স্বাস্থ্য কথা

কোল্ড ড্রিংক, এনার্জি ড্রিংক খাচ্ছেন? জানেন কি ভয়ংকর জিনিস মেশান হয় এগুলোতে?!

কোল্ড ড্রিংক কে না পছন্দ করে? আড্ডা, পার্টি, বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে ঘরের দাওয়াত গুলো কোল্ড ড্রিংক ছাড়া মনে হয় জমেই না। গরমে ক্লান্ত? দোকান থেকে তুলে নিলেন একটা এনার্জি ড্রিংক। স্কুলে বাচ্চা খুব জিদ করছে? তাকে শান্ত করার জন্য কিনে দিলেন একটা সফট ড্রিংক। কিন্তু আপনি কি জানেন কি দিয়ে তৈরি হয় এই এনার্জি ড্রিংক , বা কোল্ড ড্রিংক? এসব প্রস্তুত কারক প্রতিষ্ঠান গুলো এগুলো বানানর ফর্মুলা যত্ন করে গোপন রেখেছে। আবার অনেক উপাদানের কথা চেপে রেখেছে।
তবে গবেষণায় উঠে এসেছে এক ভয়ংকর চিত্র। এসব ড্রিংক এর স্বাদ বাড়ানর জন্য মেশান হয় প্রচুর ক্ষতিকর ও বিষাক্ত উপাদান ও মশলা ।
আসুন জেনে নেই সেই উপাদান গুলো-

১.ইথিলিন গ্লাইকোল: এক আর্সেনিক ধরনের বিষ
সাধারণত শিল্প ও কলকারখানায় ব্যবহৃত হয় এই উপাদান। এটি হচ্ছে আর্সেনিক এর মতই এক ধরনের বিষ, যা মানব দেহে নীরবে বিষক্রিয়া ঘটায়। কিডনির অসুখ হওয়ায় এর কোন জুড়ি নেই। এছাড়া স্নায়ুতন্ত্র, হৃৎপিণ্ড , লিভার এর ও প্রচুর ক্ষতি করে এই উপাদানটি ।

২. ক্যান্সার সৃষ্টকারী কৃত্রিম রঙ
টারট্রাজিন, কারমোসিন, ব্রিলিয়েন্ট ব্লু, সালফেট ইয়েলো নামের কৃত্রিম রঙ দিয়ে এই ড্রিংকগুলিতে রঙিন করা হয়। যা দেখতে অনেক সুন্দর, কিন্তু সরাসরি ক্যান্সার তৈরি করতে এগুলো খুবই সিদ্ধহস্ত।

৩.দাঁত ও হাড়ের ক্ষতিকারক এসিড:
কোন দ্রব্য কতটুকু এসিটিক তা বোঝা যার এর pH এর উপর। অর্থাৎ, pH যত কম হবে, এর এসিডের মাত্রা তত বেশি হবে। সাধারণত ৫.৫ এর কম হলে, তা ক্ষতিকর হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু গবেষণায় উঠে এসেছে ভয়ংকর তথ্য। আর তা হচ্ছে, বাজারের কোন কোমল পানীয়র pH ৩.৩ এর উপরে নয়। আর, সবচেয়ে জনপ্রিয় ড্রিংক টির PH ২.৪- ২.৮ এর নিচে!!

এসব পানীয়র ঝাঁঝালো স্বাদের জন্য মেশান হয় ফস-ফরিক এসিড। যা দাঁত ও হাড়ের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
আর, আপনি যদি জাদু দেখতে চান তবে এক গ্লাস কোল্ড ড্রিংকে একটি দাঁত এক সপ্তাহ ডুবিয়ে রাখুন। এবার ১ সপ্তাহ পর দেখতে পাবেন তা পুরপুরি গলে গিয়েছে।

৩.আসক্তি তৈরি করা ক্যাফেইন
একবার খেলে যেন বার বার খেতে ইচ্ছে করে, এজন্য এসকল পানীয়তে মেশান হয় উচ্চমাত্রা র ক্যাফেইন।এটার আসক্তি অনেকটা মাদকের মতই। এটি সাময়িক ভাবে মানুষের মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করে তুলে, কিন্তু একটা লম্বা সময় পর তা মানুষকে অবসন্ন ও ডিপ্রেশন এর রোগী করে তুলে।
এছাড়া গর্ভপাত, গর্ভস্থ শিশুর জন্মগত ক্রুটি, মূত্রাশয় ও পাকস্থলী র ক্যান্সার এর অন্যতম কারণ হচ্ছে এই ক্যাফেইন।

৪. কার্বন-ডাই- অক্সাইড
ঠিক ধরেছেন,যে কার্বন-ডাই-অক্সাইড আমরা বর্জ্য হিসেবে শ্বাস প্রশ্বাস এর মাধ্যম এ শরীর থেকে বের করে দেই, তাই আবার কোমল পানিয়ের মাধ্যমে আমাদের শরীরে ঢুকান হয়!

৫.অতিরিক্ত চিনি
চিনি এমনিতেই মানুষের শরীরের জন্য অনেক ক্ষতিকর। আর, এসকল কোমল পানিতে মেশান হয় অতিরিক্ত পরিমাণ চিনি। এক ক্যান কোমল পানীয়তেই থাকে প্রায় ১০ চামচ পরিমাণ চিনি অর্থাৎ প্রায় ১৬০ পরিমাণ ক্যালরি। যা কমাতে সপ্তাহে প্রায় ৪ ঘণ্টা পরিমাণ ভারী ব্যায়াম করতে হয়। অথচ, আমরা সপ্তাহে প্রচুর পরিমাণ কোমল পানিয় খাই কিন্তু ব্যায়াম করা হয় না বললেই চলে।
যার ফলে বাড়ছে মাত্রাতিরিক্ত মেদ- স্থূলতা । এছাড়া অতিরিক্ত ড্রিংক এর ফলে কিডনিতে পাথর হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায় প্রায় ৩৩ শতাংশ।

৬।কীটনাশক-
কি অবাক হলেন? হ্যাঁ আপনি ঠিকই শুনছেন! কোমল পানীয়তে মেশান হয় মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক। এটা অবশ্য অনেক পুরানো তথ্য ।
২০০৪ সালে ভারতে কিছু কৃষক তাদের জমিতে কীটনাশক হিসেবে ব্যবহার করে পেপসি এবং কোকা কোলা। এবং চমৎকার সুফল ও পেয়েছে। পোকা-মাকড় সব মরে সাফ। সে বছরই নয়াদিল্লী ও হায়দ্রাবাদ ল্যাবরেটরি তে পরীক্ষায় ধরা পড়ে পেপসি এবং কোকা কোলা তে ব্যবহৃত হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক।
সুতরাং , ভেবে দেখুন জেনে শুনে কি আপনি কখন এক বোতল কীটনাশক খাবেন ? কিন্তু কোমল পানীয়র নামে আপনাকে আসলে কীট নাশক খাওয়ান হচ্ছে!!

৭। এলকোহল:
গবেষণায় দেখা গিয়েছে কোকা কোলায় মেশান আছে এলকোহল। যা থিতান হয় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত । ১৯০৯ সালের আগ পর্যন্ত এতে কোকেন মেশান হত। ধারনা করা হয় এজন্য কোকা কোলা কোম্পানি এক শতাব্দী ধরে তাদের ফর্মুলা গোপন রেখেছে। যেসব দেশের আদালত তাদের ফর্মুলা দেখানোর জন্য আদেশ দিয়েছে , কোকা কোলা কোম্পানি সেসকল দেশ থেকে তাদের পণ্য উঠিয়ে নিয়েছে। তারপরও ফর্মুলা প্রকাশ করে নি।

আমেরিকার বিখ্যাত গবেষক মার্ক পেন্ডারগ্রাস্ট ২০০০ সালে একটি বই লিখেন । নাম ‘ ফর গড কান্ট্রি এন্ড কোকা কোলা’। খুবই জনপ্রিয় এই বই টিতে তিনি বিভিন্ন কোমল পানীয়র গোপন দিক উল্লেখ করেন। সেখানে তিনি প্রমাণ করে দেখিয়ে দেন বাজারের বিক্রিত কোল্ড ড্রিংক গুলো তে মেশান হয় এলকোহল। তিনি উল্লেখ করেন, ‘বর্তমানে শিশুরাও মদ খাচ্ছে, কারণ বাবা মা রা তাদের হাতে কোকের গ্লাস তুলে দিচ্ছেন’।
এলকোহল এক ধরনের নেশা জাতীয় দ্রব্য যা মুসলমান জনগোষ্ঠীর জন্য নিষিদ্ধ।

৮। গ্লিসারিন-
গ্লিসারিন হচ্ছে এক ধরনের তেল এবং চর্বি জাতীয় উপাদান। যাতে থাকে প্রাণীজ চর্বি। কোকা কোলা কোম্পানি অবশ্য গ্লিসারিন মেশানর কথা স্বীকার করেছেন। প্রশ্ন হচ্ছে তারা গ্লিসারিনে কোন ধরনের চর্বি মেশান? সেটা হতে পারে যে কোন নিষিদ্ধ পশুর। যা মুসলমান বা হিন্দু দুই ধর্ম পালনকারীদের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারে।

এসকল ভয়ংকর উপাদানে তৈরি কোমল পানীয়টি যদি আপনি নিয়মিত খান, তবে আপনার শরীরে হবে অবর্ণনীয় ক্ষতি। যেমন-

১। নিয়মিত পানে পুরুষের যৌন শক্তি হ্রাস পায়, এবং সন্তান জন্মদান ক্ষমতা কমে যায়, এবং অনেক ক্ষেত্র চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়,

২। নারীর গর্ভপাতের সম্ভাবনা বেড়ে যায় ,
৪। গবেষণায় উঠে এসেছে বিশ্ব জুড়ে আশংকা জনক হাড়ে ডায়াবেটিকস বেড়ে যাবার প্রধান কারণ হচ্ছে মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত মাত্রায় এই কোমল পানিয় খাওয়ার কারণে,
৫। বাড়িয়ে দিচ্ছে ডিপ্রেশন ও মানসিক রোগ সমূহ,

৬। এছাড়া ক্যান্সার তো এখন মহামারি আঁকার ধারণ করেছে।

সুতরাং, এখনি কোল্ড ড্রিঙ্ক বা সফট ড্রিঙ্ক বা এনার্জি ড্রিঙ্ক এর নামে বিষ খাওয়া বন্ধ করুন। সন্তানদের এই বিষ থেকে দূরে রাখুন। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

ইফতারের পর খুব সহজে ক্লান্তি দূর করার উপায়।

Rohan Khan

জীবন বাঁচাতে প্রতিশ্রুতি দেয় এমন একটি ডায়েট তৈরি করা হয়েছে ।

Sharmin Boby

যে মানসিক অসুখটি আপনাকে সফল হতে দিচ্ছে না!! (অধিকাংশ মানুষই জানে না তারা এতে আক্রান্ত)

Kanij Sharmin

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy