Now Reading
বাংলাদেশে ইন্টারভিউ এবং স্কলারশীপ



বাংলাদেশে ইন্টারভিউ এবং স্কলারশীপ

ইন্টারভিউ বোর্ডের সবাই বসে আছে, বাইরে অপেক্ষায় চাকুরি প্রার্থিরা। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হবে ইন্টারভিউ। চাকুরিপ্রাথির্ দের চোখে কত স্বপড়ব আবার কারো চোখে অজানা এক আতংক, কী জানি চাকুরিটা যদি না হয়? কারো কাধে পরিবার চালানোর দায়িত্ব আবার কারো নিজের পায়ে দাড়ানোর স্বপড়ব। শিক্ষা জিবনের শুরুতে প্রায় অধিকাংশ শিক্ষার্থির এইদিনের কথা মাথায় থাকে না কিংবা সুযোগ হয়ে উঠে না। যার ফলে গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে শিক্ষা জীবন শুরু করে অধিকাংশ শিক্ষার্থি। এরকমই একজন রাশেদ। ৩৫ বছরের যুবক। সেও এসেছে এই ইন্টারভিউ এ। দরজা খূলে ইন্টারভিউ কক্ষে ঢুকবার সময় তার মনে পড়ে যায় প্র মবারের চাকুরি ইন্টারভিউ এর কথা। তখন তার ছিল তথৈবচ অবস্থা। পকেটে লোকাল বাসে চড়বার টাকাটি না থাকায় হেটেই যেতে হতো অফিসে অফিসে।

জ্যাম আর রোদে ঘামে যখন অতিষ্ট তখনও মাঝে মাঝে মুখে ফুটতো করুন হাসি। কারন এই রাশেদের জীবন শুরু হয় এদেশের সাধারন আর দশটা পরিবারের মতো এক নি¤ড়ববিত্ত ঘরে। বাবা সরকারী অফিসের ছোট চাকুরে আর তার উপরেই পাঁচ জনের সংসার চালানোর ভার। দুই বোন এক ভাই এর মধ্যে রাশেদ মেজ। ভালোই চলছিল তাদের বিজ্ঞান পড়ছিল রাশেদ স্বপড়ব কম্পিউটার ইজ্ঞিনিয়ার হবার। কিন্তু এক ছোট্র ঝড় সব উলট-পালট করে দেয়। উচ্চমাধ্যমিক পরিক্ষার ঠিক আগেই বাবা স্ট্রোক করে প্যারালাইসিস হয়ে যাওয়ায় ভালোমতো পরিক্ষা দিতে পারে না রাশেদ। কোনমতে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে পরিবারের হাল ধরার তাগিদে ভর্তি হয় গ্রাজুয়েশন কোর্সে।

টিউশনি করে যা পায় বাবার চিকিৎসা আর সংসার খরচে পাঠিয়ে যৎসামান্য দিয়ে নিজের পড়াশুনা চালাতে হয়। যার কিনা কম্পিউটার ইজ্ঞিনিয়ার হবার স্বপ্ন সে কোনাদিন কম্পিউটার ধরে দেখারও সুযোগ হয়নি।

গ্রাজুয়েশন শেষ করে প্র মবারের মতো কনো চাকুরির ইন্টারভিউ এ যায় রাশেদ। যদিও তার চেহারায় ব্যার্থতা আর হতাশার ছাপ কারন এই চাকুরির বেতন তার টিউশনের উপার্যনের থেকেও কম। আর এই ইন্টার ভিউ তেই বোর্ডের সদস্যরা তাকে নানা নানা প্রশ্নে জর্জরিত করে, রাশেদের মাথায় আসে না এই বেতনের চাকুরির জন্য এত এত প্রশ্ন কেন? যথারিতি উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়ে উল্টো বোর্ডের সদস্যদের প্রশ্ন করে রাশেদ। এতে ক্ষিপ্ত, রাগান্বিত হয় বোর্ডের সদস্যরা তাকে ইন্টারভিউ রুম থেকে বের করে দেয়।

অথচ আজ বের্ডের সদস্যরা দাঁড়িয়ে তাকে স্বাগত জানায় ইন্টারভিউ বোর্ডে। রাশেদ তার চেয়ারে বসতে বসতে সবাই কে উদ্দেশ্য করে বলে, আই ডি বি বিএসআইডব্লিউ এর আইটি ডিপ্লোমা ছাত্রদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে এবং কিছু মৌলিক প্রশড়ব করে চাকুরির অফার দেয়া হবে। রাশেদ আজ এই ইন্টারভিউ বোর্ডের প্রধান, আইটি প্রতিষ্ঠান সফটকম এর সিইও। তার কথার বিরোধিতা করার কেউ নেই, তার পরেও একজন বোর্ড সদস্য মুচকি হেসে বলেন, আপনে আই ডি বি বিএসআইডব্লিউ এর আইটি ডিপ্লোমা করা বলেই কি তাদের প্রতি এই পক্ষপাতিত্ব? রাশেদ বলে, না, এজন্য না যারা আই ডি বি বিএসআইডব্লিউ এর আইটি

ডিপ্লোমা করা তারা যে আসলেই যোগ্য তা আজ প্রমানিত, এর বড় উদাহরন যেমন আমি ঠিক তেমনি আপনিও, কারন আপনিও আই ডি বি বিএসআইডব্লিউ এর আইটি ডিপ্লোমা এর ছাত্র। সবাই হেসে উঠে।

– এভাবেই পরিবর্তিত হচ্ছে হাজারো তরুণের জীবন।পাল্টে যাচ্ছে ভবিষ্যত।

এই স্কলারশিপ করতে হলে আপনাকে কমপক্ষে ৪ বছর মেয়াদী আর্কিটেক্ট বা সিভিল এ পলিটেকনিকের ডিপ্লোমা সম্পন্ন করতে হবে অথবা ৪ বছর মেয়াদী অনার্স পাশ করতে হবে তবেই আপনি এই স্কলারশিপে ভর্তির সুযোগ পাবেন।

এখানে যে কোর্স গুলো করতে পারবেন সেগুলো হলোঃ সি শার্প ডট নেট, জাভা প্রোগ্রামিং, , ওয়েব প্রেজেন্স সলুশন  এন্ড ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন এন্ড এনিমেশন, অটোক্যাড এবং নেটওয়ার্কিং।

যারা অটোক্যাড করতে চান তাদের ৪ বছরের পলিটেকনিক ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে আসতে হবে। আর যদি আপনি অনার্স মাষ্টার্স শেষ করে আসেন তাহলে আপনি যে কোর্স গুলো করতে পারবেন সেগুলো হলোঃ ডাটাবেজ ডিজাইন  এন্ড ডেভেলপমেন্ট, সি শার্প ডট নেট, জাভা প্রোগ্রামিং, , ওয়েব প্রেজেন্স সলুশন  এন্ড ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন এন্ড এনিমেশন এবং নেটওয়ার্কিং কোর্স।তবে এই কোর্স গুলো শুরু করার আগে একজন  প্রশিক্ষণার্থীকে ২ মাসের কম্পিউটার ফান্ডামেন্টাল সম্পন্ন করে আসতে হয়। যারা কম্পিউটারে দুর্বল তাদের জন্য কম্পিউটার ফান্ডামেন্টাল কোর্সটি করাটা অতী জরুরী একটি বিষয়। graduation-silhouette-630-315.jpgকারন কম্পিউটার ফান্ডামেন্টাল করার পর যদি কোন প্রফেশনাল প্রোগামিং অথবা নেটওয়ার্কিং কোর্স করে তাহলে দুর্বল ছাত্রদের জন্য কোর্সটি করতে সুবিধা হয়।

বর্তমানে ঢাকা এবং চিটাগাং এ ২৭ টি নামকরা ট্রেনিং সেন্টারে কোর্স গুলো পরিচালনা করা হচ্ছে। কোর্সের মেয়াদকাল কম্পিউটার ফানডামেন্টাল সহ ১২ মাস থেকে ১৪ মাস পর্যন্ত হয়ে থাকে। প্রশিক্ষণ শেষে আইডিবি-বিআইএইডব্লিউ এর প্লেসমেন্ট সেলের মাধ্যমে চাকুরী হয়ে থাকে। এই স্কলারশীপটি সম্পন্ন করে একজন ছাত্র বিভিন্ন কোম্পানীতে চাকুরী পায়। কাজের পারফরমেন্স ভাল হলে  চাকুরীর প্রথমবস্থায় বেতন কম হলেও পরবর্তীতে প্রোগ্রামার বা নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ারদের বেতন খুব দ্রুত বেড়ে যায়।

ভোকেশনাল ট্রেনিং স্কলারশীপ সম্পন্ন করতে হলে আপনাকে কমপক্ষে ৮ পাশ হতে হবে এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা সর্বোচ্চ  হতে পারে এসএসসি পাশ আর এইচএসসি ফেল পর্যন্ত। প্রশিক্ষণার্থীরা ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কস, ওয়েল্ডিং অ্যান্ড ফেব্রিকেশন, ইলেক্টনিক্স, রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং এবং মেশিনিষ্ট ট্রেডে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহনের সুযোগ পেয়েছে। উল্লেখ্য ট্রেড সমূহের মধ্যে মেশিনিষ্ট ট্রেডটি নতুন যোগ করা হয়েছে। প্রতিদিন ৫ ঘন্টা করে সপ্তাহে ৬ দিন ক্লাস পরিচালনা করা হবে। এ প্রশিক্ষণের সকল ব্যয় আইডিবি-বিআইএসইডব্লিউ  বহন করবে এবং প্রতি মাসে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতখরচ বাবদ ৫০০ টাকা প্রদান করা হবে। প্রশিক্ষণ শেষে কৃতকার্য প্রশিক্ষণার্থীদের স্ব-স্ব ক্ষেত্রে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহন করা হবে। এ লক্ষ্যে আইডিবি-বিআইএসইডব্লিউ এর প্লেসমেন্ট সেল সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

 

About The Author
Muhammad Uddin
I am Md. Musleh Uddin, I am now doing job and part time article writinging footprint, I love to work with footprint
1 Comments
Leave a response

You must log in to post a comment