অন্যান্য (U P) কেইস স্টাডি

একটি মেয়ের গুনাবলী এবং বিবাহ সম্পর্কে মানুষের বর্তমান ধারনা

বিয়ে আসলে  একটি মানুয়ের ভাগ্য নির্ধারিত একটি বিষয়। অনেকে বিয়ে করে সম্পত্তির লোভে আবার অনেকে প্রেম-ভালবাসা করে নিজে নিজেই কাজী অফিসে গেয়ে বিয়ে করে ফেলে । শুনতে হাস্যকর হলেও ঘটনাটা সত্য এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই।

একটি মেয়ের কোন কোন গুনাবলী দেখে আপনি মেয়েটিকে বিয়ে করতে পারেন যেমন মেয়েটি সুন্দর কিনা, আচার-ব্যাবহার ভাল কিনা। কম কথা বলে লাজুক স্বভাবের মেয়ে মেয়ে কি না । কিন্তু একটি মেয়ে খুব বেশী সুন্দরী হলেও তার আচার-ব্যাবহার ভাল নাও হতে পারে। আবার একটি কুৎশিত মেয়ের স্বভাব চরিত্র অনেক ভাল হতে পারে। কিন্তু ভুলেও আপনি কুৎশিত মেয়েকে বিয়ে করবেন না এটাই স্বাভাবিক কারন কুৎশিত মেয়ে তো আপনার ভালই লাগে না, তাহলে কেন আপনি বিয়ে করবেন? বিয়ে তো আর খেলা না। আপনার হয়ত ভাল লাগে খুব সুন্দরী না হলেও মোটামুটি মুখের গঠন ভাল মানে মোটামুটি সুন্দর এবং স্লিম এবং আচার ব্যাবহার ভাল এমন একটি মেয়ে। আর আচার ব্যাবহার কিছুটা  খারাপ বা দুষ্ট প্রকৃতির হলেও বিয়ের পরে তা পরিবর্তন করে নেওয়া সম্ভব।

একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার না করে পারলাম না। আমি একজন লোককে চিনি ‍যিনি তার ছেলেকে বিয়ে দিয়েছিলেন মেয়ের সম্পত্তি দেখে অর্থ্যাৎ মেয়ের পাঁচ তলা বাড়ি আছে। কিন্তু লোকটি মেয়েটিকে দেখেই নাই। সুধু ছবি দেখছে। ছেলে বেকার বা কম বেতনের চাকুরী করে ৫০০০ টাকা বেতন পায়, তার মানে ছেলে হবে ঘর জামাই । আবার ছেলেটি বোকা সোকা টাইপের তথ্যাৎ কিছুই বুঝেনা না। সে না  দেখল মেয়ে না দেখল বংশ পরিচয় শুধু জানলো মেয়ের ৫ তলা একটি বাড়ি আছে।  ফ্লাটের লোভে তড়িঘরি করে বিয়ে করে ফেলল। আরো একটি জিনিস মেয়ের শারিরীক গঠনও ভাল না মানে রোগা হালকা পাতলা অসুস্থ মেয়ে যা হোক মেয়েটি আবার জব ও করে ৪০০০০ টাকা বেতন পায়। সে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াশুনা করেছে। যা শুনে ছেলের বাবা তো আরো আগ্রহী। কিন্তু যা আসলে দেখা দরকার তা নাদেখেই অনেকটা জোর করে বিয়ে দিয়ে দিলো। যা হোক  বিয়ের পর শুরু হলো আসল সমস্যা, সংসারে অশান্তী কারন ছেলে আর মেয়ের মধ্যে কোন ভাবেই মিলে না। আসলে মেয়ে কথা বলে অন্য ছেলের সাথে মানে তার আগের বয় ফ্রেন্ড এর সাথে জামাইকে পাত্তা দেয় না। রাত বারোটা বাজেলে শুরু হয় কথা আর কথা সেই কথা যেন আর থামে না। বৃষ্টির মত চলতেই থাকে।  প্রতিদিন এমন ঘটনা দেখতে দেখতে ছেলের মেজাজ যায় বিগড়ে গভীর রাতে দেয় মেয়ের বুকে লাথ্থি আর যা খেয়ে মেয়ে লাফ ‍দিয়ে ভাগে। দুই সংসারের মাঝে শুরু হয় ভয়ংকর সমস্যা। ছেলেপক্ষ আর মেয়ে পক্ষের লাখ লাখ টাকা খরচ হওয়ার পাশাপাশি টেনশনে দুই পরিবারের কপালে ভাঁজ পরে। ছেলে মেয়ে কাঁদলে আবার পরিবারের লোকরা ছেলে মেয়েকে বুঝায় যাতে তারা আবার নতুন করে সংসার শুরু করে। আবার কেউ কেউ বলে তোমাকে আবার ভাল দেখে বিয়ে দিয়ে দিব। এত লাইফ রিস্ক আছে ডিভোর্স হওয়া ভাল। বাস্তবে আসলে তাই হয় অনেকদিন চোখের আঁধারে থাকতে থাকতে মনের আঁধারে চলে যায় আর ফিরে আসে না।

এই রকম ডিভোর্সের ঘটনা আমাদের দেশে প্রতিনিয়তই ঘটছে। এই ধরনের ঘটনাকে রুখতে হবে। কিন্তু কিভাবে? ছেলের বাবাদের আগে থেকেই সতর্ক হতে হবে। বিয়ের আগে ছেলেকে উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে এবং ছেলে ভাল চাকুরী বা ব্যাবসা না করা পর্যন্ত বিয়ে দেওয়া ঠিক না । কারন শুধু বিয়ে করলেই হবে না বিয়ে করতে হলে ছেলের হাতে টাকা থাকতে হবে অথবা অভিভাবকদের টাকা দিতে হবে। বাবার সাথে একসাথে থাকতে  না পারলে অথ্যাঁৎ বাসা ছোট হলে আলাদা বাসা ভাড়া নিয়ে মেয়েকে উঠিয়ে নিয়ে আসতে হবে।

 

কোন অবস্থায়ই মেয়ের বাড়িতে ছেলে দিনের পর দিন থাকা ঠিক হবে না এতে আশেপাশের লোকজন নানা কথা বলে যার ফলে মেয়ে কষ্ট পায় । ছেলের বাবাকে এটা বুঝতে হবে যে ঘর জামাই থাকা ঠিক না । মেয়ে নামাজী হলে ভাল তবে মেয়েকে আস্তে আস্তে বুঝাতে পারেন নামাজের জন্য এবং এর ফলাফল কি তা জানান হঠাৎ নামাজের জন্য চাপ দিয়েন না। চাপাচাপি করলে যেকোন বিষয়েই শুধু নামাজ বলে কথা না অন্য যে কোন বিষয়েই হিতে বিপরীত হতে পারে। বোরকা না পড়লেও কিছুটা ঢেকে চলা ভাল যেমন অনেক মেয়ে স্কার্ফ পরে বা বড় ওড়না ব্যাবহার করে।

যা হোক মেয়ে বা ছেলে দেখার জন্য যে জিনিষগুলো দেখা দরকারঃ

১. ছেলে বা মেয়েকে শিক্ষিত হতে হবে।

২. ছেলে বা মেয়ে বেশী সুন্দরী হওয়ার দরকার নাই মোটামুটি সুন্দরী হলে চলবে।

৩. মেয়ে পক্ষ বেশী গরীব না হওয়াই ভাল কারণ গরীব হলে তো আপনাকে মেয়ের পরিবারকে উল্টা টাকা দিতে হতে পারে।

৪. মেয়ের শারীরিক গঠন স্লিম হলে ভাল হয় বেশী মোটা হলেও সমস্যা আবার বেশী রুগ্ন হলেও সমস্যা।

৫. মেয়ের সাথে কিছু দিন ঘুরে দেখতে পারেন, তবে ব্যাভিচার করবেন না। মেয়ে কি কি খেতে পছন্দ করেন জিজ্ঞাসা করুন আর মেয়ের বয় ফ্রেন্ড আছে কিনা জিজ্ঞাসা করতে পারেন। একই ভাবে ছেলের অন্য কোন জায়গায় পছন্দ আছে কিনা জানতে চান।

৬. মেয়ের উচ্চতা আপনার সাথে মিলে কিনা দেখতে পারেন।

৭. ছেলে বা মেয়ে বেশী রাগী হলে সমস্যা আছে তাই আপনি চিন্তা করে কাজ করবেন।

৮. বেশী বড়লোক ছেলে বা মেয়েকে বিয়ে করা ঠিক না। আপনিও যদি বড়লোক হন তাহলে সমস্যা নাই অথ্যাঁৎ সমানে সমান।

৯. বিয়ে করতে কি পেলাম আর কি  পেলাম না সেটা চিন্তা করবেন না। ঘুষ নিয়ে বিয়ে করবেন না তার মানে ঘুষ দিবেন ও না নিবেন ও না, লোভ এড়িয়ে চলুন।

১০. ছেলে বা মেয়ে স্মার্ট হতে পারে তবে বেশী স্মার্ট ও ভাল না।

১১. মেয়ের সাথে ছেলের বয়সের পার্থক্য কমপক্ষে ৫ বছর রাখতে চেষ্ঠা করবেন। অথ্যাৎ ছেলেকে অবশ্যই কমপক্ষে ৫ বছর বড় হতে হবে বা মনের মিল হলে সমান ও হতে পারে।

১২. মেয়েকে আপনি কতটা পছন্দ করেন আর ছেলে আপনাকে কতটা পছন্দ করে সেটা দেখাও জরুরী।

১৩. একই পরিবারের ভীতরে বিয়ে না করাই ভাল। তবে অনেকে বিয়ে করে সমস্যা হয় না। যেমন চাচাতো ভাই, মামাতো ভাই ইত্যাদী। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন।

১৪. ছেলে লম্বা হলে ভাল হয় তাহলে বংশগত ভাবে বাচ্চাকাচ্চা ও লম্বা হতে পারে।

১৫. ছেলের বয়স বেশী হলে সমস্যা আছে তাই অভিভাবকরা বসে ঠিক করুন কার বয়স কত এবং আঠারোর কম কিনা?

১৬. রাগী ছেলে হলেও সমস্যা কারণ রাগী ছেলে হলে জীবনে অশান্তি নেমে আসতে পারে। যদিও আমাদের দেশের বেশীর ভাগ ছেলের মাথা গরম। অনেক ক্ষেত্রে রাগও দরকার আছে।

১৭. পরস্পর বুঝাপড়া হলেই বিয়ে করা উচিৎ।

আশাকরি আপনি কিছুটা ধারনা পেলেন এখন সিদ্ধান্ত আপনার হাতে আপনি কি করবেন।

 

Love-Marriage-1.jpg15

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

মিনুর প্রেমের ঘর বেশীদিন টেকেনি

Md Amirul Islam Nadim

এবারের পুলিৎজারে আছেন আমাদের পনিরও

ridwan71

কপিরাইট নিয়ে ধোঁয়াশা?

MP Comrade

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy