Now Reading
আশিকের জীবন….!!!



আশিকের জীবন….!!!

আশিকের জীবন…..!!!

সামাদ ঢাকার শহরের কোন এক বাসায় কাজ করে। তার এই সামাদ নামটা নিজের না,তার ভালো নাম হলো আশিকুর রহমান!সে যে বাসায় কাজ করে,তার মালিকের নাম আশিকুর রহমান হওয়ায়, মালিকের স্ত্রী তার নাম বদলিয়ে রেখেছে সামাদ।তার আসল নামটা,তার বাবা আখলাকুর রহমান,নিজের নামের সাথে মিলিয়ে,আশিকুর রহমান খুবই পছন্দ করে রেখেছিল।সামাদ নামটা তার পছন্দ না।কিন্তু এই বাসায় কাজ করতে হলে,তাকে তার নামটা পরিবর্তন করতেই হবে।মালিকের স্ত্রীর ইচ্ছা পূরন না হলে,তাকে কাজে রাখবে না।আশিক মনে মনে একটু খুশী আছে,কারণ এই বাসার মালিকের স্ত্রী তারে বল্টু,নান্টু,পল্টু, গিট্টু,লুলু, জুনু,নুনু ইত্যাদি নাম দেয়নি। তার এইসব নাট,বল্টু মার্কা নাম একদমই অপছন্দ। আশিক ভেবে পায় না, মানুষ এতো ভালো ভালো সুন্দর মুসলিম নাম বাদ দিয়ে, কেন এইসব অর্থহীন নাম রাখে? এইগুলো কোন নাম হইল! তার খুবই কস্ট হয়, যখন কেউ তারে সামাইদ্যা বলে ডাকে।আশিকের মনে অনেক ব্যথা লাগে,যখন ভাবে, গরীব হয়ে জন্মানোর কারণে,স্বাধীন ভাবে নিজের নামটা ধরে পর্যন্ত ডাকে না!তার মাঝে মাঝে মনে হয়,আল্লাহ যাদের বেশী ভাগ্যবান হিসাবে,সমাজে একটু বেশী সুযোগ সুবিধা ভোগ করার ক্ষমতা দিয়েছেন, তারা কত নিষ্ঠুর আচরন করে? আশিকের এরকম খারাপ অবস্থা ছিলনা,তার বাপ মা যখন এক সাথে ছিল। তখন তাদের অনেক অভাবের মাঝে অনেক আনন্দ ছিল! তখন প্রাইমারী স্কুল থেকে এসে, মায়ের কাছে ভাত খেতে চাইলেই,যেভাবেই হোক যোগার করে এনে দিত।মাঝে মাঝে আলু বর্তা দিয়ে ভাত খেতে না চাইলে। তার মা অনেক কস্টো করে, ডিম কিনে এনে দিতো।এমনও সময় গিয়েছে রান্নার তেল নাই। পাশের বাড়ীর ভাবীর কাছ থেকে ডিম ভাজার জন্য তেল ধার এনে, তারপর ডিম ভেজে দিত।মায়ের সাথে কতো সুখ স্মৃতি আছে, সেগুলো মনে পড়লে, কান্নায় চোখ এম্নিই এম্নিই পানিতে ভরে যায়। আগে কত জিনিস নিজের ছিলো,ছোট টেনিস বল,ভাংগা আয়না, নস্ট ক্যালকুলেটর,নস্ট ক্যাসেট,সেলাইনের খালি প্যাকেট ইত্যাদি।সেগুলো নিয়ে গর্ব করে স্কুলের অন্য ছাত্রদের দেখাতো।আর এখন নিজের বলতে কোন কিছুই নেই। এমনকি নিজের শরীরটাও মনে হয় অন্যের। এই বাসায় পেট ব্যথা হলে বা শরীর খারাপ করলে বা জ্বর আসলেও কাজ করতে হয়। ছোট মানুষ বলে, কেও মায়া দেখায় না। কাজে ভুল করলে বা কোন কিছু ভেংগে ফেললে! চর থাপ্পর দেয় নিয়মিত। তখন তার মায়ের কথা খুবই মনে পড়ে।কারণ একদিন তাদের অভাবের ঘরে,তিনটা চায়ের কাপই সে একাই ভেংগে ফেলেছিল। সেদিন তার মা তাকে কিছুই বলেনি। এবাসায় আশিক ছোট বা তুচ্ছ জিনিস ভাংলেও বাড়ীর সবাই তাকে মারে।অথচ মালিকের ছেলে দামী দামী জিনিস পত্র ভেংগে ফেললেও, তার আম্মু বা অন্যেরা তারে মারে না।বকাও দেয় না। বাসায় কোন জিনিস খুঁজে পাওয়া না গেলেই,সবাই এসে কেবল আশিককেই জীজ্ঞাসা করে। আশিক অবসরের সময় যখন নাসিরের(মালিকের ছেলে) সাথে খেলে! নাসিরের মা,তাকে নাসিরের সাথে খেলতে দেখলে,অদ্ভুত কোন একটা কাজের কথা বলে,তাকে নাসির থেকে দুরে সরিয়ে রাখে। এই বাসায় নাসিরই তার একমাত্র ভালো বন্ধু। এই বাসায় ভালো ভালো খাবার রান্না হলেও,আশিকের জন্য অল্প করে রাখা হয়। তার অনেক বেশী খেতে চাইলেও তা পাওয়ার কোন উপায় নেই। তার মা আর বাবার ছাড়াছাড়ি হওয়ার পরে। তার বাবার সাথে কিছুদিন ভালই দিন কেটেছিল।তারপর তার বাবা আবার বিয়ে করায়,তার এখন মানুষের বাসায় কাজ করে জীবন বাঁচাতে হয়।তার সৎ মা তাকে ঠিক মতো,খেতে পড়তে দিতো না।শেষ বার তার বাবাকে, তার সৎ মা হুমকি দিয়েছিল,তার এই বদ ছেলেকে বাসা থেকে না তাড়ালে!সে এই সংসার করবে না। তারপর থেকে তার বাবা তারাহুড়া করে, তার স্কুলের পড়াশোনা বন্ধ করে, তাকে এই বাসায় কাজ করার জন্য রেখে যায়। আশিক মনে মনে চিন্তা করে,পৃথিবীর সব সৎ মায়েরাই কি এরকম? তার দ্বিতীয় মা তো সৎ না,তাহলে তাকে সৎ মা বলে কেন? তাকে তো অসৎ মা বলা উচিত।

About The Author
Mohammad Abubakker Mollah
Mohammad Abubakker Mollah
আসসালামু আলাইকুম । আশা করি সবাই ভালো আছেন।
1 Comments
Leave a response

You must log in to post a comment