কেইস স্টাডি

ইংরেজি ভীতি আর নয়!

কিছুদিন আগে আমাদের এক উদ্বোধনী ক্লাসে একজন অতিথি একটা ঘটনা বর্ণনা করছিলেন এমন যে তিনি একদিন কোনো এক ফাইভ স্টার হোটেলের ফ্রন্ট ডেস্কের পাশে বসে ছিলেন। এমন সময় একজন কোরিয়ান মহিলাকে হন্তদন্ত হয়ে ফ্রন্ট ডেস্কে ছুটে এসে বলতে দেখলেন- “Camera in, door closed, me out, camera go.”
অনেকে হয়তো ইতোমধ্যেই হাসতে শুরু করেছেন। হাসুন আর যাই করুন, একবার বলুনতো এখানে মহিলাটি যা বুঝাতে চেয়েছিল তা কি আমরা সবাই বুঝিনি? আশা করি সবাই বুঝেছি এবং সেদিন ফ্রন্ট ডেস্কে বসে থাকা ব্যক্তিটিও বুঝেছিল। তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নিয়েছিল।

ভাষার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ভাবের আদান-প্রদান এবং যোগাযোগ। আমাদের আকুতি কিংবা আমাদের চাওয়াটা অন্যদেরকে বুঝাতে পারা। আমরা অনেকেই ইংরেজি বলতে ভয় পাই। এর কারণ আমরা ভালো ইংরেজি পারি না বা কম পারি। ভুল হলে মানুষে হাসাহাসি করবে এই ভয়েই মূলত আর বলতে যাই না। আসলে দেখুন ইংরেজিটা আমাদের মাতৃভাষা নয়, এখানে ভুল হবেই। ইংরেজি শুদ্ধভাবে বলতে পারার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যে বিষয়টা তা হচ্ছে ইংরেজি চর্চা এবং বলার অভ্যাস। কেউ যতই ইংরেজি জানুক না কেন, পুরো গ্রামার এবং ডিকশনারি মুখস্থ থাকলেও তার যদি ইংরেজি চর্চা বা বলার অভ্যাস না থাকে তাহলে কখনোই সে শুদ্ধভাবে ইংরেজি বলতে পারবে না। ইংরেজি বলার সময় কোথায় verb-এর past form/past participle form হবে, কোথায় s বা es, a বা an, he বা she হবে ইত্যাদি চিন্তা করার সময় থাকে না, তাই ইংরেজি বলার চর্চা বা অভ্যাস না থাকলে প্রচুর ভুল হয় এবং হওয়াটাই স্বাভাবিক। এজন্যে আমাদের ইংরেজিতে ভালো হতে হলে প্রয়োজন প্রচুর ইংরেজি চর্চা করা। অন্তত যখন যার সাথে সম্ভব তার সাথে চর্চাটা চালিয়ে যাওয়া উচিৎ। কাউকে ইংরেজি ভুল বলতে দেখলে হাসবেন না, সুন্দর ও ভদ্রভাবে ভুলটা ধরিয়ে দিয়ে শুদ্ধটা জানিয়ে দিন। একটা সময় ছিল যখন অন্যের ভুলভাল ইংরেজি দেখে আমার নিজেরও অনেক হাসি পেতো। মনে মনে বলতাম, পারে না আবার ভাব দেখাতে আসছে। কিন্তু এখন বুঝি তখন হাসাটা কিংবা মনে মনে ওমন ভাবাটা ঠিক হয়নি। তাকে বরং শ্রদ্ধা জানানো উচিৎ ছিল এজন্যে যে সে না পারুক না পারুক কিন্তু চেষ্টা করছে। তবে হ্যাঁ, ইংরেজি চর্চা করার জন্য কিন্তু কিছুটা ইংরেজি জানা অবশ্যই প্রয়োজন। কিছু না পারলে আপনি চেষ্টা করবেন কী দিয়ে? আর কেউ যদি একেবারেই ইংরেজি না পারেন তবে তারও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। কেন হতাশ হওয়ার কিছু নেই সেটা বুঝানোর জন্য কেবল একটি ঘটনা বলবো।

আমার একজন টিচার আছেন যিনি নটরডেমের ছাত্র এবং পরবর্তীতে কানাডা থেকে গ্রাজুয়েশন করেছেন। উনি যখন নটরডেমে পড়তেন তখন সেখানে উনারা চার বন্ধু অনেক ভালো করায় পেয়েছিলেন “Award For Excellence”. তো স্যারের সেই চার বন্ধুর মধ্যে একজন ছিলেন ইংরেজিতে খুব কাঁচা। এমনিতে অন্য সব সাবজেক্টে ছিলেন একশতে একশো, কিন্তু ইংরেজি পারতোও না এবং বুঝতোও না তেমন। তো নটরডেমে পড়াশোনা শেষ করার পর স্যার এবং উনার বন্ধুরা কানাডায় পড়াশোনা করতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এদিকে কানাডায় যাওয়ার ভিসা পেতে হলেতো তাদের এমবাসি ফেস করতে হবে। সেখানে ভাইভা নিবে, অনেক কিছু জিজ্ঞেস করবে এবং সব হবে ইংরেজিতে। তো উনারা তাদের ইংরেজিতে কাঁচা বন্ধুটিকে নিয়ে অনেক দুঃচিন্তায় পড়ে যান। তাকে কিছু জিজ্ঞেস করলে বুঝবেও না এবং সে অনুযায়ী উত্তরও দিতে পারবে না। তো কী করা যায়? স্যারেরা অনেক ভেবে তাদের সেই বন্ধুটিকে বলে দেয় যে এমবাসি ফেস করার সময় ভিসা অফিসার যাই জিজ্ঞেস করুক না কেন উত্তরে শুধু ‘Yes’ বলতে হবে। যেই কথা সেই কাজ। স্যারের সেই বন্ধুটি সব প্রশ্নের উত্তরে শুধু ‘Yes’ বলে যাচ্ছিল। ভিসা অফিসার প্রথমে একটু ঘাবড়িয়ে গেলেও পরে ভাবে যে নটরডেমের ছাত্র যেহেতু সে কি আর ভুল বলবে! তো তাকে ভিসা দিয়ে দেয়। এই ঘটনার সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়টি হচ্ছে এরপর। কানাডায় পড়াশোনার একবছরের মাথায় ব্যাপারটি এমন দাঁড়ালো যে স্যারের যে বন্ধুটি ইংরেজিতে একদম কাঁচা ছিল সে হয়ে যায় সবার চেয়ে দক্ষ। সেখানে স্যারদের এক স্যার বলেন যে তিনি নাকি অন্য সবার চেয়ে স্যারের সেই ইংরেজিতে কাঁচা ফ্রেন্ডটির ইংলিশই ভালো বুঝেন! এমনকি তার একসেন্টও হয়ে যায় নাকি প্রায় হুবুহু কানাডিয়ানডের মত।
ঘটনাটি লক্ষ্য করুন, এখানে স্যারের সেই ফ্রেন্ডটি আগে ইংরেজি তেমন জানতো বলেই কানাডায় যাওয়ার পর প্রতিনিয়ত চর্চা এবং শোনার কারণে সেটাই সে রপ্ত করতে পেরেছে কানাডিয়ানদের মত করেই। যে কারণে তার ইংলিশই পরবর্তিতে সেখানের মানুষজন ভালো বুঝেছে। অথচ স্বাভাবিকভাবে স্যার এবং স্যারের যে বন্ধুরা ইংরেজি ভালো পারতো তাদেরই ইংরেজি ভালো আয়ত্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা না হয়ে যে সবচেয়ে কম পারতো তারই সবচেয়ে বেশি এবং ভালোভাবে আয়ত্ত হয়েছে। এই ঘটনাটি এজন্যে বললাম যে যারা ইংরেজি কম পারেন বা একেবারেই পারেন না, তারা একটু ধৈর্য ধরে শিখতে এবং চর্চা করতে শুরু করুন। বিশ্বাস করুন, আপনিই একদিন আগে যারা ভালো করতো তাদের চেয়ে ভালো করবেন।

আরেকটি ঘটনা বলা যায়। তবে সেটিকে ঘটনা না বলে উদাহরণ বলাই ভালো হবে। যারা ডিভি লটারি পেয়ে আমেরিকায় যায় তারা কিন্তু মনে হয় না কেউ তেমন ইংরেজি শিখে যায়। কিন্তু তারা সেখানে যাওয়ার কয়েক বছরের মাঝেই খুব ভালোভাবে ইংরেজিটাকে রপ্ত করে ফেলে। এটা কেন হয় জানেন? এর কারণ হলো তারা সেখানে যাওয়ার পর প্রতিনিয়ত ইংরেজি শুনতে শুনতে এবং বলার চেষ্টা করতে করতে রপ্ত করে ফেলে। এজন্যে আমরা কতটুকু পারি বা না পারি তারচেয়ে বেশি প্রয়োজন চর্চাটা। আমার মেরিনের এক বন্ধু আছে, যার সাথে একসাথে হলে কিংবা ফোনে কথা হলে আমরা শতকরা আশি ভাগ সময়ই ইংরেজিতে স্পিকিং করি। এতে দেখা গেছে আমাদের ইংরেজি স্পিকিংটা আগের চেয়ে অনেক ফ্লুয়েন্ট (অনর্গল) হয়ে গেছে। আগে যেখানে আ আ করতেই সময় চলে যেত এখন সেখানে আ আ আর করতে হচ্ছে না। এছাড়াও আমি যখন মনে মনে কিছু চিন্তা করি বা কল্পনার কারো সাথে কিছু কথোপকথন করি তখন তা ইংরেজিতে করার চেষ্টা করি। তো এভাবে আমরা যে যতটুকুই পারি তা দিয়ে যদি চর্চা করতে শুরু করি তাহলে আশা রাখি আমরাও অনেক ফ্লুয়েন্ট হয়ে যেতে পারবো। তো চলুন আর দেরী কিসের, শুরু করে দিই ইংরেজি চর্চা। আশেপাশে কে কী বললো তাতে কান দেওয়ার দরকার নেই কিংবা লজ্জা পাওয়ারও দরকার নেই। এখন তাদের কথায় লজ্জা পেয়ে যদি ইংরেজি আয়ত্ত করতে না পারেন তবে পরে কর্মক্ষেত্রে যখন ইংরেজির প্রয়োজন হবে তখন সেখানে না পারলে সে লজ্জা রাখবেন কোথায়?

 

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

বাঙ্গালীর হুজুগেপনাঃ ব্লু হোয়েল

Kazi Mohammad Arafat Rahaman

মহা মূল্যবান ক্রিপটোকারেন্সী বিটকয়েন যা স্বর্ণের চেয়েও দামী।

Md Salman Arefin Shimun

আমি পতিতা বলছি । পর্ব ১ম

Rohit Khan fzs

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: