অন্যান্য (U P)

স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে তারহীন প্রযুক্তি

বিজ্ঞান-প্রযুক্তির অগ্রগতির এই জুগে ইন্টারনেটের কোনো বিকল্প নেই। ইন্টারনেট ব্যবহারকে আরো সহজতর করেছে ওয়াইফাই। আধুনিক সময়ে তারবিহীন ডিভাইস এবং ওয়াইফাইকে পরিহারের কোনো সুযোগ নেই। ওয়াইফাই ছাড়াও আমরা প্রতিনিয়ত বিকিরণের একটি অদৃশ্য জালের সাথে জড়িয়ে পড়ছি। মস্তিষ্কে টিউমার হওয়া, বন্ধ্যত্ব, ইলেকট্রো-হাইপারসেনসিটিভিটিসহ অনেক রোগের ঘটনা আগের চেয়ে বর্তমানে বেশি দেখা যাচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বিকিরণের কারণে মানুষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। লিখেছেন সুমনা শারমিন
ইন্টারনেট আসক্তির এই আধুনিক সময়ে ওয়াইফাইয়ের তারহীন ইন্টারনেট সেবা সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। এই ব্যবস্থায় রাউটারের সাথে তড়িৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গের মাধ্যমে সংযুক্ত করা যায় মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট ও ল্যাপটপের মতো ডিভাইস। ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের আবির্ভাব ও এক লাখ কোটির বেশি স্মার্ট ডিভাইসে ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) চালুর কারণে বিকিরণের এ সঙ্কট আরো প্রকট হচ্ছে। চণ্ডিগড়ের পোস্টগ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের (পিজিআইএমইআর) সহযোগী অধ্যাপক ড. নেহরু বলেন, ‘কর্মক্ষেত্রে আমি অনেক রোগী, বিশেষ করে তরুণদের দেখেছি, যারা জটিল কিছু উপসর্গ নিয়ে আমার কাছে এসেছে। এসব উপসর্গ আগে কখনো দেখা যায়নি। ১৯৮৫ সাল থেকে আমি এ পেশায় নিয়োজিত। কিন্তু যে উপসর্গগুলোর কথা বলছি, সেগুলো গত ১০ বছরের মধ্যেই দেখা গেছে। এর আগের ২০ বছরে এমন কিছু দেখিনি আমি। ড. নেহরু সম্প্রতি ‘গ্লোবাল ওয়্যারলেস সুপারওয়েব’ নামের একটি বই প্রকাশ করেছেন। এতে তিনি প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির সাথে স্বাস্থ্যগত সমস্যার একটি প্রাসঙ্গিক সম্পর্ক উল্লেখ করেছেন। এ সময় বিভিন্ন ডিভাইস থেকে নির্গত তড়িৎ-চুম্বকীয় বিকিরণের কথা তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। নেহরু বলেন, এমন কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যা রয়েছে, যেগুলো আমরা আগে কখনো দেখিনি। এসব রোগ নির্ণয় ও নিরাময়ের কোনো পদ্ধতি আজ পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি। আমি এ খাতে বিস্তর গবেষণা করেছি। এসব রোগের সাথে এমন কিছুর সম্পর্ক রয়েছে, যার অস্তিত্ব নির্দিষ্টভাবে গত ১০ বছরে দেখা গেছে। যদিও এর শুরুটা গত শতকের শেষের দিকে। বিকিরণের এ জালের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে ইএনটি সার্জন ড. নেহরু বলেন, আমরা মস্তিষ্কে টিউমার হওয়া, বন্ধ্যত্ব, ইলেকট্রো-হাইপারসেনসিটিভিটিসহ অনেক রোগের ঘটনা আগের চেয়ে বেশি দেখছি। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বিকিরণের কারণে মানুষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আমাদের চারপাশে বিকিরণের অদৃশ্য জাল দিন দিন আরো ঘন হচ্ছে। এটি ভালো কথা নয়; কিন্তু এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে কেউই কথা বলছেন না। সবাই বায়ুদূষণের কথা বলছেন। কেউই তড়িৎ-চুম্বকীয় দূষণের কথা উল্লেখ করছেন না। বড় করপোরেশনগুলোও জনগণকে ভুল ধারণা দিতে নিজেদের অর্থায়নে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। নিজেদের স্বার্থে তারা জনস্বার্থের বিষয়টিকে প্রচ্ছন্নে রাখতে লবিস্ট পর্যন্ত নিয়োগ করেছে। সরকারও স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা চিন্তা না করে তারহীন প্রযুক্তির ব্যবহারকে অনুমোদন দিয়ে যাচ্ছে।
ওয়াইফাইয়ের ক্ষতিকর প্রভাবের মধ্যে রয়েছে মনোযোগে সমস্যা, কানে ব্যথা, ঘন ঘন তীব্র মাথাব্যথা, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, ঘুমে সমস্যা। যদিও এই প্রযুক্তির ব্যবহার থেকে বিরত থাকা সম্ভব নয়, তাই তারবিহীন ডিভাইস ও ওয়াইফাই রাউটার ব্যবহারে কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত। এতে ক্ষতিকর প্রভাব এবং সাইড ইফেক্ট অনেকটাই কমিয়ে আনা যাবে। ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অবশ্যই ওয়াইফাই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন। বেডরুমে রাউটার রাখা উচিত নয়। ব্যবহার না করলে ওয়াইফাই বন্ধ রাখুন। এভাবে তড়িৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গ বন্ধ না রাখলে শিশুদের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

হযরত খানজাহান আলী (রঃ) ও তাঁর মাজার

tajrintamanna

মা তোমার জন্য চিঠি!!!

Saiful Islam

জিমে প্রথম ব্যায়াম করতে হলে কি কি ধরনের ব্যায়াম করা যায় এবং তার সময়সীমা কতটুকু

Muhammad Uddin

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy