Now Reading
পৃথিবীর সবচেয়ে সাহসী প্রানী



পৃথিবীর সবচেয়ে সাহসী প্রানী

পৃথিবীর সবচেয়ে সাহসী প্রানী ।।।

কেউ আপনাকে যদি প্রশ্ন করে, মানুষ বাদে,পৃথিবীর সবচেয়ে সাহসী প্রানী কোন টি? স্বাভাবিক ভাবেই আপনি হয়তো বলবেন।
ওহ আচ্ছা এইটা তো খুব সহজ একটা প্রশ্ন। রয়েল বেংগল টাইগার বাঘ। বাঘই হলো পৃথিবীর সবচেয়ে সাহসী প্রানী। আবার কেউ হয়তো বলতে পারেন, বনের রাজা সিংহ। আচ্ছা সিংহ কে আমরা বনের রাজা বলি কেন? সিংহ বনের রাজা হলো কিভাবে? সিংহ কি পৃথিবীর রাজা বাদশাহদের মতো মাথায় মুকুট পড়ে, বনের মধ্যে ঘুড়াঘুড়ি করেছিলো কোনদিন? কেউ কি দেখেছেন কখনো? আমার তো মনে হয় কেহ দেখেনি। তাহলে সিংহ কে বনের রাজা বলে, সম্বোধন করা দরকার কি? শক্তি আর বিশালত্বের বিবেচনায় হাতিই কিন্তু বনের রাজা উপাধী পাওয়ার যোগ্য। তাছাড়া, আগের দিনে রাজা বাদশারা কিন্তু হাতির পিঠেই চড়ে, নানান জায়গায় ছুটে বেড়িয়েছেন। সেই হিসেবে রাজাদের চালচলন হাতিদেরই জানা থাকার কথা বেশী। কোন রাজাই বোধ করি সিংহের পিঠে চড়েন নাই। তাঁই বনের রাজা হাতি বলাটা অধিক যুক্তি সংগত। যাই হোক সেই তর্কে যেতে চাই না। আসলে আমার কঁথা হলো, তাহলে কি পৃথিবীর সবচেয়ে সাহসী প্রানী আমরা খুঁজে পাবো না। ইতিমধ্যেই অনেকেই হয়তো মনে মনে ঠিক করে নিয়েছেন বলবেন। হাতি পৃথিবীর সবচেয়ে সাহসী প্রানী। আবার অনেকেই যারা তিমি মাছের বিশালতা সম্পর্কে জানেন, তারা হয়তো বলবেন, নীল তিমি মাছই পৃথিবীর সবচেয়ে সাহসী প্রানী। এভাবে আমরা এমন অনেক প্রানীর কথাই আমরা হয়তো ভাবতে পারি। কিন্তু আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সাহসী প্রানীর উপাধীটা একটি ক্ষুদ্র প্রানীকে দিতে চাই। সেই প্রানীটা হলো আমাদের সবারই পরিচিত প্রানী, “মশা।“ চরম বিরক্তিকর একটি প্রানী এই মশা। (এপ্রসংগে বলে রাখা ভালো, আল্লাহ সোবহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনুল মজিদে বলেছেন, আমি কোন কিছুই অনর্থক সৃস্টি করিনি। অথচ অবিশ্বাসীদের ধারণা তাহাই।) তাই আমি মনে করি, মশা নিশ্চয় কোন ভালো কাজের জন্য,আল্লাহ সোবহান আল্লাহ সৃস্টি করেছেন। আমরা হয়তো সেঁইটা জানি না। সে যাই হোক, মশা পৃথিবীর সবচেয়ে সাহসী প্রানী। আমার এইটা বলার পিছনে কারণ হলো। স্বাভাবিক ভাবে মানুষ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রানী। এই শ্রেষ্ঠ মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও তার সাহস সব প্রানী থেকে বেশী। কিন্তু এতো বুদ্ধি আর সাহস মানুষের থাকার পরেও। বাঘ বা সিংহের কাছে যেতে ভয় পাই। এমনকি আমরা খুব কম মানুষ ই হাতির কাছে ভিড়তে সাহস পাই। যদিও হাতি তেমন হার্মফুল প্রানী না।তারপরেও আমরা যেতে চাই না। তবে হাতি যদি আবার পাগলা হয়ে যায়, তাহলে সেইটা ভিন্ন কথা। তখন দেখা যায় তার আরেক রুপ, সেই সময় কাউকে সামনে পেলে,শুর দিয়ে পেচিয়ে একটা আছাড় দিতে ভুল করে না। তখন হাতির উপরে বসা ছেলেটিকেও বাদ দেয় না সে? তখন হয়তো হাতি মনে মনে বলে, এতোদিন তো আমার ঘাড়ের উপর বসে বসে উস্তাদী করেছিস। এঁখন দেখ উস্তাদের মাইর কারে কয়? তখন ঘাড় থেকে নামিয়ে দেয় এক আছাড় অথবা পায়ের নিচে ফেলে গেলে ফেলে। যদিও একটি হাতি আমাদের মানুষের চেয়ে শরীরের দিক দিয়ে অনেক গুন বড়। তথাপিও আমরা মানুষরা সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রানী হওয়া সত্তেও।আমাদের মনে একটা ভীতি কাজ করে, হাতি যদি আমাদের আক্রমণ করে বসে, তাহলে সেইটা প্রতিহত করবো কিভাবে? কিন্তু আশ্চর্য্যের বিষয় হলো। মশা আমাদের শরীরের তুলনায় লক্ষ কোটি গুন ছোট হওয়া সত্তেও, সে আমাদের রক্ত খেতে চলে আসে নির্ভয়ে  এমন কি রক্ত খেয়ে চলেও যায়। বেশীর ভাগ সময়ই আমরা তাদের কিছুই করতে পারি না।  সত্যিই তাদের এই সাহসের প্রশংসা করতে হয়। কারন কোন মানুষ যদি জানে সে, তিমি মাছের কাছে গেলে, সে তার পাখনা দিয়ে, নিমিষেই তাকে মেরে ফেলবে। তাহলে এই বিশাল প্রানীর কাছে যেতে মানুষ নিশ্চয়। ১০০ বার চিন্তা করতো। এই ভেবে যে, আমি এই বিশাল প্রানীর সামনে যাচ্ছি যে, আমি আবার জান নিয়ে ফিরতে পারবো তো? সেই ধরনের সিচুয়েশনে মানুষ তিমির কাছে গেলে, নিশ্চয় দল বেঁধে নানান অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে, তারপরেই যেতো। কোন রকম প্রস্তুতি ছাড়া বড় রকমের পাগল বা বোকাও বের হতো না। অথচ মশার ক্ষেত্রে দেখুন ঢাল নেই, তলোয়ার নেই।
কোন আগ্নেয়াস্ত্রও নেই। অথচ নির্ভাবনায় চলে আসে মানুষের রক্ত খেতে। সে একটি বারও চিন্তা করে না। এই বিশাল মানুষটির রক্ত খেতে যাচ্ছি। নিরাপদে বাসায় ফিরতে পারবো তো? আবার দেখা যায়, মানুষের কানের কাছে বিরক্তিকর শব্দও করে। এই শব্দের মাধ্যমে কোন ম্যাসেজ দেঁয় কিনা কে জানে? তবে আমার ধারণা, মশার কাছে মানুষের অসহায়ত্ত দেখে, মশা বোধ হয়,আনন্দে আবেগ আপ্লুত হয়ে,গানের সুরে বলতে থাকে, তোরা মানুষরা তো এতো বড় প্রানী। পারলে আমার একটা বাল ছিড়ে দেখা তো দেখি? এই কথাটা বলে, তাদের ভাষায় ঘেন ঘেন করে শব্দ করে। আর আমরা হয়তো তাদের এই ভাষা বুঝি না। তার প্রমান হিসেবে আমি দেখেছি, যেসব মশা কানের কাছে এসে ঘেন ঘেন শব্দ করে, তারা হলো মহা ধুরন্ধর। তাদেরকে আমি কখনোই মারতে পারিনি।

About The Author
Mohammad Abubakker Mollah
Mohammad Abubakker Mollah
আসসালামু আলাইকুম । আশা করি সবাই ভালো আছেন।
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment