লাস্ট বয় থেকে সেরা বিজ্ঞানী

Please log in or register to like posts.
News

আইজাক নিউটন

গ্রামের বাইরে শীতের বিকেলে স্যাঁতসেঁতে অন্ধকার নামে। সেই অন্ধকারে একটি ছেলে চেষ্টা করছে ঘুড়ি ওড়াতে। কাঠি আর কাপড়ের তৈরি ঘুড়ি- ছেঁড়া কাপড় জোড়া দিয়ে দিয়ে তার আবার বিড়াট লম্বা লেজ। শুধু তাই না, সেই লেজের আগায় ঝোলানো ছোট্ট একটি আলো।

ছেলেটি ভাবছে, যদি ঘুড়ি আকাশে ওড়ে, তখন আালো দেখে সবাই ভাববে,বুঝি এটি একটি নতুন তারাই উঠল আকাশে। কেউ হয়তো ভাববে এটি রোজকেয়ামতের পূর্বলক্ষণ। ছেলেটি ভাবে আর তার ঠোটের কোনায় দুষ্ট হাসি খেলে যায়।
কিন্তু সে ঘুড়ি কি আকাশে ওড়ে ? আলোর ভারে লেজ তার পড়ছে ঝুলে। যতবারই সুতা ধরে টানে, ততবারই ঘুড়িটা গোত্তা খেয়ে মাটিতে পড়ে। শেষ পর্যন্ত তাকে হাল ছেড়ে দিতে হয়।
কথাটা কেমন করে গ্রামের আরো দুচারজন লোকের কানে গিয়ে ওঠে। যারা শোনে তারা বলাবলি করে : যেমন ব্যাটা আহাম্মক আমাদের বোকা বানাতে গিয়েছিল, তেমনি তার উচিত ফল হয়েছে। মূখটা এসব পাগলামি রেখে মাস্টারের কথমতো স্কুলের পড়া পড়লেই তো হতো।

এসব কথা ছেলেটি বড় হয়ে নিজেই তার আত্মজীবনীতে লিখে গেছে। বিলেতের স্কিলিংটনক বলে একটি জায়গায় গ্রামের স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীতে সে ছিল লাস্ট বয়। মাস্টাররা দিয়েছিল এর মাথায় গোবর ছাড়া কিছু নাই। সহপাঠিরা তাকে নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করত।

কিন্ত বড় হয়ে সেই ছেলেটিই এমন সব আবিষ্কার করে বসর- যা দেখে দুনিয়ার সব বড় বড় বিজ্ঞানীরা থ’ খেয়ে গেলেন। তাকে গুরু মানলেন। তাকে করা হল বিলেতের পার্লামেন্টর সদস্য, সম্রাট তাকে ভূষিত করলেন ‘নাইট’ বা ‘স্যার’ উপাধি দিয়ে। পন্ডিতদের সেরা পতিষ্ঠান রয়্যাল সোসাইটি তাকে সভাপতি newton110.jpg

নির্বাচিত করলেন। সেই ছেলেটির নাম ছিল আইজাক নিউটন

নিউটনের জন্ম হয়েছিল ১৬৪২ সালের ২৫শে ডিসেম্বর। বাপ ছিলেন কৃষক, নিউটন জন্মাবার আগেই তিনি মারা যান। গাঁয়ের স্কুলেই ছোটবেলায় পড়াশোনা,কিন্তু পড়ার চেয়ে সূর্যঘড়ি, জলঘড়ি, এমনিতরো কলকব্জা নিয়ে নাড়াচাড়ার ঝোকেই তার বেশি দেখা যেত।

যথন তার বয়স ১৬, তখন একদিন বিলেতে ভীষন ঝড় হয়। সে কি প্রচন্ড হাওয়ার দাপট। বিলেতের ইতিহাসে এমন ঝড় খুব কমই হয়েছে। নিউটনের তখন একটি শখ হলো হাওয়ার বেগ মাপার। হাওয়ার দাপটা যখন বেশি তখন সে বাইরে বেরিয়ে এলেন। এবার যেদিকে হাওয়ার প্রবাহ সেদিকে দিলেন এক লাফ এবং যেখানে পড়লো সেখানে একটি দাগ দিলেন, তারপর ঠিক উল্টো দিকে দিলেন আরেকটা লাফ আর মাটিতে দিলেন আরএকটা দাগ। পাড়া-প্রতিবেশিরা জানালার ফাঁকা দিয়ে দেখলো এই পাগলের অবাক কান্ড।

আত্মীয়-¯^জন ভাবলো কৃষকের ছেলে কৃষকই হবে। কিন্ত ছেলের ঝোঁক বিজ্ঞানের বই যোগাড় আর অদ্ভুত অদ্ভুত পরীক্ষা করা। একদিন নিউটনকে পাঠানো হলো বাজারে কিছু ডিম, কয়কটা ভেড়া, আরো অন্যান কিছু জিনিস বিক্রি করার জন্য
কিন্তু তিনি না গিয়ে আরেকজনকে পাাঠালেন, আর সে না গিয়ে ঝপের ভিতরে চুপ করে বসে অংক কষতে লাগলো। এই নিয়ে গ্রামের সবাই তাকে বেশি বেশি বলতে লাগলো তখন তার চাচা তাকে বাচালো, তাকে কলেজে পড়ানোর কথা বলল এবং কলেজ পড়ানোর জন্য তাকে কেমব্রিজ পাঠানো হলো। সত্য সত্য কলেজে গিয়ে খুব ভাল অংক কষতে লাগলো । প্রথম বছরেই তিনি গনিতের এক নতুন দিক ক্যালকুলাস আবিষ্কার করে ফেললেন। লিখে রাখলেন সে সব। কিন্তু কাউকে বললেন না কিছুই।

Reactions

0
0
0
0
0
0
Already reacted for this post.

Reactions

Nobody liked ?