Now Reading
ঘুরে আসুন সাজেক



ঘুরে আসুন সাজেক

যারা সাজেক এবং খাগড়াছড়ি যেতে চান, আশাকরি তাদের কিছুটা হলেও কাজে লাগবে। ইতিহাস ঐতিহ্য বা অন্যসব পারিপার্শ্বিক আলোচনায় যেয়ে লিখা বড় করতে চাইনি,শুধু প্ল্যানটাই দিয়েছি,যাতে এটা ফলো করেই ট্যুর শেষ করা যায়।

দিন ০১:

ঢাকা থেকে রাতের বাস খাগড়াছড়ি পৌছবে সকাল ৮টার মধ্যে।শহরের শাপলা চত্বরে নেমে নাস্তা সেরেই রওনা দেবেন সাজেকের দিকে।জীপ এবং বাইক পাবেন শাপলা চত্বরেই, রিজার্ভ যেতে হয়,লোকাল কোন গাড়ি নেই। শাপলা চত্বরের একটু পেছনেই একটি ব্রিজ আছে, ব্রিজের পাশেই সিএনজি স্টেশন, ওখান থেকে সিএনজি রিজার্ভ করতে পারবেন। চাইলে লোকাল সিএনজি-তে দিঘীনালা এসে দিঘীনালা থেকেও বাইক/সিএনজি/জীপ- সাজেক যেতে পারবেন। শান্তি পরিবহণে সরাসরি দিঘীনালা এসে দিঘীনালা থেকেও যেতে পারেন। খাগড়াছড়ি -সাজেক ৩ ঘন্টা সময় লাগে।পথে মাচালং বাজারে নেমে নাস্তা করে নিতে পারেন। সাজেকে নেমেই হোটেলে চেক ইন দিয়ে খাবারের অর্ডার করে নেবেন,অর্ডার না করলে সাজেকে এমনিতে খাবার পাওয়া যায়না।রুইলুই পাড়ায় বেশকিছু রেস্টুরেন্ট পাবেন যারা খাবার করে দেয়। ফ্রেশ হয়েই ঘুরে আসতে পারবেন হেলিপ্যাড ১,২ এলাকা থেকে।বিকেলটা রুইলুই পাড়াতেই কাটাবেন।

দিন ০২:

খুব ভোরে উঠেই কংলাক পাড়ায় চলে যাবেন,হেটে যেতে ৩০-৪০ মিনিট লাগবে।কাঁচা রাস্তা এবং কিছুটা পাহাড় আছে তাই ভালো গ্রিপ আছে এমন জুতো পড়ে যাবেন। রুইলুই পাড়ার ২নং হেলিপ্যাডের পাশ দিয়ে সোজা উত্তরে একটি রাস্তা চলে গেছে,সেই রাস্তা ধরে এগুলেই কংলাক পাড়ায় পৌঁছে যেতে পারবেন। কংলাক আগে মূলত লুসাই এবং পাংখোয়া অধ্যূষিত পাড়া ছিলো।এখন পাংখোয়া নেই বললেই চলে,কিছু লুসাই পরিবার আছে।আর আছে ত্রিপুরা। কংলাক সাজেকের সর্বোচ্ছ চূড়া। কংলাকে কারো বাসায় ঢুকতে চাইলে বিনা সংকোচেই ঢুকতে পারেন,তবে ঢুকার আগে অনুমিত নেয়া ভালো।আর অবশ্যই জুতোজোড়া বাহিরে রেখে! ওদের রুম গুলো অনেক পরিপাটি এবং গোছানো থাকে। যেকোন কারো সাথেই ছবি তুলতে পারবেন,আগে অনুমতি নিয়ে নেবেন। চাইলে কংলাক থেকে আরো সামনের দিকে যেয়ে ঘুরে আসতে পারেন।কিছুদূর গেলে কমলা বাগান দেখতে পারবেন। ঘুরে এসে দুপুরের আগেই গাড়িতে উঠবেন,আসার পথে বাঘাইহাট এলাকায় হাজাছড়া ঝর্ণা দেখে আসবেন।রাস্তা থেকে ১০-১৫ মিনিট হাঁটলেই ঝর্ণায় যাওয়া যায়,যাওয়ার পথে তেমন কোন পাহাড় নেই তাই যে কেউই যেতে পারে। দিঘীনালার লারমা স্কয়ারে নেমে উপজাতি রেস্টুরেন্ট -এ লাঞ্চ সেরে নিতে পারেন। গাড়ি খাগড়াছড়ি পৌছবে সন্ধ্যার আগেই।খাগড়াছড়িতে রাত্রিযাপন।

দিন ০৩ঃ

সকালে শহরের শাপলা চত্বর থেকে জীপ রিজার্ভ নিয়ে চলে যাবেন রিসাং ঝর্ণায়,সাথে করে দুএকটা পুরনো জিন্স প্যান্ট যেগুলো ফেলে দেয়ার সময় হয়েছে এমন প্যান্ট নিয়ে যাবেন,কাজে লাগবে! ঝর্ণা থেকে আসার সময় আলুটিলা প্রাকৃতিক সুড়ঙ্গ দেখে আসবেন।সুড়ঙ্গে ঢোকার জন্য মশাল কিনতে পারবেন ওখান থেকেই,তবে মোবালের ফ্ল্যাশলাইটই সবচেয়ে ভালো,মশালের আলোতে কিছুই দেখা যায়না,ওইটা শুধু সুড়ঙ্গের ভেতরে ছবি তোলার কাজে লাগে! grin emoticon ফিরে এসে শহরের পানখাইয়া পাড়ায় “সিস্টেম ” রেস্টুরেন্ট-এ লাঞ্চ। বিকেলে শহরের পাশের জেলাপরিষদ পার্কে পাহাড়, ঝুলন্ত ব্রিজ এবং লেকে বিকেলটা কাটিয়ে রাতের বাসে ঢাকা,রাতের সব বাস একসাথেই রাত ৯ টায় ছাড়ে।সব গুলো বাসের কাউন্টারই শহরের নারকেল বাগান এলাকায় পাবেন।

*যাদের ট্রেকিং-এর অভিজ্ঞতা আছে তারা একদিন সময় বেশি নিয়ে দিঘীনালার তৈদুছড়া ঝর্ণা এলাকা ঘুরে আসতে পারেন,একই এলাকায় বেশ কয়েকটি ঝর্ণা পাবেন,যাওয়ার ঝিরিপথটাও অনেক সুন্দর! সকালে রওনা দিলে ফিরতে বিকেল হবে,পুরো পথটাই হেটে যেতে হয়।গাইড নিতে হবে সাথে না হয় চিনবেন না।

*আরো একদিন বাড়তি সময় থাকলে ঘুরে আসতে পারেন সিজুক ১,২ ঝর্না থেকে।সাজেক রোডের নন্দারাম এলাকা হয়ে যেতে হবে ঝর্নায়।৬-৭ ঘন্টার ট্রেকিং আসাযাওয়ায়।গাইড নিতে হবে সাথে।ওখানে স্থানীয় লোক পাবেন ৩০০-৪০০ দিলে ঘুরিয়ে আনবে।

যাবেন যেভাবে :

ঢাকা থেকে এস আলম,সৌদিয়া,শ্যামলী, ঈগল,ইকোনো,সেন্টমার্টিন (এসি)এবং শান্তি পরিবহনের বাস আসে খাগড়াছড়ি।দিঘীনালায় শুধু শান্তি পরিবহণ আসে। ঢাকা-খাগড়াছড়ি ভাড়া ৫২০ টাকা,এসি ৮০০ টাকা।ঢাকা-দিঘীনালা ৫৭০ টাকা। চট্রগ্রাম থেকে ১ঘন্টা পরপর শান্তি পরিবহণ ছাড়ে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে,সকাল ৬/৭ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পাবেন,তবে বিকেল ৫টার পরে লাস্ট বাস ৮টায়,এর মাঝে আর বাস নেই। চট্রগ্রাম -খাগড়াছড়ি ভাড়া ১৯০ টাকা, চট্রগ্রাম-দিঘীনালা ২৪০ টাকা। খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক জীপ রিজার্ভ পাবেন ৯০০০+,একদিন দিয়ে আসবে,আবার যেদিন ফিরবেন সেদিন যেয়ে নিয়ে আসবে এবং আশপাশের স্পট ঘুরে দেখানোর জন্য এই ভাড়া।সকালে গিয়ে বিকেলে ফিরে আসলে ৫০০০+। দিঘীনালা-সাজেক ৭০০০+,দিনে দিনে ফিরে আসলে ৪০০০+।বাইক পাবেন দিঘীনালা-সাজেক একবার দিয়ে আসার জন্য ৬০০+ নিবে,দুইজন যাওয়া যায় এক বাইকে।বলে রাখলে যেদিন ফিরবেন সেদিন গিয়ে নিয়ে আসবে। সাধারণত সাজেকে কোন পরিবহণ পাওয়া যায়না,তাই যে গাড়িতে যাবেন তাদের সাথে কথা

About The Author
Raj Nandi
Raj Nandi
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment