Now Reading
কিভাবে ১০০ বছর বা তার বেশী বছর পর্যন্ত বাঁচা যায়



কিভাবে ১০০ বছর বা তার বেশী বছর পর্যন্ত বাঁচা যায়

১০০ বছর বাঁচা বর্তমান যুগের একটি চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার কারন বাংলাদেশের বিশেষ করে ঢাকার যে অবস্থা গাড়ির ধোঁয়া, বিষাক্ত ময়লাযুক্ত খাবারপানি, খাবারে ভেজাল ইত্যাদী মানুষের আয়ুকে অনেক কমিয়ে দিয়েছে।

তবুও আমি আপনাদের সামনে কিছু টিপস দিলাম যা মেনে চললে আপনি হয়তবা ১০০ বছর বাঁচতেও পারেন।

১. প্রথমতঃ আপনার মুভমেন্ট বাড়ান। প্রতিদিন সকালে অথবা বিকালে ১ ঘন্টা করে হাঁটুন;

হাঁটার নিয়ম হলো আপনি একটি ট্রাউজার পরুন, ধুলা-বালি বা গাঁড়ির ধোঁয়ার জন্য মাস্ক পড়তে পারেন, একটি কেইডস পড়লে ভাল হয় আর হাটাহাটির জন্য টি-শার্ট পড়লে ভাল। পারতপক্ষে খালি জায়যায় হাটতে বেড়িয়ে যান। প্রথম ৩০ মিনিট হাটার গতি কম রাখুন এবং পরবর্তী ৩০ মিনিট একটু জোড়ে হাটুন।

২. দ্বিতীয়তঃ সব সময় হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করুন। আপনি যদি কিছু সময় হাসতে পারেন তাহলে বলতে পারেন আপনার ব্যায়াম কিছুটা হয়ে গেল।

৩. তৃতীয়তঃ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে গিয়ে জামাতের সাথে আদায় করুন এবং মনে রাখবেন নামাজ অতি উত্তম ব্যায়াম এবং এটা বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষিত। শুধু ফরজ নামাজ না পরে সব নামাজ পরুন যেমন ফরজ, সুন্নত এবং পারলে নফলও পড়তে পারেন।

৪. কোন বিষয়ে টেনশন করবেন না কারন মানুষ যখন টেনশন করে বা অতিরিক্ত রাগ হয় তখন শরীরের এবং মনের উপর এর বিরুপ প্রভাব পরে। অনেক সময় সংসার জীবনেও নেমে আছে অশান্তির কালো ছায়া।জীবনে প্রয়োজন নেই এই রকম চাপ থেকে নিজেকে দুরে থাকুন।

৪. বিয়ের বয়স হয়ে গেলে এবং নিজে স্ববলম্বি হলে বিয়ে করে ফেলুন। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, একজন বিবাহিত মানুষ শিংহের চেয়েও দীর্ঘ সময় বেশী বেঁচে থাকে।

৫. ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখুন। ওজন বেশী হলে সব কাজগুলো কষ্টকর হয়ে যায় যেমন বসলে আর উঠতে ইচ্ছা করেনা, কেমন যেন শরীর ভারী ভারী লাগে।

৬. ধুমপান ও মদ খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা এখনই পরিহার করুন এবং অন্যকে এর থেকে বিরত থাকতে উপদেশ দেন। আপনার পাশে কেউ ধুমপান করলে তার কাছ থেকে সরে দাড়ান কারন অন্যের সিগারেটের ধোঁয়া নেওয়া আর নিজে খাওয়া অনেকটা সমান কথা।

৭. বিশুদ্ধ পানির জন্য সরাসরি টেপের পানি না খেয়ে ফিল্টারের বিশুদ্ধ পানি পান করুন।

পানি ফুটিয়ে ঠান্ডা করে ফিল্টারে ভরেও খেতে পারেন।

৮. মাংস জাতীয় খাবার যেমন গরুর মাংশ, খাশির মাংশ কম খান এবং তার পরিবর্তে  ফল-মুল ও সবজী বেশী খান। চর্বিযুক্ত খাবার একটু কম করে খান এবং বিশুদ্দ পানি একটু বেশী করে পান করুন। পানি কুসুম গরম করে লেবু দিয়ে খেলে ভাল কাজ হয়। আমরা যেটা করি তা হলো সকালে কম খাই কিন্তু আসলে সকালেই বেশী খাওয়া দরকার আর একই রকমভাবে রাতে কম খাওয়া দরকার। অনেকে রাতে রুটি খায় আবার অনেকে রাতে একটু বেশী খায় যা উচিৎ নয়। কারন রাতে খাবার পরই আমরা বেশীরভাগ সময়ে ঘুমাতে যাই।ফলে কোন মুভমেন্ট না হওয়ার কারনে খাবার হজম হয়না।

৯. যাদের বয়স কম তারা জিমেও যেতে পারেন। কারন আমাদের প্রতিটি মাশল গড়া যায় এবং এর জন্য আপনি ইন্সট্রাকটরের পরামর্শ অনুযায়ী জিমেও যেতে পারেন। তবে যারা জিমে যাবেন তারা জিমে যাওয়া কখনও ছাড়বেন না। অথবা যদি জিমে যাওয়া কঠিন মনে হয় তাহলে বাসায় একটি ব্যায়াম করার সাইকেল কিনে অথবা রানিং মেশিন কিনে বাসায় বসেই ব্যায়াম করতে পারেন।

১০. মনের আনন্দের জন্য আপনি আপনার বন্ধুদের সাথে কথা বলুন, হাসি ঠাট্টা করতে পারেন।

১১. অবসর সময়ে আপনি ব্রিজ, দাবা, কেরাম ইত্যাদী খেলতে পারেন যা আপনার মনকে প্রফুল্ল রাখবে।

১২. সমাজের সবার সাথে ভাল ব্যাবহার করতে হবে এবং আচার-আচরনে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে যেমন সময়ের কাজ সময়ে করতে হবে, হঠাৎ রাগ করা যাবে না, বড়দের শ্রদ্ধা করতে হবে এবং ছোটদের ভালবাসতে হবে তবেই আপনি হবেন একজন দ্বায়িত্ববান মানুষ। নিজেকে আপডেট রাখতে পেপার পড়া এবং বাসায় বসে টিভি দেখা ছাড়াও বর্তমান সকল বিষয়ে সাধারন জ্ঞান থাকতে হবে। এজন্য আপনি প্রতি মাসের প্রফেসরস কারেন্ট এফেয়ার্স কিনতে পারেন।

১৩. মারামারি, ঝগড়াঝাটি থেকে নিজেকে ১০০ হাত দুরে রাখুন কারন ঝগড়া এবং মারামারি টেনশনের উৎস।

১৪. সমসময় একটি কাজের মধ্যে থাকতে চেষ্টা করুন তাহলে আপনার সময়টা ‍বৃথা যাবে না। কারন সময় হচ্ছে বুলেটের মত যা একবার গেলে আর ফেরত আসেনা। তাই একে ১০০% কাজে লাগাতে হবে।

১৫. আমরা এখান থেকে সামান্য কিছু পথ যেতেই রিক্সা ব্যাবহার করি কিন্তু আমরা যদি রিক্সা ব্যাবহার না করে হেটেই যেতে পারি সেক্ষেত্রে আমাদের কিছুটা ব্যায়ামও হবে এবং শপিংও হয়ে যায়।

১৬. মোবাইলে দীর্ঘ সময় কথা বলা ঠিক না কারন মোবাইলের তরঙ্গ মানুষের ব্রেনে প্রতিনিয়ত আঘাত করছে তাই অবশ্যই এর পার্শ প্রতিক্রিয়া আছে। তাই এখন থেকেই সাবধান হোন। মোবাইলে কম কথা বলুন মানে প্রয়োজনীয় কথা বলে রেখে দিন।

১৭. যাদের বয়স একটু বেশী তাদের সম্পূর্ণ বডি চেকআপ করাটা জরুরী যেমন ব্লাড টেষ্ট করে দেখা দরকার যে ব্লাডের উপকরণের মাত্রা ঠিক আছে কিনা, কিডনি ঠিক আছে কিনা, ব্লাড পেশার আছে কিনা, ডায়বেটিস হয়েছে কিনা নাকি বর্ডার লাইনে আছে এবং হার্ট ঠিক আছে কিনা যদি কোন সমস্যা মনে হয় তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।article-0-19EC6F36000005DC-112_306x423.jpg

About The Author
Muhammad Uddin
Muhammad Uddin
I am Md. Musleh Uddin, I am now doing job and part time article writinging footprint, I love to work with footprint
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment