• Home
  • প্রযুক্তি
  • ডার্ক ওয়েব: ইন্টারনেটের নিষিদ্ধ জগত!! (পর্ব-১) ডার্ক ওয়েব কি?
প্রযুক্তি

ডার্ক ওয়েব: ইন্টারনেটের নিষিদ্ধ জগত!! (পর্ব-১) ডার্ক ওয়েব কি?

Blue Whale  গেমস বর্তমানে খুবই আলোচিত একটি বিষয়। এটি এমন একটি গেমস যার ফলে সারা বিশ্বের প্রায় কয়েক শ তরুণ তরুণী আত্মহত্যা করেছে। সম্প্রতি গুজব উঠে , বাংলাদেশেও বলে এই গেমস এর কারণে আত্মহত্যা ঘটেছে। এরপরই সোশিয়াল মিডিয়া থেকে শুরু করে পত্র -পত্রিকা গুলোতে শুরু হয় এই গেমস নিয়ে আলোচনা।

স্বাভাবিক ভাবেই মানুষের মধ্যে এই খেলাটি খেলার জন্য আগ্রহ তৈরি হয়। ফল স্বরূপ শুরু হয় সার্চিং। কিন্তু কোথাও পাওয়া যায় না এই গেমস এর লিংক । কিন্তু কেন? তখন জানা যায়, এটা একটি ডার্ক ওয়েব গেম। যার কারণে এই খেলাটির লিংক কোন ইউটিউব, গুগল, ফেসবুক এ সার্চ দিয়ে পাওয়া যাবে না।

আর তখনি আলোচনায় উঠে আসে ডার্ক ওয়েব শব্দটি। আসলে, কি এই ডার্ক ওয়েব ?
ডার্ক ওয়েব হচ্ছে ইন্টারনেট এর একটি ভয়ংকর অন্ধকার জগত। এটি এমন একটি জগত যা সাধারণ মানুষের ধরা-ছোঁয়া, এমন কি জ্ঞানেরও বাইরে!!

 

গুগলে যখন আমরা কোন তথ্যের জন্য সার্চ দেই তখন আমরা অবাক হয়ে যাই। যেকোনো বিষয়ে লাখ লাখ তথ্য পাওয়া যায় ইন্টারনেটে। কিন্তু, আপনি জানলে অবাক হবেন, আপনি নেটের পুরো তথ্যের মাত্র ১০% দেখছেন। বাকি ৯০% তথ্য যা থাকে আমাদের দৃষ্টির বাইরে। আর এই ৯০% তথ্য গুলো আমরা চাইলেই সার্চ করে খুঁজে পেতে পারি না । যেমন, পাসওয়ার্ড, সোর্স কোড, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ তথ্য, সরকারি গোপন তথ্য ইত্যাদি। ওয়েব এর এই অংশ টাকে বলা হয় ডিপ ওয়েব বা Deep web। আর এই দুই টি ছাড়া আরেক টি যে অংশ আছে সেটাই হচ্ছে ভয়ানক ডার্ক ওয়েব । এই অন্ধকার জগতের কোন তথ্য আপনি সাধারণ সার্চ ইঞ্জিনে খুঁজে পাবেন না।

 

 

main-qimg-714dd751dbb8eeea86c93310cd5e1a8c-c.jpg

 

সুতরাং, আমরা যদি ইন্টারনেট এর দুনিয়াকে একটি সাগরের সাথে তুলনা করি। তবে দেখতে পাব-
এর সবচেয়ে উপরের অংশ হচ্ছে surface web অর্থাৎ সেই অংশ যে জায়গার তথ্য সবার জন্য উন্মুক্ত।যে কেও এখান থেকে তথ্য খুঁজে পেতে পারবে। আর, তার নিচের বিশাল অংশটি হচ্ছে ডিপ ওয়েব। যেখানে কার তথ্য সাধারণ মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। বিভিন্ন প্রোগ্রামার, প্রতিষ্ঠান, সরকারি ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা এখানে বিচরণ করে। আর, ডিপ ওয়েব এর সবচেয়ে নিচে যে অন্ধকার জগত রয়েছে তাই হচ্ছে ডার্ক নেট। যেখানে বিচরণ করে বিভিন্ন হ্যাকার, অপরাধী, মাদক-অস্ত্র বিক্রেতা এবং মানসিক ভাবে অসুস্থ ও বিকৃত রুচির মানুষেরা।

 

কি করা হয় এই এই ডার্ক ওয়েবে :

ডার্ক ওয়েবে বা ডার্ক নেটে এত ভয়ংকর কাজ হয়, যা আপনার ধারনার বাইরে। এখানে যে কাজ গুলো হয়, সেগুলো হচ্ছে-

 

১. অবৈধ অস্ত্র লেনদেন-

যেকোনো ধনের অস্ত্র , একে ৪৭ থেকে শুরু করে রকেট লাঞ্চার, মর্টার ইত্যাদি যেকোনো ধরনের অবৈধ অস্ত্র এখানে পাওয়া যায়। বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এখান থেকে অস্ত্র কেনা বেচা করে। এমন কি অস্ত্র বানানো থেকে শুরু করে অস্ত্র চালানোর ট্রেনিং ও দেওয়া হয় এখানে। বিভিন্ন জঙ্গি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এখান থেকেই অস্ত্র কেনা বেচা করে।

Armory-Website.jpg

 

২. অবৈধ ড্রাগস লেন দেন-

যেকোনো ধরনের অবৈধ ড্রাগস, ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ কেনা বেচা করা হয় ডার্ক নেট এ। এরকম একটি সাইট হচ্ছে সিল্ক রোড। ২০১৩ সালে যার প্রধানকে ধরার পর প্রথম এই বিশাল জগত টি সাধারণ মানুষের আলোচনায় আসে। কত কম দামে কত বেশি ড্রাগস পাওয়া যায় এরকম সব ধরনের তথ্য আছে এখানে।

Silk-Road-website-007.jpg

৩. দুর্ধর্ষ হ্যাকিং-

ডার্ক নেটের এই অংশে একমাত্র উঁচু লেভেল এর হ্যাকার রাই প্রবেশ করতে পারে। সরকারি বিভিন্ন তথ্য চুরি করাতে এদের জুড়ি নেই। বলা হয়, উইকিলিকে যে তথ্য ফাঁস করে হইচই ফেলে দিয়েছে, তা অনেক বছর আগেই ডার্ক ওয়েবে প্রকাশ পেয়েছিল।

মানব ইতিহাসের অতি গোপন তথ্য,যা সাধারণ মানুষ জানে না। এরকম গোপন তথ্য গুলো পাওয়া যায় ডার্ক নেটে। তবে উঁচুমাত্রার হ্যাকার রাই একমাত্র এই লেভেলে প্রবেশ করতে পারে।

hacker-1952027_1920.jpg

 

 

৪. পেশাদার খুনি –
পেশাদার খুনিও ভাড়া করা যায় ডার্ক নেটে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, যে কাওকে খুন করার জন্য বিপুল অর্থের বিনিময়ে পেশাদার খুনি ভাড়া করা যায় এখানে।

killer-820017_1920.jpg

৬. টর্চার, রেপ – বিকৃত রুচির মানুষের বিচরণ রয়েছে এ সকল সাইটে। যারা টাকার বিনিময়ে লাইভে অন্য মানুষদেরকে টর্চার হতে দেখে। বিভিন্ন মানুষ কে জোর করে ধরে এনে নির্যাতন করা হয়। এবং তা লাইভে দেখান হয় যা এতই ভয়াবহ যে সাধারণ মানুষ তা সহ্য করতে পারবে না।

৭. এমনকি, মানুষ এর উপর মেডিকেল গবেষণা করার জন্য জ্যান্ত মানুষ ও পাওয়া যায়। অর্থাৎ , বিভিন্ন ছিন্নমূল মানুষ যাদের মৃত্যু হলেও কেও জানবে না, এমন মানুষ দের ধরে নিয়ে এসে, তাদের উপর অমানবিক গবেষণা গুলো করা হয়।

৮। জাল পাসপোর্ট

৯। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ,পর্নগ্রাফি।

 

এছাড়াও আপনার চিন্তারও বাইরে , এমন সব অপরাধ মূলক কাজ করা হয় এ জগতে। সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হবে পরবর্তী পর্ব গুলোতে।

কেন এই সাইট গুলো সাধারণ ব্রাউজারে পাওয়া যায় না?

আগেই যেমন বলেছি এইসকল অবৈধ তথ্য, ওয়েবসাইট আপনি আপনার সাধারণ ব্রাউজার যেমন – গুগল, ইয়াহু বা বিং এ খুঁজে পাবেন না। এই ডার্ক নেট ব্যাবহারের জন্য একটি স্পেশাল ব্রাউজার ব্যাবহার করা হয়। যার নাম হচ্ছে TOR ব্রাউজার।
তবে কৌতূহল বশেও কখন TOR ব্রাউজার ব্যাবহার করবেন না। কারণ এর মাধ্যমে আপনার কম্পিউটার এ ভাইরাস এটাক হতে পারে। সেই সাথে এরা এমন সব সফটওয়্যার ইন্সটল করতে বলে, যা কম্পিউটারের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

 

TOR-BROWSER-6.0.5.jpg

ডার্ক নেটের সাইটগুলোর নামও থাকে খুব উদ্ভট ধরনের। মনে হয় কেও যেন ভুলে উলটা পালটা টিপাটিপি করেছে।
যেমন- http://nzfbqc6hd3.onion । পড়ার অযোগ্য থাকে এই সাইটগুলোর নাম এরা .com .net এই ধরনের ডোমেইন এক্সটেনশন ব্যাবহার করে না। এদের থাকে .onion এরকম ধরনের অপরিচিত ডোমেইন এক্সটেনশন।

কিভাবে হয় এ জগতের লেনদেন?

এখান কার লেনদেন হয় মূলত বিট-কয়েন এর মাধ্যমে। এটি একটি অনলাইন কারেন্সি । এই কারেন্সিটিতে সরকারের হিসাব থাকে না।

আর এভাবেই চলতে থাকে ডার্ক ওয়েবের লেনদেন।।

(চলবে)

 

 

 

 

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

আপনি ফেসবুক ব্যবহারে সতর্ক হবেন কেন?

Ashraful Kabir

মহাকাশে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট

MasudRana

এনক্রিপশনঃ ক্ল্যাসিক এনক্রিপশন – পর্ব ১

Shahed Hasan

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: