Now Reading
আপনি ভালো আছেন?



আপনি ভালো আছেন?

আপনাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় আপনি কেমন আছেন? অনেক ক্ষেত্রেই আপনি বলেন “নারে ভাই! খুব একটা ভালো নেই।” আপনি কী একবারও ভেবে দেখেছেন আপনি আসলেই ভালো আছেন অথবা ভালো নেই? আমি বলবো আপনি এটা কখনোই ভেবে দেখেননি। আপনি যদি একটিবার গভীরভাবে চিন্তা করে দেখতেন যে, আপনার সৃষ্টিকর্তা আপনাকে কতটা ভালো রেখেছেন তাহলে আপনি যে অবস্থাতেই থাকেন না কেন আপনি অবশ্যই বলতেন “আমি খুব ভালো আছি।”

এবার আসুন কিভাবে নিজেকে ভালো ভাবা যায় তা নিয়ে কিছু কথা। ধরুন আপনি জ্বরে আক্রান্ত। এমন সময় আপনাকে যদি কেউ জিজ্ঞেন করে আপনি কেমন আছেন? নিশ্চই আপনি তাকে মনে মনে হোক অথবা সরাসরি হোক তাকে গালিগালাজ করবেন। কিন্তু আমি বলবো সেই মুহূর্তেও আপনার ভাবা উচিৎ যে আপনি অনেক মানুষের চাইতে ভালো আছেন এমনকি খুবই ভালো আছেন কারন আপনার চিন্তা করে দেখা উচিৎ যে, সেই মুহূর্তে হাজারো মানুষ হাসপাতালে এমন রোগে কাতরাচ্ছে যার কোন প্রতিকারই হয়তোবা নেই। হয়তোবা ডাক্তার তাকে শেষ বারের মতো বলে দিয়েছেন যে তিনি আর বাঁচবেন না। সেই সমস্ত মানুষগুলো বেঁচে থাকার তীব্র বাসনা নিয়েও নিশ্চিত মৃত্যুর জন্য দিন গুনছেন। তাহলে একবার ভেবে দেখুন আপনিতো সামান্য জ্বরে ভুগছেন। হয়তো দুই এক দিনেই সম্পূর্ণ  সুস্থ হয়ে যাবেন। তাহলে আপনি কী তাদের চেয়ে অনেকাংশেই ভালো নেই? অবশ্যই ভালো আছেন। আর একটু আধটু সমস্যা তো মানবজীবনে থাকবেই। সমস্যা আছে বলেই তো জীবনটা এতো সুন্দর!

আমরা যখন রাস্তা দিয়ে চলি তখন অনেক ভিক্ষুকের সাথেই আমাদের দেখা হয় যাদের হাত-পা কোনটাই নেই। পড়ে আছেন রাস্তায়। কীই বা রোদ আর কীই বা বৃষ্টি। কোন আশ্রয় নেই, সঙ্গী নেই, ভালো লাগা নেই, নেই কোন মানুষের সুদৃষ্টি। একটিবার যদি তাদের দিকে তাকিয়ে নিজকে প্রশ্ন করেন আপনি কেমন আছেন? আপনার বিবেক অবশ্যই উত্তর দেবে আপনি অসংখ্য মানুষের চেয়ে ভালো আছেন। আপনি যদি নিজেকে ঐ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারেন আর যদি ভাবতে পারেন আপনি যদি ঐ পর্যায়ে থাকতেন তাহলে কেমন হতো? বিধাতা কিন্তু আপনাকে-আমাকে ঐ পর্যায়ে রাখতে পারতেন! অনেক মানুষ একটা বয়স পর্যন্ত সুস্থ থাকেন হঠাৎ কোন একটা দুর্ঘ টনায় সব কিছু হারিয়ে নিঃস হয়ে যায়। তাহলে ভাবুন তারা কী আগের দিনও জানতো সে সবকিছু হারাবে? জানতো না। আবার সব কীছু হারানোর পরেও কিন্তু সে ভাবতে পারে যে এখনো বেঁচে আছে। এই বেচে থাকার জন্য হাসপাতালে কত মূমূর্ষ রোগী মৃত্যুর সাথে লড়াই করছে। সুতরাং জীবনের অনেক বাস্তবতার কথা চিন্তা করে আমাদের অবশ্যই নিজেকে সুখী ভাবা উচিৎ।

জীবনে হয়তোবা কিছু সমস্যা আছে এবং তা থাকবেই। কিন্তু আমরা কী কখনো জীবনের ভালো দিক গুলো নিয়ে ভেবে দেখেছি? যেমন আমাদের বিয়ের পরের দাম্পত্য জীবনের কিছু সুখময় স্মৃতি, কিছু আনন্দ। একবারও কী ভেবে দেখেছেন? আমরা কিন্তু এসব সুখের জন্য বিধাতার কাছে জন্মের আগে দরখান্ত করেছিলামনা। বিধাতা সৃষ্টিজগৎ সৃষ্টি করার সময় তার নিজ ইচ্ছাতেই পৃথিবীর সুখগুলো দিয়েছেন যেমন সুন্দর প্রকৃতি, ফুল, সুস্বাদু ফল, সৃন্দর বিস্তৃত আকাশ ইত্যাদি। তাহলে কি আমরা কিছুটা সুখের জন্য কিছুটা দুঃখ আনন্দচিত্তে গ্রহন করতে পারবো না? অবশ্যই পারবো।

আমরা অনেক সময়ই নিজের পেশা নিয়ে চিন্তিত বা অসন্তুষ্ট থাকি। যেমন আপনি সরকারি চাকরি পান নি বিধায় কোন বেসরকারি চাকরি করছেন। আপনি বোধহয় ভেবে দেখেননি সরকারি চাকরিজীবীদের অধিকাংশই আপনার চেয়ে কম বেতনে সংসার চালান। তারা চাকরি শেষে হয়তো অনেক টাকা পাবেন কিন্তু জীবনের শেষ পর্যায়ের চেয়ে যুবক বয়সে টাকার প্রয়োজনটা অনেক বেশি তাতে আপনি জীবনটাকে ভালোভাবে উপভোগ করতে পারবেন। আর আপনি যদি নিজেকে অন্যান্য বেসরকারি চাকরিজীবীদের চেয়ে নিজেকে ছোট মনে হয় তাহলে আপনি যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন সেই প্রতিষ্ঠানের দ্বাররক্ষী বা দারোয়ানের দিকে একবার তাকিয়ে দেখুন। কত কষ্ট করেন তিনি! তিনি কতটা সামান্য বেতনের জন্য কতটা বেশি কষ্ট করেন তাকি একবার ভেবে দেখেছেন? যদি নিজেকে তার সাথে তুলনা করেন তাহলে বোধ হয় আপনিই বুঝতে পারবেন আপনি কতটা সুখী মানুষ।

আমরা অনেকেই শরীরের রং কালো বলে নিজেকে নিয়ে অনেকটা অসন্তুষ্ট। কিন্তু আমাদের গায়ের রং কালো এটা মোটেও কোন বিষয় নয় কারণ মানুষকে বিচার করা হয় তার অন্তর দিয়ে। আমার গায়ের রং কেমন সেটা না ভেবে আমার ভাবা উচিৎ আমার মন মানসীকতা কতটা সুন্দর করে আমি সাজাতে পেরেছি। আমি কী মানুষের দোষগুলো খুজে খুজে তাকে খারাপ ভাবি নাকি মানুষের ভালো গুণগুলো বেছে নিয়ে সবাইকে ভালো ভেবে পৃথিবীর সবকিছুকে সুন্দর ভেবে সবকিছুকে সুন্দর দৃষ্টিকোন থেকে বিচার করেছি? এগুলোই হলো আমার-আপনার প্রকৃত প্রতিবিম্ব। আমাদের উচিৎ প্রতিদিন নিজেকে প্রশ্ন করা আমি কী গতকালের চেয়ে আজ ভালোভাবে চলেছি? আমাদের সব সময় মনে রাখা উচিৎ যে, গতকালের চেয়ে আজকের দিনটা যদি সামান্য হলেও বেশি ভালোভাবে না চলি তাহলে আমাদের জীবন ব্যর্থ। অর্থাৎ আমাদের প্রত্যেকেরই চেষ্টা করা উচিৎ আমরা যেন প্রতিদিন ক্রমান্বয়ে ভালো হয়ে চলার চেষ্টা করি। তাহলেই আমরা দেখবো আমাদের গায়ের রং অথবা চেহারা যাই হোকনা কেন পৃথিবীটা যেমন অনেক সুন্দর আমরাও অনেক সুন্দর কারন বিধাতা সকল মানুষকেই একটা সুন্দর অবয়বে সৃষ্টি করেছেন।

 

তাহলে আমরা এখন থেকে নিজেকে সুখী ভাবার চেষ্টা করবো। এতদিন আমরা সুখে থাকার চেষ্টা করেছি কিন্তু পারিনি। কারন সুখে থাকাটা অনেক কঠিন। কিন্তু নিজেকে সুখী ভাবা অনেক সহজ। আর জীবনে সুখে থাকার জন্য প্রধান হাতিয়ারই হলো নিজেকে সুখী ভাবা।

About The Author
Md Jakaria
I am Md Jakaria. Writing is my passion so thanks to frootprint.press because I have got the opportunity to explore myself.
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment