Now Reading
১২ কোটি টাকার লজ্জার ক্র্যাশ



১২ কোটি টাকার লজ্জার ক্র্যাশ

[এই পোস্টের লেখককে অনুরোধ জানানো হচ্ছে কমেন্টে এই পোস্টে দেয়া নানা ধরনের তথ্যের রেফারন্স দেয়ার জন্য।]

গ্রামে খুব প্রচলিত একটা কথা আছে। গরীবের ঘোড়া রোগ। এখন আমাদের বাংলাদেশ সরকারের উচ্চাভিলাষের মাত্রাতিরিক্ত বহি:প্রকাশ,বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ দেখছে। এরই অংশ হিসেবে, সরকারের বিপুল পরিমান টাকা খরচ করে, সোফিয়া নামের একটি রোবট ভাড়া করে আনা হয়েছিলো।এতে আমাদের তথ্য প্রযুক্তির কিভাবে কতোটা উন্নতি হবে, আমার সেইটা জানা নেই। বা সরকারের নীতি নির্ধারকগণ কিভাবে কতোটা ফলাফল পাবেন। সেঁইটা তাঁরাই ভালো বলতে পারবেন।তবে গরীব দেশের জনগণের টেক্সের বারো কোটি টাকা দিয়ে, দেশের শিক্ষিত তরুন ছেলেদের অপমান করা, কোন যুক্তিতেই মেনে নিতে পারি না। তার চেয়ে বরং এই পরিমান টাকা দিয়ে, প্রতিবছর আইটি সেক্টরে মেধাবী শত শত বৃত্তিপ্রদান করলে, সেইটা গরীব অথচ অত্যন্ত মেধাবী ছেলেদের মেয়েদের মেধার বিকাশ ঘটানো যেতো।

আমাদের দেশের ছেলেরা হয়তো, এর চেয়েও আরোও স্মার্ট রোবট নিজ দেশে তৈরী করে, সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিতে পারতো। সম্প্রতি রোবট সোফিয়া কে নিয়ে, যমুনা টেলিভিশন তার লাইভ একটি সাক্ষাত্কার প্রচার করেছে দেখলাম। তাতে যা দেখলাম, তাতে মনে হলো রোবটকে যিনি প্রশ্ন করেছেন। তিনি যদি ছেলে হতেন, তাহলে নিশ্চয় ক্র্যাশ খাওয়ার কথাটা কখনোই বলতেন না। কারণ কোন ছেলেই স্বাভাবিকভাবে, কোন জড় বস্তুর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেন না। আমি জানি না, উপস্থাপিকা কিভাবে বুঝলেন, বাংলাদেশের অনেক ছেলে নাকি, রোবট সোফিয়াকে দেখে ক্র্যাশ খেয়েছেন। এখানে অনেক ছেলেই কি উপস্থাপিকার কাছে যেয়ে বলে এসেছেন? যে তারা সোফিয়ার মতো একটি অসম্পূর্ণ সিলিকন ডলের প্রতি তাদের মনে, ক্র্যাশ অনুভূতি পাচ্ছেন? নাকি নিজে নিজেই ধারনা করেই বলে দিয়েছেন? আমরা জানি আমাদের বাংলাদেশের সমাজে, যে শ্রেনীর ছেলে মেয়েরা ক্র্যাশ কথাটা নিয়ে পরিচিত। তারা সবাই মোটামুটি একটি শিক্ষিত শ্রেনী। তারা সবাই বুঝেন ক্র্যাশ কি জিনিস? কি কি পরিস্থিতিতে একটি ছেলে বা মেয়ে ক্র্যাশ খায়। এখানে উপস্থাপিকা বললেন, বাংলাদেশের অনেক ছেলেই নাকি রোবট সোফিয়া কে দেখে, ক্র্যাশ খেয়েছেন। আমার মতে উপস্থাপিকা বাংলাদেশের সব ছেলেদের অপমান করেছেন এবং লজ্জায় ফেলেছেন। তবে তিনি যদি বলতেন,  ১২ কোটি টাকা ভাড়া অনুপাতে  এতো সাধারণ মানের রোবট সেই হিসেবে, ছেলেরা ক্র্যাশ খেয়েছেন। তাহলে সেইটা হয়তো স্বাভাবিক  হতো।

এখানে যেই উদ্দেশ্যে কে সামনে রেখে, উপস্থাপিকা বলেছেন। তাতে আমার তো মনে হয়, ক্র্যাশ শব্দটির যদি প্রান থাকতো। আর ক্র্যাশ শব্দটি শুনতে পেতো।তাকে এমন একটি সম্পূর্ন সিলিকন পুতুলের ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, তাহলে ঐ শব্দটি জায়গায় বসেই হার্ট এট্যাক করে মারা যেতেন। আমার তো ধারনা, মাথায় কোন সমস্যা আছে, এমন কোন ছেলে ছাড়া, কোন সুস্থ্য ছেলে। এমন একটি জড় বস্তুর প্রতি,কখনোই আকর্ষণ অনুভব করবে না। এখানে দেখা, এই রোবটটি খুব বেশী স্মার্ট আমি বলতে পারছি না। তার ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন বাদ দিলে, রোবট সোফিয়া খুব বেশী সাকসেস ফুল নয়। কারণ তাকে উপস্থাপিকা জীজ্ঞাসা করেছেন। আপনার পছন্দের রং কি ? তাতে তার কেন সারা মিলেনি। তবে এইটাও সত্য রোবটটি সব ধরনের একসেন্ট বুঝতে পারেন না। আর সবচেয়ে অবাক লেগেছে এই ব্যাপারটা দেখে, রোবটটি সেলফ মুবমেন্ট করতে সক্ষম নয়। তাহলে তো আপনি আপনার প্রয়োজনীয় কাজ তাকে দিয়ে করাতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে শুধু কঁথা বলার পুতুল দিয়ে আমাদের কি হবে? তবে সিলিকন সেক্স ডলের মতো তার
কোন গোপনাংগ আঁছে কি না, সেইটা আমার জানা নেই।বা সে সেই ধরনের কোন পারপাস সার্ভ করে কিনা, কে জানে?

সূত্রঃ ডেইলী স্টার, প্রথম আলো, যুগান্তর।

About The Author
Mohammad Abubakker Mollah
Mohammad Abubakker Mollah
আসসালামু আলাইকুম । আশা করি সবাই ভালো আছেন।
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment