সমসাময়িক চিন্তা

রোবট সোফিয়া

রোবট সোফিয়া।

কিছুদিন ধরে বিশ্বে, তথা বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলোতে, খুবই আলোচিত হচ্ছে, সেফিয়া নামের একটি রোবট।
এই রোবট টি তৈরী করেছে,হংকং বিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান Hanson Robotics.

এটি সর্বপ্রথম একটিভেট করা হয় ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে। পরবর্তীকালে ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে, এটি বিভিন্ন  দেশ ভ্রমন করা শুরু করে।এইটিকে বিখ্যাত মডেল অভিনেত্রী Audrey Hepburn এর আকৃতি দিয়ে তৈরী করা হয়েছে। এই রোবটটির বৈশিষ্ট হলো, এইটি মানুষের মতোই দেখতে, এবং এটি মানুষের ফেসিয়াল কিছু expression দিতে পারে। আর প্রিডিফাইনড কিছু বিষয়ে সিম্পল কনভার্সেশন করতে পারে। যা এযাবৎ কালে বানানো, অন্য রোবট গুলোর থেকে একটু স্মার্ট এবং আলাদা। এই রোবটটির ব্যাপারটিকে শুধু শুধুই খুব গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে। সাধারণত ইউরোপ আমেরিকা তুচ্ছ বিষয়ে, তারা এমন পাগল প্রায় হয় না। যারা কম্পিউটার বা প্রগ্রামিং বা সফট ওয়্যার নিয়ে কাজ করেন। তারা নিশ্চয় এইটাকে বড় কিছুই ভাবেন না। তারা এর বুদ্ধিমত্তা নিয়ে খুব বেশী অভিভূত হন না। কারণ তারা সবাই মোটামুটি জানেন, এই রোবটের ভিতরে যেই

প্রোগ্রাম সেট করে দেওয়া হয়েঁছে। এই রোবটিক ফেস Exactly তাই, গড়গড় করে বলে যায়। এর বাহিরে তার কোন কিছুই করার নেই। আমাদের দেশ এম্নিতেই সাধারণ বিষয় নিয়ে, ঝড় তুফান তুলে ফেলার ওস্তাদ। রোবট সোফিয়া ক্ষেত্রেও অনেকটা এমন ঝড় তোলার চেস্টা ছিলো অনেকের। আপনাদের সবার নিশ্চয় মনে আছে। গত বন্যায় বংগবাহাদুর নামে, ভারতীয় পথ হারা এক হাতীকে নিয়ে, নানান ধরনের নাটক আমরা দেখেছি। সেই সময় দেশের বড় বড় সব পত্রিকা, প্রথম পেজ জুড়ে এই বংগবাহাদুরের সংবাদ ছাপিয়েছে। যা দেখে আমাদের কেবলই মনে হয়েছে, সারা দেশে বোধ হয়,আর কোন খবর নেই! এদিকে সম্প্রতি একটি খবর শুনে খুবই অদ্ভুত লেগেছে আমার। ব্যাপারটি হলো যে, সৌদি আরবের মতো কনজারভেটিভ একটি দেশে। এমন এক পাগলামীর সাথে তাল মিলিয়ে, সেই সোফিয়া রোবট কে তার দেশের নাগরিকত্ব দিয়ে দিয়েছে। এম্নিতেই সৌদি আরবের কঠোর নিয়ম কানুনের সাথে আমরা মোটামুটি সবাই অবগত আছি। সাধারণত সৌদি আরবে মেয়েরা গাড়ীর ড্রাইভিং করবে, সেইটার অনুমতি নেই। তাছাড়া মেয়েদের ভোটাদিকার সেইদিন মাত্র ২০১৫ দেওয়া হয়েছে। সেই দেশ কিনা, রোবট সোফিয়া কে তার দেশের নাগরিকত্ব দিয়েছেন?  অবশ্য বর্তমান বাদশা সোলেমান,তার ছেলেকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য। পাশ্চাত্য দেশগুলোকে হাত রাখতে, নানা ধরনের আজব আজব কাজ ও কথা বলে যাচ্ছেন। যেমন কিছুদিন আগে সৌদি গ্রান্ড মুফতি বলেছেন। ইসরাইলের সাথে যুদ্ধ করা ঠিক না। আবার সরকারী স্ট্যাটমেন্ট দেওয়া হয়েছে। তারা নাকি মর্ডান মুসলিম রাস্ট্র। সুতরাং তাদের এই সরকার দ্বারা এমন আজব সিদ্ধান্ত আসবে, সেইটা খুব সহজেই বিবেচনা করা যায়। অথচ সৌদি আরব সাধারণ ভাবে, কোন বিদেশী নাগরিক কে নাগরিকত্ব দেয় না। তবে আমার ধারনা, সোফিয়া রোবট কে নাগরিকত্ব দেওয়াটা তাদের কাছে। অনেক বেশী নিরাপদ মনে হয়েছে কয়েকটি কারণে, একে তো এইটা একটা রোবট মহিলা। তার কোন জৈবিক চাহিদা নেই। ফলে এর কোন বংশ বৃদ্ধির ভয় নেই। তারপরে কোন অন্যায় করলে, বা ভালো না লাগলে,এক আছাড় দিয়ে ভেংগে ফেলা যাবে। তখন কেউ কিছু বলতে পারবে না। কেউ বলতে পারবে না যে,মানুষ খুন করা হয়েছে। এপ্রংসে উল্লেখ্য এখন তো প্রায়ই অভিযোগ শোনা যায়, সৌদি আরবে অনেক বাসায় ই, কাজের মানুষের উপরে নির্যাতন করা হয়। সুতরাং সেইসব বিবেচনায় হয়তো, এই রোবট  সোফিয়া মহিলাকে নাগরিকত্ব দিয়েছেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্বশীলগণ। আমাদের দেশে রোবটটির ভিডিওতে যা দেখলাম, প্রধান মন্ত্রী যখন রোবট সোফিয়ার, প্রিসেটেড কনভার্সেশনে অংশ নিলেন, তখন দেখা গেলো। সোফিয়া মানুষের মতো খুব দ্রুত তার expression আনতে পারে না। তারপর হাত পা তো নাড়াচাড়াই করতে পারে না। আর তার মাথার অংশটা দেখলে মনে হঁয়, এই মাত্রই বুঝি, অপারেশন থিয়েটার থেকে এক রোগী চলে এসেছে। এখন আমার প্রশ্ন, রোবট বানিয়েছে ভালো কথা, এর চুল কোথায়?

একজন একট্রেস এর মুখঅবয়ব যখন দেওয়াই হলো। তাহলে চুল দিলে ক্ষতি কি ছিলো? এইটা আমার বুঝে আসে না? সর্বপরি, এই রোবট মানুষের দ্বারা তৈরী এবং নিয়ন্ত্রীত একটি যন্ত্র। এর বাহিরে এইটি কিছুই না। অথচ যিনি আমাদের এমন অসাধারণ এক ব্রেন দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। যিনি এমন একটি  sophisticated  যন্ত্র বানানোর বুদ্ধি দিয়েছেন। তার জ্ঞান আর বুদ্ধি কতোই না বিশাল, আমরা কি তা চিন্তা করি কখনো?

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

বৈষম্য বনাম মানব শক্তি

Rahat Ara

আমি কাঁটাতার বলছি

Rohit Khan fzs

মধ্যবিত্তের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণী

Mir Sehab Amin Anik

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy