Now Reading
ইরানী মেয়ে



ইরানী মেয়ে

 

ইরানী মেয়ে….!!!

ইউকেতে রেস্টুরেন্টগুলো সাধারনত বৃহস্পতিবার, শুক্রবার এবং শনিবার খুবই ব্যস্তো থাকে! আমাদের রেস্টুরেন্টটা এর ব্যতিক্রম না! ব্যতিক্রম হলো আমাদের রেস্টুরেন্টের বস! তিনি মনে করেন,মেয়ে মানুষ রেস্টুরেন্টে সাভির্স করলে, কাস্টোমাররা বেশী খুশী থাকে! তাই রেস্টুরেন্টে সব সময় কমপক্ষে একজন মেয়ে ওয়েট্রেস থাকা দরকার! পারলে তিনি পূরো রেস্টুরেন্টই মেয়ে ওয়েট্রেস দিয়ে চালাতেন। যদি সম্ভব হতো। তার কথাটা খুবই যুক্তিপূর্ণ সুন্দরী মেয়েদের সাভির্সে মেয়েরা হ্যাপী থাকে কি না,বলতে পারবো না!তবে ছেলেরা যে খুবই খুশী থাকে এইটা নিশ্চিত! আমার আবার বিভিন্ন দেশের মেয়েদের সাথে কাজ করে অল্প বিস্তর তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে! আমি বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন দেশের মেয়েদের পার্ট টাইম বা ফুল টাইম কাজে নেই। পরে দেখা যায় মেয়েরা কিছুদিন কাজ করে, তারপর চলে যায়! তাদের এই চলে যাওয়ার জন্য আমরাই বেশী দায়ী! কারণ তাদেরকে রেগুলার কাজে ডাকি না। তাই তারা ভরসা না পেয়ে, অনত্র কাজ নিয়ে চলে যায়! একবার এক ইরানী মেয়েকে পার্ট টাইম কাজে নিলাম! এখানে বলে রাখা দরকার, আমি যখন কোন ইরানী মেয়ের কথা শুনি, তখন আমার কাছে,বোরকা পড়া অসম্ভব রুপবতী একটি মেয়ের চিত্র ফুটে উঠে! ইরানী মেয়েদের পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মেয়ে ধরা হয়! আমার এখানে কাজ করতে আসা, এই মেয়েটা সুন্দরী কিন্তু সে ট্রেডিশনাল ইরানী মেয়ে না। সে হইলো শয়তানের ছোট বোন!
তার চুল ছেলেদের মতো করে,খুব ছোট ছোট করে কাটা! আর অন্য সব কিছু ঠিক আছে! ফিগার টিগার চমৎকার। সে কুদ্দিস সম্প্রদায়ের! সে ইরানে থাকতে ঘরে তৈরী মদ খেয়ে এসেছে! আর এখানে ইউকেতে তো মদের স্বর্গ। তাকে আর পায় কে। কুয়ার ব্যাং যেন নদীতে পড়েছে এমন অবস্থা। সিগারেটও খায়! দুবাইও থেকেছে অনেকদিন! সে এখানে পেইন্টিং শিখতে এসেছে! বিষয় হইল নেকেড হিউম্যান বডি!একেবারে সোনায় সোহাগা আরকি। আমি তাকে বল্লাম নেকেড হিউম্যান বডি,তাহলে তো তোমার পেন্টিংস দেখা দরকার। সে বললো দেখাবে? আমি বল্লাম, তোমার শরীলের ছবি আছে না? সে বললো আছে। আয়নার সামনে দাড়িয়ে দাড়িয়ে নাকি একেছে। তার এই অবস্থা শুনে,(আমি মনে মনে বলি, ইরানের জল্লাদরা তার খুঁজ জানে না হয়তো, জানলে তো তার বেচে থাকার, কোনই উপায় নেই!)
যাই হোক, সে আমাদের সাথে কাজ করে। আমি তাকে বলি, ইউনিফর্ম পড়ে আসতে! সেই ইউনিফর্ম পড়ে তো আসেই না বরং সে পড়ে আসে টাইট টাইট সব ড্রেস। দেখতেও কিন্তু লাগে খুব আকর্ষনীয়। এখন আমি আর কিছু বলি না, কেও যদি দেখাইতে চায় দেখাউক! তার আছে সে দেখাউক! এখন সমস্যা হলো কিচেনে গেলে! হাতের কাজ বন্ধ করে সবাই তারে দেখে! তাকে সবাই খুব খাতির করে!তাকে কোন কাজের অর্ডার করলে, তার কাজ বেশীর ভাগই অন্য ওয়েটারাই করে দেয়। তার তেমন কোন কাজ করতে হতো না। কারো সামনে যেয়ে সে শুধু একটা হাসি দিলেই হলো,শব কাজ অন্যেরা করে দিতো।একদিন কাজে এসেছে দেখি, ভীষণ মন খারাপ! সাদা মুখ লাল! এখন আমি যা ই বলি,কোন কথার উওর নাই। হঠাৎ খুবই রাগের সাথে আমাকে বলে, তুমি কি ভাবছো?আমি কি Slut নাকি? (আমি তো থতোমতো খেয়ে মনে মনে বলি,হায় আল্লাহ,একি কি হইল তার! )ভয়ে ভয়ে,জীজ্ঞাসা করলাম আমি, কি হইছে তোমার?সে বলে,গতকাল রাতে তুমি আমাকে কুপ্রস্তাব দিছো! আমার তো আকাশ ভেংগে পড়ার জোগার! আমি বল্লাম,কি করলাম আমি? সে বলে, তুমি ফোন করেছ! আমি বল্লাম, আমি তো ফোন করি নাই! তুমি আমার নাম্বার জানো প্লাস ভয়েস টোন তো চিনো,তাই না? সে বলে, ভয়েস টোন আমি ধরতে পারি নাই! নাম্বার হাইড করা ছিলো!পরে আমার মনে পড়লো। আমাদের এক স্টাফ কয়েকদিন আগে তার সিভি হাতিয়ে ছিলো! পরে তাকে চার্জ করাতে, সে স্বীকার করে, তার এক বন্ধু এই কাজ করেছে!
এর কিছুদিন পরে এই মেয়ে দেখি, রাত্র দুইটার দিকে ড্রাংক হয়ে,আমাকে ফোন দেয়। ক্রমাগত খুব বেশী ইনভলব হয়ে পড়তেছে। তার চরিত্র বেশী ভালো না। পরে তাকে কাজ থেকে বিদায় করে দিয়েছি!!!

 

About The Author
Mohammad Abubakker Mollah
Mohammad Abubakker Mollah
আসসালামু আলাইকুম । আশা করি সবাই ভালো আছেন।
1 Comments
Leave a response

You must log in to post a comment