অন্যান্য (U P)

ক্রিকেট খেলার ফর্মেট সংক্ষিপ্ত করন শেষ হবে কবে?

ক্রিকেট খেলার ফর্মেট সংক্ষিপ্ত করন শেষ হবে কবে?

ক্রিকেট। বর্তমান বিশ্বে ফুটবলের পরে, দ্বিতীয় পপুলার দলীয় খেলা হিসেবে সারা পৃথিবীতে মোটামুটি পরিচিত।এই খেলায় বর্তমান আইসিসির সহযোগী সদস্য রয়েছে, বিশ্বের প্রায় ১০০ টিরও অধিক দেশ। কিন্তু পূর্ন সদস্য বা টেস্ট খেলুড়ে সদস্য রয়েছে মাত্র ১২ টি। এখানে উল্লেখ্য, অতি সম্প্রতি আয়ারল্যান্ড এবং আফগানিস্তানকে টেস্ট মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এখন বাকিরা কবে পূর্ন সদস্য পদ লাভ করবে? সেইটা হয়তো কেহই বলতে পারবে না? তবে বেশ অনেক বছর সময় লাগবে, এইটা নিশ্চিত করে বলা যায়। কারণ বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার বেশ অনেক বছর পরে, নতুন দুইটি দেশ কে টেস্ট মর্যাদা দেওয়া হলো। এখানে অনেকের কাছেই খুব আশ্চর্যের বিষয় মনে হয়, যেই টেস্ট খেলা দিয়ে ক্রিকেট খেলা শুরু।সেই টেস্ট খেলার পূর্ণ সদস্য দেশদলগুলোকে নিয়ে, আইসিসি একটি টেস্ট বিশ্বকাপ কোন দিন চালু করেনি বা চালু করতে পারেনি। তবে আমরা শুনেছি,, আইসিসি একবার টেস্ট বিশ্বকাপ আয়োজনের চিন্তা ভাবনা করেছিলো। পরে তারা হিসাব করে দেখেছেন। প্রায় চার মাসের মত সময় লাগবে। একটি পূর্নাংগ টেস্ট বিশ্ব কাপ আয়োজন করতে। এখন আপনারা একবার ভাবুন তো, চারমাস ধরে একটা টুর্নামেন্ট? কি অদ্ভুত টুর্নামেন্ট ই না হতো সেইটা? তাই না? তাই আইসিসি এইমর্মে সিদ্ধান্তে পৌচ্চোছে যে, এইটা আয়োজন করা সম্ভব নয়। ইদানীং আরেকটি কথা বেশ শোনা যাচ্ছে, সেইটা হলো, আইসিসি টেস্ট ম্যাচগুলো, পাঁচ দিনের স্থলে চারদিন করার চিন্তা ভাবনা করতেছে। এই সিদ্ধান্ত কবে নেওয়া হবে, আর কখনই বা কার্যকর করা হবে। সেইটা সময়ই বলে দিবে। আমাদের কেবল অপেক্ষা করে দেখতে হবে। পৃথিবীতে খুব সম্ভবত ক্রিকেট খেলাই একমাত্র খেলা, যেটার নিয়ম কানুন প্রায়াসই পরিবর্তন করা হয়। এছাড়া এ খেলায় রয়েছে, জটিল আর কঠিন সিদ্ধান্ত দেওয়ার মতো সিচুয়েশন।এই খেলার এল বি ডব্লিউ এমন একটি জটিল বিষয়। এছাড়া কট বিহাইন্ড বা লো ক্যাচ ধরার মতো ঘটনা ঘটলে, প্রযুক্তি ছাড়া সত্য তথ্য আপনাকে কে দিবে? সব খেলোয়ার তো আর হাশিম আমলার মতো সৎ না? তাই আপনাকে যেতে হবে প্রযুক্তির কাছে। একথা সত্যি এল বি ডব্লিওর মতো বিষয়ে, কোন আম্পায়ারের পক্ষেই, সব সময় ১০০ ভাগ সঠিক সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়। যার কারণে অনিবার্য ভাবে, এখানে প্রযুক্তির নিয়মিত ব্যাবহার আমরা লক্ষ্য করি। অদূর ভবিষ্যতে এই খেলায় যদি রোবট আম্পায়ার ব্যাবহার করা হয়। তাহলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না? এছাড়া এই খেলার ব্যাট ও বলের ক্ষেত্রে এসেছে আমূল পরিবর্তন। আজ আমরা যেই মাপের ব্যাট আর বলের খেলা দেখি। সেই মাপের ব্যাট আর বল পরিবর্তন হয়ে আসতে, সময় লেগেছে বহু বছর। আমি কখনোই একটা ব্যাপার বুঝি না, ক্রিকেটে এক ওভারে ছয় বল হলো কেন? যদি প্রতি ওভার পাঁচ বলে ধরা হতো। আর ছয় মারাকে পাঁচ হিসেবে ধরা হতো। তখন আমরা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খেলা দেখার দর্শক হিসেবে, প্রিয় খেলোয়ার পাঁচ মারলে, এক হাতের পাঁচ আংগুল উচিয়ে দেখাতে পারতাম। তাছাড়া ৫০ ওভারের ম্যাচ, পাঁচ বলে এক ওভার, এক বলে সর্বোচ্চ পাঁচ রান, একজন বোলার সর্বোচ্চ ১০ ওভার বল করার অধিকার,ইত্যাদিতে খুব মিল থাকতো। আইসিসির উচিত ছিলো, এই খেলায় পাঁচ সংখ্যার অধিক ব্যবহার নিশ্চিত করা। এদিকে ১৮৪৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের যে যাত্রা শুরু। সেইটার পরির্বতন হতে হতে, প্রথমে টেস্ট। পরে চালু হলো ওডিআই, এই ওডিআই আবার শুরু হয়েছিলো ঘটনা চক্রে। অনেকেই হয়তো জানেন, ১৯৭৩ সালে এসেজ সিরিজের টেস্ট খেলা, বৃস্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ার কারণে, আয়োজকরা এক দিনের একটি ওডিআই ম্যাচ এর আয়োজন করেছিলেন। দর্শকদের টিকেটের পয়সা উসুল করার ব্যাবস্থা হিসেবে। সেই থেকে ওডিআই চালু হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে আইসিসি ওডিআই বিশ্বকাপের আয়োজন করেন। এর পরবর্তীতে ২০০৩ সালে আবার শুরু হয় T 20 এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালে T 10 খেলা হচ্ছে দুবাইতে। যদিও T 10এর আইসিসি কোন টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষনা দেয়নি। তবে যদি দুবাইতে T 10 সাকসেসফুল হয়। তাহলে আইসিসি হয়তো, সেইটা নিয়েও একটা ইন্টারন্যাশনাল টুর্নামেন্ট আরম্ভ করে দিতে পারে। যেমন, হতে পারে T 10 বিশ্বকাপ। এখন আইসিসি যেভাবে সংক্ষিপ্ত ওভারের দিকে ঝুকেছেন।, তাতে দেখা যায়, এর পরে আইসিসির হাতে বাকি থাকবে মাত্র দুইটা টুর্নামেন্ট। একটি হলো আইসিসি T 5 বিশ্বকাপ। এবং আরেকটি হলো আইসিসি Toss বিশ্বকাপ। এখন আমি খুব চিন্তায় আছি, যেভাবে একের পরে এক, ওভার কমিয়ে আনা হচ্ছে। তাতে আইসিসি আবার, শুধু মাত্র Toss বিশ্বকাপ শুরু করে দেয় কিনা? কে জানে? আইসিসি আসলে ক্রিকেট খেলার সময় নিয়ে খুব চিন্তিত। তারা এখন বুঝতে পেরেছেন, ক্রিকেট খেলায় যে অত্যোধিক সয়ম লাগে, সেই কারণেই সারা পৃথিবীতে এক নাম্বার খেলায় পরিনত করা যাচ্ছে না। কারণ সবার কাছেই সময়ের মূল্য আছে। যদিও সময়ের দাম নেই, কেবল আমাদের বাংগালীদের। আর ভারতের ক্রিকেট পাগল কিছু দর্শকদের কাছে। ভারতে এমনও ক্রিকেট পাগল দর্শক আঁছেন, যারা টেস্ট ক্রিকেট পাঁচ দিনের স্থলে, ১০ দিন করা হলেও, তারা খুব উৎসাহ নিয়েই খেলা দেখবেন, তাদের উৎসাহের বরং এতোটুকু ভাটা পড়বে না। এইটা নিশ্চিত করে বলা যায়। প্রকৃত পক্ষে, আইসিসি আন্তরিক ভাবে সময় কমানোর কথা ভাবছেন। এরপরে আইসিসি আবার যদি মনে করেন। আরোও সময় কমানো দরকার। তাহলে, আবার পাঁচ ওভার কমিয়ে, T 10 কে, T5 করে দিতে পারেন। তারপর যদি আইসিসি মনে করেন যে, না Short ফর্মেটে পাঁচ ওভারও বেশী মনে হচ্ছে। তাই পাঁচ ওভারও খেলার দরকার নেই। খেলার মাঠে শুধু টসই হবে।আর Toss হয়েই খেলা শেষ হয়ে যাবে। আইসিসি সেইটাও করলে করতে পারেন। তখন অবশ্য খারাপ হবে না। ধরুন তখন, আইসিসি Toss বিশ্বকাপ চালু করলো। Toss বিশ্বকাপে শুধু টসে টসে খেলা শেষ হয়ে যাবে। তবে টসের সংখ্যা বাড়ানো লাগবে আরকি? যদিও মাঠে তখন কোন বল গড়াবে না। শুধুমাত্র দুই দলের অধিনায়ক মাঠে যেয়ে টস করবেন। টস হবে বহুবার এবং বিজোড় সংখ্যায় Toss হলে ভালো হবে, যাতে কিছুটা সময় লাগে রেজাল্ট আসতে। এই ধরুন এগারো বার Toss করা হলো। জোড় সংখ্যায় টস না করা ভালো। তাতে খেলায়, টাই হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। এই Toss বিশ্বকাপে ম্যাক্সিমাম যে দল টস জিতবে, সেই দলকেই বিজয়ী ঘোষনা করা হবে। সেই ধরনের বিশ্বকাপ হলে,তখন কমন্টেটররা টসের ই ধারাবিবরনী দেওয়া আরম্ভ করবেন। অনেকটা লটারীর টিকেটের ড্র হলে, যেভাবে ডিজিট গুলো নিয়ে, নানান ধরনের কথা বলে মানুষকে একটা টেনশনে রাখেন। এক্সাক্টলী সেইভাবে, ধারাভষ্যকাররা তখন নাটকীয় ভংগীমায়, তার বর্ণনা দিবেন। তখন দেখা যাবে, কোন দল যদি, কয়েক বছর Toss বিশ্বকাপ জয়ী হন। তখন হয়তো বলা হবে, তিন বারের Toss বিশ্বকাপ জয়ী অস্ট্রেলিয়া।বা দুইবারের Toss বিশ্বকাপ জয়ী বাংলাদেশ। বা একবারের Toss বিশ্বকাপ জয়ী ভারত।একবারের Toss বিশ্বকাপ জয়ী পাকিস্তান। পরিশেষে আমি বলবো, T 10 বিশ্বকাপ হলে ভালো। তবে আমরা T 10 এর পরে, আর কোন Short Format এ আমাদের প্রিয় ক্রিকেট খেলাকে,দেখতে চাই না।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

ক্ষনিকের ভালোবাসা…

Maksuda Akter

মৃত্যুর গন্ধ আসে ধীরে……..

Maksuda Akter

মাস্টারদা সূর্য সেন এর জীবনী।

Raj Nandi

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: