেরিয়ে দ্বীপে চলাচলের রাস্তা খুঁজে পাওয়া ছিল মুশকিল। ফলে অনেকেই রাস্তা ভুল করে ক্লান্ত হয়ে ঢুকে পড়ত পাথুরে গুহায়। আর পাথুরে গুহাগুলো যেন এই সুযোগের অপেক্ষাতেই থাকত এবং অন্ধকারেই মুখ খুলে বসে থাকত। আর যখন কেউ এ গুহায় ঢুকে পড়ত তখনই বন্ধ হয়ে যেত গুহার মুখ! এভাবে নাকি অনেকেরই আর কোন সন্ধান মেলেনি আবার অনেকে কিকরে যেন ফিরেও এসেছিল তার মতন। ফলে এই দ্বীপের ভয়ঙ্কর বিভৎস রুপ আরো চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় মানুষের মুখে ও মনে।

এই দ্বীপকে ঘিরে নানা ধরনের কল্প কাহিনী প্রচলিত আছে। এই দ্বীপেও এক সময় মানুষ বসবাস করত কিন্তু এমন কী ঘটেছিল যে কারণে এই দ্বীপের মানুষজন দ্বীপ ছেড়ে চলে যায় অথবা যেতে বাধ্য হয়? অনেকের মতে এই দ্বীপে মহামারির কারণে জনমানব শূন্য হয়ে গিয়েছিল। কেউ কেউ আবার বলেন অদৃশ্য আত্মারা ঘুরে বেড়ায় এই দ্বীপে। তাদের উৎপাতের কারণে মানুষ এই দ্বীপ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। আবার অনেকের মতে সামুদ্রিক কোন ভয়ঙ্কর ঝড়ের কবলে পরে উধাও হয়ে গেছে দ্বীপবাসী। আসলে এর সঠিক উত্তর বা ব্যাখ্যা জানা নেই কারো ! তবে হ্যাঁ কিছু একটা অবশ্যই ঘটেছিল যা ঘটার কথা ছিলনা ! হয়ত যার জন্যই মানুষ নিজের জীবন বাঁচাতে তাদের বসত বাড়ি ছেড়েই পালিয়েছিল !

গবেষণায় জানা গেছে এই দ্বীপের বয়স খুব বেশী নয়। ১৮৮৫ সালের দিকে এখানে মানুষের বসবাস ছিল। তখন নিউইয়র্কে সংক্রামক এক রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে চিকিৎসার যথাযথ উপায় না পেয়ে রোগীকে সরিয়ে এখানে আনা হত। এই দ্বীপে তখন গড়ে তোলা হয় একটি হাসপাতাল যেখানে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করা হত। অনেক রোগী চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে মারা যায়, আর তাদের আত্মারাই নাকি এই দ্বীপটিকে অভিশপ্ত করে রাখে যুগ যুগ ধরে। তারপর থেকেই ব্রাদার আইল্যান্ড সম্পর্কে মানুষের কৌতূহল, ভয়, ভীতি বেড়ে যায়। আর এখনও এই দ্বীপটিকে সবাই এড়িয়ে চলে এবং বিশ্বাস করে যে এখানে নিশ্চিত জীবননাশের সঙ্কা আছে।

মার্কিনীরা এই দ্বীপটিকে একটি মৃত্যুপুরী দ্বীপ মনে করেন এবং আতঙ্কে এখানে মানুষের আনাগোনা প্রায় একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। তাদের ধারণা নির্জনতায় লুকিয়ে থাকা আত্মারা রাতের আঁধারে মানুষের প্রাণ হরনের নেশায় মেতে ওঠে ! ফলে মানুষ এই দ্বীপ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয় এবং এক সময় হাসপাতালটিও মানুষশূন্য হয়ে পড়ে !

এই দ্বীপ সম্পর্কে মানুষের ভীতি দূর করার যার জন্যে ১৯৫০ সালের দিকে এই দ্বীপে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্র তৈরী করা হয় মাদকাসক্তদের  চিকিৎসা ব্যাবস্থার লক্ষ্যে। কিন্তু অদ্ভূত ব্যাপার হল দ্বীপে আনার পর রোগীরা ভয়ংকর সব আচরণ করত যে ভয়ে অনেক চিকিৎসক পালিয়ে যান এই দ্বীপ ছেড়ে। ফলে আবারও পরিত্যক্ত হয়ে যায় দ্বীপটি এবং ধীরে ধীরে আবারো মানব শূন্য হয়ে পড়ে এই ব্রাদার আইল্যান্ড দ্বীপ।

১৯৬৩ সালের দিকে মানুষজন সম্পূর্ণভাবে ব্রাদার আইল্যান্ড ছেড়ে চলে যায়। কিন্তু তাদের বসতবাড়ি, আসবাবপত্র সব আগের মত পড়ে থাকে ! তারপর ১৯৭০ সালের দিকে দ্বীপটি বিক্রির জন্য খুব চেষ্টা করা হয়। কিন্তু লোহর্ষক ভূতুড়ে দ্বীপটি কিনতে কেউ আগ্রহ প্রকাশ না করা বেশ কয়েক দশক এটি এভাবে পরিত্যক্ত পড়ে থাকে। কিন্তু ২০১০ সালে ব্রাদার আইল্যান্ড হঠাৎ করেই আবার আলোচনার শীর্ষে চলে আসে। এক পর্যটক পথ ভুলে এই দ্বীপের খুব কাছে চলে যান। তখন তিনি পরিত্যাক্ত এই দ্বীপের এমন কিছু অদ্ভূতুড়ে বিষয় দেখতে পান এবং একের পর এক রোমহর্ষক ছবি তুলে ফেলেন পরবর্তীতে যা ব্যাপক সাড়া ফেলে জনমানবে। যা আবারো মানুষকে মনে করিয়ে দেয় সেই লোককথা। তবে আসলেই সেগুলো শুধুমাত্র লোককথাই ছিলনা কিছুতো ঘটছে সেখানে !

অনেকের মতে ব্রাদার আইল্যান্ড দ্বীপের ক্ষুধা আবার জেগে উঠেছে মানুষের রক্ত মাংসের নেশায় !

তথ্যসুত্র : অনলাইন

Reactions

0
0
0
0
0
0
Already reacted for this post.

Reactions

Nobody liked ?