মিডিয়া-সিনেমা

ঢাকা অ্যাটাকের বিশ্বজয় ভ্রমণ কাহিনী

সত্যি কি ঢাকা অ্যাটাকের বিশ্বজয় হলো?

কুল নিবেদিত বাংলাদেশের প্রথম পুলিশ অ্যাকশন থ্রিলার সিনেমা স্প্ল্যাশ মাল্টিমিডিয়া, বাংলাদেশ পুলিশ পরিবার কল্যান সমিতি লিঃ ও থ্রি হুইলারস লিঃ প্রযোজিত দীপংকর দীপন পরিচালিত “ঢাকা অ্যাটাক” মুক্তি পেয়েছে ২ সপ্তাহ আগে। গেল আয়নাবাজির পর এবার ঢাকা অ্যাটাক প্রতিটি হলে ছিল হাউজফুল। আর তার সাথে দর্শকের উপচে পড়া ভিড়। এমন হয়েছে যে, মানুষজন টিকেট না পেয়েই খালি হাতে বাসায় ফিরে গেছে।

ঢাকা অ্যাটাক নিঃসন্দেহে একটি ভাল চলচিত্র। প্রথম সপ্তাহে মুক্তি ১২৫ টি হলে এবং টানা ২য় সপ্তাহের মত চালানো হয় ছবিটি। এতেই কি মনে হয় না যে ঢাকা অ্যাটাক দাপটের সাথে বিজয়ী হয়ছে। শুধু তাই নয় ঢাকাসহ অন্যান্য বিভাগের বড় বড় হল গুলা দখল করে রেখেছে ছবিটিকে। এমনকি ঢাকা অ্যাটাক স্টার সিনেপ্লক্সে ৮ টি শো প্রদর্শন করেছে।  ঢাকা অ্যাটাক মুক্তির ২য় সপ্তাহ শেষে ছবিটি আয় হয়েছে সাড়ে ছয় কোটিতে পৌঁছেছে।

চলচিত্রটির গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছে সানী সানোয়ার। পরিচালনা করেছেন দ্বীপঙ্কর দীপন। শুভ-মাহী ছাড়াও এই চলচিত্রে অভিনয় করেছেন আলমগীর, আফজাল হোসেন, এবিএম সুমন, হাসান ইমাম, শতাব্দী ওয়াদুদ, কাজী নওশাবা, শিপন মিত্র আরও অনেকেই।

সঙ্গীত পরিচালনায় ছিলেন ডিজে রাহাত , অদিত , অরিন্দম চ্যাটারজি । এই মুভি তেই প্রথম বাংলাদেশি মুভি হিসেবে কন্ঠ দিয়েছেন অরিজিত সিং । তার কন্ঠে টুপ টাপ এই গানটি ইউটিউবে শেষ খবর পাওয়া অবদি ২,৫৮৯,৭৫৫ ভিউয়ার্স হয়েছে। আরও এই মুভির মাধ্যমে জনকপ্রিয় গান টিকাতুলির মোড় নতুন রুপ পেয়েছে। তাছাড়া ‘আইটেম গান’ মানেই যে নোংরামি নয়, তারও প্রমাণ দিয়েছে এই গানটি।

এতেই বুঝা যাচ্ছে ঢাকা অ্যাটাক আসলেই ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশকে ছবি দিয়েই অ্যাটাক করে রেখেছে। গল্পটি পুরোপুরি অন্য ধাঁচের  গল্প যা এ  পর্যন্ত কোন বাংলা ছবিতে দেখা যায় নি। যা এ ছবিতে অনেক আলোড়ন পেয়েছে। পেয়েছে দর্শকের অনেক ভালবাসা আর বেড়েছে বাংলা ছবির উন্নতি এই ছবির মাধ্যমে।

এছাড়া আর কিছু কথা না বললেই নয় যে, একের পর এক খুন এবং বোমা হামলা হতে থাকে ঢাকায়। সেই হামলার রহস্য উদ্ঘাটনে বোম্ব ডিস্পোসাল ইউনিট এর প্রধান আবিদ রহমান, সোয়াট এর প্রধান আশফাক এবং গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান কে নিয়ে গঠন করা হয় খুবই শক্তিশালী টিম। শুটিং এর প্রয়োজনে বান্দরবনের কিছু দুর্গম পাহাড়ী এলাকাতেও শুটিং করতে হয়েছে। এই প্রথম বাংলা মুভি তে সোয়াট , এবং বোম্ব ডিস্পোসাল ইউনিট এর তৎপরতা দেখানো হয়েছে , যা কিনা সত্যি অনেক প্রশংসার দাবীদার ।বোম্ব ডিস্পোসাল ইউনিট এর প্রধান হিসেবে আরিফিন শুভর অভিনয়টি ছিল খুবই ভাল। আর সোয়াটের  প্রধান হিসেবে এবিএম সুমনের চরিত্রটিও মানানসই ছিলো, শতাব্দী ওয়াদুদ তিনি তো এক কথাই অসাধারণ অভিনেতা, মাহিয়া মাহি সবার জায়গায় পারফেক্ট। সিনেমাটিতে ক্লাইমেক্স এর অভাব নেই। মুভিতে সুমন আর নওশাবার রোমান্টিসিজম ছিলো উপভোগ্য। শেষ অবদি আপনাকে দেখতে হবে কি হবে পরে সিনে।আর এখন যে জিনিসটি বেশি ভাইরাল হয়েছে সামাজিক গনমাধ্যমে সেটা হলো, তাসকিন রহমান…  কারণ, হি ইজ দ্যা শো স্টীলার ! মারাত্মক জাস্ট ! ড্যাম ইভিল ! চোখের এক্সপ্রেশানই যথেষ্ট। ডীপ ভয়েস সেইসাথে পারফেক্ট বডি ল্যাংগুয়েজ। স্মার্ট, ড্যাশিং, ডেডলি ! তার অভিনয় যে এতোটাই দর্শক প্রিয়তা হবে তা আগে জানা ছিল না। সব মিলিয়ে বলবো বাংলাদেশের প্রথম পুলিশ একশন থ্রিলার মুভি হিসেবে ঢাকা এট্যাক পয়সা উসুল একটি বাংলা চলচিত্র । যা কিনা পরিবার, বন্ধু বান্ধন সবাইকে নিয়ে দেখার মত ।

আর একটি হট নিউজ দেয়ার আছে সেটি হলো_ বাংলাদেশ ছাড়াও অন্যান্য দেশের মধ্যে কানাডা ও আমেরিকায় শুরু হয়েছে ঢাকা অ্যাটাক। এরি মধ্যে প্রথম ৫ দিনের টিকেট বিক্রি শেষের দিকে। মুক্তির আগেই টিকেট সোল্ড আউট। কৃর্তপক্ষ জানিয়েছে শীগ্রই ২য় দিনের টা ঘোষনা করবে। ‘ঢাকা অ্যাটাক’ কিন্তু দেশে নয় বিদেশেও অ্যাটাক করে চলেছে।

আর পরিবেশক টাইগার মিডিয়া জানিয়েছে যে,  ছবিটি ৩য় সপ্তাহে ৫১ টি পেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে। স্টার সিনেপ্লেক্সে ৩য় সপ্তাহে ৮ টি যমুনাতে ৬ টি করে দৈনিক শো চলবে। এটা সত্যি অবিশ্বস্য ব্যাপার একটা ছবি এতো আলোড়ন পেয়েছে।

মুক্তির ৩য় সপ্তাহে ঢাকা অ্যাটাক দেশের ৫০ টির মত হল দখল করে আছে। এছাড়া বাংলাদেশে টানা ৩য় সপ্তাহ ধরে চলছে ঢাকা অ্যাটাক। যেসব হলে সাফল্যের সাথে চলিতেছে ঢাকা অ্যাটাকঃ

১। স্টার সিনেপ্লেক্স। (ঢাকা); ২। ব্লকবাস্টার সিনেমা। (ঢাকা); ৩। বলাকা। (ঢাকা); ৪। শ্যামলী। (ঢাকা); ৫। রাজমনি। (ঢাকা); ৬। সেনা সাভার; ৭। রাণিমহল। (ঢাকা); ৮। চান্দনা। (জয়দেবপুর); ৯। ছায়াবানী (নাটোর); ১০। ফ্যান্টাসি (উত্তরদিয়াবাড়ি);  ১১। আলমাস (চট্টগ্রাম);  ১২। মনিহার (যশোর);  ১৩। উপহার (রাজশাহী); ১৪। শাপলা (রংপুর); ১৫। লিবার্টি (খুলনা); ১৬। সাগরিকা (চালা); ১৭। সঙ্গীতা (খুলনা); ১৮। মডার্ন (দিনাজপুর);
১৯। ছবিঘর (ঝিনাইদহ); ২০। মমতাজ (সিরাজগঞ্জ); ২১। বীনা (পাবনা); ২২। সোনিয়া (বগুড়া); ২৩। পিক্স (সিরাজদিখাঁন); ২৪। তাজ (গাইবান্ধা)।

সোর্স_ ঢাকা অ্যাটাক পেইজ

এই চলচ্চিত্রের নির্মাণপ্রক্রিয়ায় পুলিশ বাহিনীর সর্বাত্মক সহযোগিতা ছিল অসাধারণ। দৃশ্য ও দৃশ্যের উপাদানগুলো সত্যরূপে উপস্থাপন করে দর্শককে আকর্ষণ করতে ঢাকা অ্যাটাক আসলেই সফল হয়েছে।

 

আর এরি মধ্যে পরিচালক জানিয়েছে যে, ২০১৯ সালের মধ্যে ঢাকা অ্যাটাক এক্সট্রিম আসিতেছে। দর্শকের বাংলা ছবি দেখা যেন বেড়ে গেল ঢাকা অ্যাটাকের মধ্যে দিয়ে। দর্শকরা সবাই আশা করছে যে ঢাকা অ্যাটাক এক্সট্রিমে নতুন ধাঁচের আরোও কিছু নতুন টেকনোলজি উপহার পাবে। যারা এখনো ঢাকা অ্যাটাক দেখেননি তারা দেখতে পারেন। আপনাকে নিরাশা করবেনা।22519332_2014239548815677_3891539183798698976_n.jpg

 

 

 

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

প্রাক্তন – চলচ্চিত্র

Amit Biswas

মুখে আল্লাহর নাম আর শরীরে অর্ধনগ্ন পোষাক ???

Ahmmed Abir

সালমান, রিয়াজ নিয়ে জাকির হোসেন রাজু

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: