অন্যান্য (U P)

যাদুর আংটি

যাদুর আংটি…..পর্ব -১

ইয়াহিয়া মফসল শহরে থাকেন! তিনি তার আশেপাশে বিভিন্ন ও পেশার লোকদের নিয়ে একটি সমবায় সমিতি করেছেন।তিনি ঐ সমিতির সভাপতি, তিনি তার সমিতির পক্ষ থেকে,সবাইকে একটি করে,ফল গাছের চারা কিনে দিয়েছেন। তার মতে,ইদানিং সবাই কাঠ গাছ লাগানোর প্রতি বেশী আগ্রহী হওয়ায়,মানুষ জন দেশের প্রচলিত ফলের গাছ সমূহ হারাতে বসেছে। তিনি তার বাড়ীর পিছনে,একটি ভালো জাতের আমের গাছ রোপন করার জন্য একটা গর্ত খুড়লেন। খুড়ার সময় মাটির সাথে অদ্ভুত একটা আংটির মত পেলেন।
আম গাছটা পূতে,আংটিটা হাতে নিয়ে,তিনি দ্রুতই ঘরে চলে এলেন।ঘরে এসে টিউ ওয়েলের পাড়ে যেয়ে, হাতমুখ ধোয়ার পরে,তিনি তার পাওয়া আংটিটা ভালো করে ধুইলেন। কি ধাতুর তৈরী তা বুঝতে চেস্টা করলেন, কিন্তু ,ইয়াহিয়া তা বুঝতে পারলেন না। কারন অনেকদিন মাটির নীচে থাকায়,কালো হয়ে গেছে। টিউবওয়েলের পাড়ে দাঁড়িয়ে ইয়াহিয়ার খেয়াল হলো আংটিটা আংগুলে পড়ার। যেই কথা সেই কাজ, সাথে সাথেই ইয়াহিয়া তার বাম হাতের অনামিকা আংগুলে আংটিটা পড়লেন। কি আশ্চয্যের ব্যাপার, তার শরীরটা একটা ঝাঁকুনী দিয়ে উঠলো। টিউওয়েলের পাড়ে আগে থেকেই কাপড় ধুইতে থাকা,কাজের বুয়ার দিকে চোখ পড়তেই ইয়াহিয়া, একটি অদ্ভুত জিনিস লক্ষ্য করলেন, তাদের কাজের বুয়া, ইয়াহিয়া সম্পর্কে মনে মনে যা ভাবতেছে। তা ইয়াহিয়া খুব সহজেই বুঝতে পারছেন! এই মুহূতের্ কাজের বুয়া তাকে মনে মনে বলতেছে, পাগলডা আবার আইছে! ইয়াহিয়া অবাক হয়ে,নিজেকে সামলিয়ে বুয়াকে জীজ্ঞাসা করলো,বুয়া তুমি ঠিক আছ তো। বুয়া বললেন,জী ভাই যান, আমগোতো ঠিক থাকন ই লাগবো? এইপর বুয়া,মনে মনে বললো,এই ঘরের সবকয়টাই পাগল। ইয়াহিয়া বুঝতে পেরে,বুয়াকে কোন কিছু না বলে,ঘরে চলে এলেন! ইয়াহিয়া বুঝলেন,অদ্ভুত এই আংটিটার কারনে,তিনি আজ বুয়ার মনের কথা,রিড করতে পারতেছেন। তিনি ঠিক করলেন,কাউকে এই অদ্ভুত আংটির কথা জানাবেন না। ঘরে এসে বউ এর দিক তাকাতেই বুঝতে পারলেন,বউ মনে মনে ভাবতেছে, আমি এই বেটার সাথে বাকি জীবনটা কাটাবো কিভাবে? কোনই ভবিষৎ নাই। বেটা আছে কেবল গ্রামের মানুষ নিয়া। বউয়ের কোন খোঁজখবর তার কাছে নাই। ইয়াহিয়া উওর দিতে যেয়েও, দিল না!বললো,মনোয়ারা কালকে তোমাকে নিয়ে কোথাও বেড়াতে যাবো। বিয়ের পর এই প্রথম বেড়াতে যাবে,এতে মনোয়ারা বিষণ খুশী হলো। পরের দিন ইয়াহিয়া তার স্ত্রী মনোয়ারাকে নিয়া রিক্সায় করে পার্কে যাইতেছে। রিক্সাওয়ালার দিকে ইয়াহিয়ার চোখ পরতেই, ইয়াহিয়া বুঝলেন,রিক্সা ওয়ালা মনে মনে ভাবছে,ইয়াহিয়ার পাশে বসা এই মহিলা ইয়াহিয়ার স্ত্রী না, সে অন্য একটা খারাপ মেয়ে নিয়া ফুর্তি করতে বের হইছে।ইয়াহিয়া রিক্সা ওয়ালার মনের এই চিন্তা দূর করার জন্য,
বললেন,বউ তুমি কিছু খাইবা? বউ না সুচক উত্তর দেওয়ার সাথে সাথে রিক্সা ওয়ালার দিকে চোখ পড়তেই, এইবার রিক্সা ওয়ালা মনে মনে ভাবতেছে,এই রকম কত স্বামী স্ত্রী দেখলাম?রাত্র তিনটা চারটায় স্ত্রীকে পার্কে নামায় দিয়া, ক্ষনিকের স্বামীরা চলে যায়।এই বার ইয়াহিয়ার মন খারাপ হইয়া গেল। রিক্সা ওয়ালাকে ইয়াহিয়া বললো,রাখো রাখো! তোমার ভাড়া কত হইছে?রিক্সা ওয়ালাকে ইয়াহিয়া আরোও বল্লো,মানুষ সম্পর্কে উল্টাপাল্টা ধারনা করবা না,বুঝছো।রিক্সা ওয়ালা অবাক দৃস্টিতে তাকিয়ে বললো,আমি আবার কি করলাম ভাই? ভাই রাস্তা তো আরো বাকি আছে? ইয়াহিয়া বললো,তোমার রিক্সায় আর যাবো না। নিধারিত ভাড়ার চেয়ে কিছু টাকা কমদিয়ে বিদায় করলেন।তারপর কিছুদূর এগিয়ে,ইয়াহিয়া আরেক রিক্সা ওয়ালাকে ডাক দিয়া বললেন,আমরা দুজন স্বামী স্ত্রী,পার্কে যাব। কত নিবা ? রিক্সা ওয়ালা যে ভাড়া চাইলো,তাতে রাজি হয়ে, দুজনে উঠলো! এইবার রিক্সাওয়ালার দিকে চোখ পড়তেই ইয়াহিয়া বুঝলো, রিক্সা ওয়ালা ভাবতেছে, হালায় ছাগল একটা,খারাপ মেয়ে নিয়া পার্কে ঘুরতে আইছে,,আবার বউ বলার দরকার কি?ইয়াহিয়া এইবার রিক্সা ওয়ালার ধারনাটা বদলানোর জন্য,স্ত্রীকে বললো আচছা, আমাদের বিয়ে কতদিন যেন হলো! মনোয়ারা হাতের কর গণে হিসাব করে বললো, একবছর ছয়মাস সতেরদিন। এদিকে
রিক্সা ওয়ালা তাদের কথাবার্তা শুনে ভাবতেছে, মনে হয় ভনিবনা নাই, হিসাবে তো কয়,একটা বাচ্চা কোলে, আরেকটা বাচ্চা পেটে থাকার কথা!

চলবে…………!!

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

উইনচেস্টার রাইফেল এবং উইনচেস্টার পরিবারের অভিশপ্ত পরিণতি।

Rysulislam

প্রবীণদের জায়গা দেখছি শুধুই বৃদ্ধাশ্রম!

Maksuda Akter

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবন।

Mohammad Abubakker Mollah

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy