Now Reading
বন্ধু



বন্ধু

Part – 1

মাঠের মধ্যে অনেখন ধরে বসে আছে পারভেয ও শামিম। হঠাৎ দুইজনের পিঠের ওপর একসাথে দুই হাত দিয়ে থাপ্পর দিল তুষার। পারভেয আস্তে আস্তে তুষার কে বলল যে তার মন ভালো নেই ফাইযলামি করিসনা। কেন? কি হইসে? জানতে চায় তুষার। পারভেয হটাত করেই তুষার কে জরিয়ে ধরে কেদে দেয়। কান্দস কেন?? কি হইসে খুইলা ক।পারভেয বলল যে রাহেলার বিয়ে ঠিক হয়ে গেসে। তুষার যেন আকাশ থেকে পরল। এরপর তুষার নিজেকে সাম্লে নিয়ে বলল যে এতো খুশির সংবাদ। মিষ্টি কই? ধুর বেটা কান্দস কেন? বিয়া ঠিক হইসে আর আকজনের সাথে বলে উঠল শামিম। ও আচ্ছা। এইডা কোন সমস্যা হইল। আমি তোর সমস্যার সমাধান করে দিতে পারি,কিন্তু এক সর্তে। কি শর্ত জিজ্ঞাসা করলো পারভেয। তুষার বলল গ্রিল আর নান খাউয়াতে হবে ।বিয়ে ঠিক হউয়া মানেইত বিয়ে হয়ে গেলনা। রাহেলার থেকে ছেলের নাম্বারটা আন এর পর জা করার আমি করে দিব। তবে না খাউয়ালে তোর খবর আসে কিন্তু।

তুষার এর এ কথা শুনে পারভেয এর কষ্ট যেন এক মুহূর্তেই হারিয়া গেলো। তুষার এর মধ্যে যে কি জাদু আছে ভেবেই পায়না পারভেয, যখন ই কোন বন্ধু কোন সমস্যায় পরে ও খুব সহজেই তার সমাধান করে দিতে পারে।তারা তিনজন ছোটবেলা থেকে একসাথে বড় হয়েছে। তাদের মধ্যে সবসময় জগ্রা,মারামারি,শইতানি চলতেই থাকে। এখন তারা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এ পড়ে। শামিম ও পারভেয দুজনেই প্রেমনিলাতে জরিয়ে আছে কিন্তু তুষার এখনও ঐ জায়গাতে পা পরেনি।পরবেইবা কেমন করে তুষার একটু লাজুক প্রকিতির ও কঞ্জুস টাইপের।তাই আজ পর্যন্ত তার কোন গার্লফ্রেন্ড জুটে নাই। এই নিয়ে তাকে কটুর কথাউ সুন্তে হয়। কিন্তু সে তা এক কান দিয়ে ঢুকায় আর অন্য কান দিয়ে বের করে দেয়। পারভেয এর গার্লফ্রেন্ড এর নাম রাহেলা আর শামিম এর গার্লফ্রেন্ড এর নাম নিতু। তারা একসাথে যত জায়গাতে জায় তুষার কে সঙ্গে নিয়ে যায়।

একবার ক্লাস শেষে তুষার ফ্রেন্ডদের জন্য অপেক্ষা করছে, এমন সময় রিক্সা করে কলেজ এ পড়ুয়া একটি মেয়েকে দেখে তার প্রেমে পড়ে জায়। মেয়েটি তাদের ক্যাম্পাস এর কলেজ সেকশন এর ছাত্রী। এ কথা যেদিন পারভের আর শামিমকে তুষার বলল তারা তখন খুব অবাক হল এবং বলল কি মামা তলে তলে এতদূর?? ডুবে ডুবে জল খাউয়া হচ্ছে আর আমারা টেরই পেলামনা!! মেয়েটাকে কবে দেখাবি বল?? দেখাতে পারি তবে এক শর্তে বলল তুশার।কি শর্ত জিজ্ঞাসা করলো অরা দুজন। তোরা মেয়েটাকে দেখটে পারবি কিন্তু কিছু বলতে পারবিনা। ওকে? পারভেয খানিকটা রেগে গিয়ে বলল আটা কেমন কথা! কথা না বললে প্রেম করবি কিভাবে?? কয়েকদিন যাক তারপর বল্ব,আগেত দেখ তোদের পছন্দ হয় কিনা। শামিম একটু মুচকি হেঁসে বলল প্রেম কি তুই করবি নাকি আমরা করমু কোনডা??…………।। পরের দিন তুষার, শামিম ও পারভেয কে নিয়ে ঠিক ওই জায়গাতাতে দাড়ায় যেখানে সে মেয়েটিকে দেখেছিল। এর কিছুক্ষণ পরেই মেয়েটি কলেজ থেকে বাসায়র দিকে যাচ্ছিল। তার দুই বন্ধু প্লান করে রাখছিল যে মেয়েটিকে গিয়ে বলেদিবে তুষার তাকে ভালোবাসে। কিন্তু তুষার বুজতে পেরে তাদের দুই হাত দিয়ে টেনে ধরে থাকে। প্রায় এক বছর হতে চলল তবুও তুষার বলার সাহস পাইনি যে সে মেয়েটাকে ভালোবাসে………।।

রাহেলাকে দিয়ে কল করিয়ে ওই ছেলেটাকে একটি রেস্তরায় ডেকে আনে তুষার। তারপর ছেলেটাকে তারা সব কিছু বুজিয়ে বলে তারা সবাই। তারপর ছেলেটি সব শুনে বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেয়। তখন পারভেয খুশীতে আত্মহারা হয়ে তুষারকে জরিয়ে ধরে কেদে দেয়। ওই তোর সমস্যা কিরে?? খুশিতেও কান্দস দুঃখেও কান্দস?? পাবনাতে কি বুকিং দিমু নাকি?? মুচকি হেঁসে বলে তুষার। চোখ মুছে পারভেয বলে ওই আমি পাগল……………।।

Part – 2

আজকে শামিম ও পারভেয খুব খুশি। এর কারন ও অবশ্য একটা আছে, আজ তাদের কঞ্জুস ফ্রেন্ড এর জন্মদিন। অনেকদিন পর তার থেকে কিছু খাউয়া যাবে। পার্টি দিতে হবে।সুধু সুধু আমার কত গুলো টাকা খরচ। ইস!!! আমার জন্মদিনটা যদি লিপ ইয়ার এ হত তাহলে ভালো হত,মনে মনে ভাবছে তুষার। ঐদিকে পারভেয ও শামিম প্লান করছে যে রাহেলা আর নিতু কে দিয়ে ঐ মেয়ের সাথে কথা বলাবে। প্লান অনুযায়ী তারা সবাই কলেজ ছুটি হউয়ার সময় দাঁড়াল। তারা একটু দুরেই ছিল কারন,প্রতিদিনের নেয় আজকেও তুষার মেয়েটাকে দেখার জন্য ওখানে দারিয়ে ছিল। শামিম বলল ঐযে মেয়েটা আসছে তোমরা যাও গিয়ে কথা বল। নিতু এতক্ষণে মেয়েটিকে দেখল, দেখেতো কিছুক্ষণ অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়া রইল। মেয়েটাতো চলে যাচ্ছে ।তুমি যাচ্ছ না কেন?? বলল পারভেয।আর এ এই মেয়েটো আমার ফুফাটো বোন মৌ। ৪ জনের নজর ছিল এতক্ষণ ঐ মেয়েটার দিকে এখন তাদের ৩ জনের নজর নিতুর দিকে। পারভেয আর শামিম তো পারে লাফালাফি শুরু করে। আবারে তুষার এর জন্মদিনে একটা স্পেশাল সারপ্রাইজ গিফট দেয়া যাবে বলল রাহেলা। ঠিক বলছ , বলল পারভেয। তোর জন্য একটা সারপ্রাইজ গিফট আসে ফোন করে বলল পারভেয। কি গিফট জানতে চায় তুশার।উহু বলা জাবেনা তাহলেতো আর সারপ্রাইজ থাকলোনা। কালকে জন্মদিনের পার্টি তে দেখতে পাবি………।।

তুষার অনেখন ধরে বসে আছে জয় রেস্তরাঁয়। এখন পর্যন্ত একটা বন্ধুও আসেনি। তাদের সবাইকে কল দিয়েছে। সবাই আসছি বলে এক ঘণ্টা হয়ে গেলো এখন ও কেউ আসেনি। ঐদিকে দুই বন্ধু তাদের বন্ধুর জন্যে গিফট কিনতে গেছে। গিফট কেনা শেষ হতে না হতেই তুষার এর ফোন। ওরা বলল যে পাঁচ মিনিট এর মধ্যেই আসছে। ঐদিকে নিতু পৌঁছে যায় রাহেলার বাসায়। রাহেলাকে নিয়ে একসাথেই তারা জয়তে যাবার উদ্দেশে রউনা হয়।

হাঁসপাতালের চারদিকেই ভিড় করে আছে সবাই। কান্নার জন্যে কেউ ঠিক করে কথা বলতে পারছেনা। পারভেয এর বাঁচার আশংকা খুবই ক্ষীণ আর শামিম এর দুটো চোখ ই নষ্ট হয়ে গেছে। পারভেয এর জন্য প্রচুর রক্তের প্রয়োজন। পারভেয এর রক্তের গ্রুপ ও নেগেটিভ। যা কোন হাঁসপাতাল এ পাউয়া যাচ্ছে না আর শামিম এর জন্য রক্ত পাওয়া গেছে কিন্ত চোখ পাওয়া যাচে না। জয় রেস্তরাঁয় রিক্সা করে যাবার সময় পেছন থেকে একটা কার এর সাথে ধাক্কা লাগে। পাশে থাকা কিছু মানুষ তাদের ধরাধরি করে হাঁসপাতাল এ নিয়ে আসে। অবশেষে অনেখন পর রক্ত আর চোখ পাওয়া গেলো। তারপর ডাক্তারের প্রচেষ্টায় তারা দুজন ভালো হয়ে উঠল, চারপাশে প্রচুর বন্ধু, মা-বাবা, এবং আত্মীয়স্বজন । কিন্তু তাদের মাঝে শামিম আর তুষার নেই। তখন পারভেয জানতে চায় শামিম এর কি অবস্থা ? এখন একটু ভালো জানায় বন্ধুরা। তারপর পাসের রুম এ দেখতে যায় পারভেয, শামিমকে। আখানেও দেখতে পেলনা তুষারকে। কিরে তুষার কইরে?? অরেতো একবার ও দেখতে পেলামনা! পারভেয বলে যে আমার কাছে একবার ও আসলো না। তুষার কি কোন কাজে ব্যাস্ত নাকি? আমাদের কথা ভুলেগেল নাকি? এমন সময় নিতু ও রাহেলা আসে। তুষার কই জিজ্ঞাসা করে শামিম। নিতু ব্যাগ থেকে একটা চিঠি বেড় করে দেয় পারভেযকে।

চিঠিতে লেখা—

সুস্থ হওয়ার পর আমাকে না দেখে ভাবছিস যে আমি আনেক ব্যাস্ত হয়ে গেছি। এটা তোদের ভুল ধারণা । আমি তোদের মাঝে এখনও আছি। ভালো করে দেখ আমি পারভেয এর প্রতিটি রক্তকণার মাঝে আর শামিম এর চোখের মাঝে সুপ্ত অবস্থায় আছি। চিঠি পড়ে কি তোরা কান্না শুরু করছিস? একটা থাপ্পর দেমু ধইরা। কাদলে আমি খুব কষ্ট পাব। ভালো থাকিস দোস্তরা…………………।।

About The Author
Fahad Hossain
1 Comments
Leave a response

You must log in to post a comment