Now Reading
একটি ভালবাসার গল্প পার্ট-১



একটি ভালবাসার গল্প পার্ট-১

ভালবাসা অনেক সুন্দর, মধুর এবং অনেক গভীর একটি সম্পর্ক। এই ভালবাসা কখন না কখন সবার জীবনেই আসে। তেমনই ভাবে এসেছিল যূথী ও শিশির এর জীবনে। দুই জনই দুই জায়গার বাসিন্দা। যূথীর বাসা ছিল পাবনা আর শিশির এর বাসা ছিল টাঙ্গাইলে। যদিও শিশিরের নানু বাসা ছিল পাবনাতে। সময়টা ছিল ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর মাস। দুইজনই সদ্য এইচ এস সি পরিক্ষা শেষ করে ঢাকা তে কোচিং করতে এসেছে। যূথী ভর্তি হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কোচিং এ আর শিশির ভর্তি হয়েছিল মেডিকেল ভর্তি কোচিং এ। ভালই চলছিল দুইজনের পড়াশোনা। যূথী থাকতো ওর কাজিনদের সাথে মিরপুরে। আর শিশির থাকতো ওর বড় ভাইয়া আর বড় ভাইয়ার বন্ধু, বন্ধুর ওয়াইফ, বন্ধুর বোন এর সাথে থাকতো মুহাম্মাদপুরে।যূথীর প্রতিদিন  সকাল ৮.৩০ তা থেকে ১০.৩০ তা পর্যন্ত ক্লাস থাকতো আর শিশিরের সকাল ১০.৩০ তা থেকে ১২.৩০ তা পর্যন্ত ক্লাস থাকতো।

শিশির যে বাসায় থাকতো ঐ বাসায় ওর ভাইয়ার যে বন্ধুর বোন থাকতো সে ও কোচিং করতে ঢাকা এসেছিল।ওদের বাসা পাবনা তেই ছিল। ওর নাম ছিল আফসানা। আফসানা র শিশিরের মধ্যে ভাল বন্ধুত্ব হইয়ে গেছিল। দুইজন দুইজনের সাথে সবকিছু শেয়ার করতো। ঐ দিকে আবার আফসানা ছিল যূথীর বেস্ট ফ্রেন্ড। একদিন শিশির আর আফসানা বাসায় বসে আড্ডা দিচ্ছে এমন সময় আফনাসা শিশির কে বলল যে আমার স্কুল আর কলেজ ফ্রেন্ড দের ছবি দেখাই তোকে। শিশির বলল ঠিক আছে। আফসানা উঠে গিয়ে ছবির অ্যালবাম নিয়ে আসলো আর ছবি দেখাতে শুরু করল আর বলল কে কোনটা। ছবি দেখাতে শিশিরের খুব এক্তা মন ছিলনা তারপর ও দেখতে হচ্ছিলো। ছবি দেখতে দেখতে হঠাৎ ওর নজর পড়ে যূথীর ছবির উপর। শিশির নিজে থেকে আফাসানা কে জিজ্ঞেস করে এই মেয়েটা কেরে? আফসানা বলে ও যূথী আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। যূথীকে নিয়ে ওদের মধ্যে অনেক্ষন কথা চলে। এক সময় শিশির আফসানা কে বলে আই মেয়ে কে আমি ১৫ দিনের মধ্যে পটাইয়ে প্রেম করবো। আফসানা বলে কখনও পারবিনা।আই নিয়ে ওদের মধ্যে বাজি লাগে। তারপর শিশির আফসানার কাছে থেকে যূথীর ফোন নাম্বার নেয়। আর সাথে সাথে যূথীকে ফোন করে। যূথী আবার সেদিন বিকেলে ওর কাজিনের সাথে বাইরে গেছিল। সময় তখন বেলা ৩.৩০ টা। অপরিচিত নাম্বার দেখে প্রথমে যূথী ফোনটা ধরেনি। একটু পর আবার ফোন ঐ নাম্বার থেকে যূথী ভাবল হইত পরিচিত কেও হবে তাই ভেবে ফোনটা ধরল। যূথী ফোন ধরে হ্যালো বলল তখন অপর পাশ থেকে শিশির বলে চল্ল কেমন আছ? কি কর? যূথী বলল কে বলছেন? আমি তহ আপনাকে চিন্তে পারছিনা। শিশির বলল অহ সরি আমি পরিচয় দিতে ভুলে গেছি। আমি শিশির তোমার ফ্রেন্ড আফসানার ফ্রেন্ড আমি। আমি কি তোমার সাথে কথা বলতে পারি? যূথী বলল আমি তহ এখন একটু বাইরে আছি আমি আপনার সাথে পরে কথা বলব বলে বাই বলে ফোন টা রেখে দিল।ঐ দিন তারিখ ছিল ৫/৯/২০০৭।

যূথী ওর কাজিনদের সাথে থাকতো বিধাই ও সবসময় গল্প করা আর পড়াশোনা এই নিয়ে সময় পার হয়ে যেতো। তাই ও ভুলেই গেছিল শিশিরের কথা। ঐদিন আর শিশির ও ফোন করেনি। পরের দিন বেলা ৪.৩০ টার দিকে যূথীকে আবার ফোন দেয়। তখন আবার যূথী নাম্বার দেখে প্রথমে ফোনটা ধরেনা। পরে আবার ফোন দেয়াতে যূথী ফোন টা ধরে। শুরু হয় ফনালাপ।

যূথীর আবার সহজে কাউকে তুমি বলতে পারেনা। তাই ও আপনি আপনি করেই শিশিরের সাথে কথা চালিয়ে যাচ্ছিলো কিন্তু শিশির তো নাছোড়বান্দা ও বলে আমাকে তুমি তুমি করে বল। খুব করে বলে দেখে যূথী অবশেষে শিশিরকে তুমি করে বলে। শিশিরতো মহা খুশি। প্রথম দিনে যূথী খুবই বিরক্ত হচ্ছিল শিশিরের সাথে কথা বলতে। কিছুক্ষন কথা বলে যূথী বলে পরে কথা বলব বলে ফোনটা রেখে দেয়। শিশির ও কিছু মনে করেনা। পরে ঐ দিনই সন্ধাই আবার ফোন করে শিশির যূথীকে। ফোন করে জিজ্ঞেস করে শিশির আমি কি তোমাকে রাতে ফোন করতে পারি? যূথী সরাসরি বলে দেই যে না সম্ভব না রাতে কথা বলা।পরেরদিন দুপুরে শিশির আবার ফোন করে। কথা চলে প্রায় ১ ঘণ্টার মতো। একে অপরের সম্পর্কে জানাজানি হয় দুইজনের মধ্যে। এভাবে চলতে থাকে কথার মেলা ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে ফোনালাপ।একদিন শিশির বলে চলো আমরা দেখা করি। যূথীর কোন ইচ্ছা ছিলনা দেখা করার। তারপরও ও রাজি হল। ঠিক হল যূথী কোচিং থেকে বের হইয়ে শিশিরের জন্য অপেক্ষা করবে। শুধু দেখা হবে কোন কথা বলবেনা।যদিও যূথী শিশিরকে চিনেনা কিন্তু শিশির যূথীর ছবি দেখেছে ও চিন্তে পারবে। ঠিক হল পরের দিন তাহলে তাদের দেখা হচ্ছে।

পরের দিন যথা সময়ে ক্লাস শেষ করে যূথী ওর কাজিনের সাথে বাস এর জন্য অপেক্ষা করছে আর মনে মনে শিশিরকে খুজচ্ছে। বাস চলে আসাতে ও আর শিশিরের জন্য অপেক্ষা করতে পারেনা তাই ও ওর কাজিনের সাথে বাসে উঠে চলে আসে। ওইদিকে শিশির এসে আর যূথী কে খুজে পাইনা। অবশেষে ও ক্লাস এ চলে যাই। যূথী দেখা না করে চলে যাওয়াতে ও মনে মনে অনেক রাগ করেছিল। ক্লাস শেষ করে বাসায় ফিরে যূথীকে ফোন দেয়।…………

 

 

 

 

 

About The Author
ARIFA NASRIn
ARIFA NASRIn
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment