Now Reading
কোন খাবারের অভ্যাস সন্তানের প্রতি, চাপিয়ে দিবেন না।



কোন খাবারের অভ্যাস সন্তানের প্রতি, চাপিয়ে দিবেন না।

কোন খাবারের অভ্যাস সন্তানের প্রতি,চাপিয়ে দিবেন না।

স্বাভাবিক ভাবে কোন মানুষ, সব ধরনের খাবার খাওয়ার অভ্যাস নিয়ে জন্মায় না। জন্মের পরে অটোমেটিক্যালি পরিবারের অনেক পছন্দ অপছন্দ জিনিস ছেলে বা মেয়েরা ধারণ করে। খাবারের অভ্যাসের ক্ষেত্রেও এক্সাক্টলি সেইম।
স্বাভাবিক ভাবে ছোট বাচ্চারা মিস্টি জাতীয় খাবারই, খেতে পছন্দ করে বেশী। আর সেভোরি টাইপের খাবারও পছন্দ করে, যেটি ঝালও না বা মিস্টিও না। ধীরে ধীরে বয়স বাড়ার বাড়ার সাথে সাথে পছন্দের পরিবর্তন হতে থাকে। সন্তান মোটামুটি বুঝের না হলে,ঝাল, টক, তিতা এসব খাবার খুব সহজে খাওয়া শিখে না। এসব স্বাদের খাবার অনেক বয়স হলে পরে খেতে শিখে। আমাদের দেশে পরিবার ভেদে, ঝাল বা টক কম বেশী সব পরিবারেই খেয়ে থাকি? সেই ধরনের খাবার অনেক সময় দেখা যায়, অনেক বাবা মা, সন্তানদের জোড় করে খাওয়ানো শিখানোর চেস্টা করেন। অনেক পরিবার ঝাল খাওয়ানোর ব্যাপারে সন্তানদের প্রেসার ক্রিয়েট করেন। পরিস্থিতি এমন করেন, যেটার বিকল্প থাকে না,সন্তানের অন্যটা বেছে নেওয়ার। সন্তান বাধ্য হয়ে সেই অভ্যাস গড়ে তোলে।সেইটা করা আসলে ঠিক না। তবে অনেক পরিবারই নানান পরিস্থিতির কারণে, যেমন আর্থিক দুরবস্থার কারণে, বাবা মা তাদের ছেলে মেয়েদের, তাদের নিজেদের মতো অভ্যাসে গড়ে তুলতে চান। কোন কোন সময় দেখা যায়, পরিবারের সকল সদস্যই খুব বেশী ঝাল দিয়ে, রান্না করা তরকারী খেতে পছন্দ করেন।তাই তারা পরিবারের সবাই মিলে চান তাদের সন্তান যেন, প্রচুর ঝাল খাওয়ার অভ্যাসে বেড়ে উঠুক। আবার অনেক পরিবারে টক খাবার খেতে খুব পছন্দ করেন। তারা চান সন্তান যেন, তাদের মতো টক খাবার পছন্দ করুক। তবে আবার সব কিছুই যে ছেলে মেয়ে মেয়ের ইচ্ছের উপরে ছেড়ে দিবেন। সেইটাও কিন্তু পারবেন না। কারণ ছোট বয়সে কোন ছেলে মেয়েই বোধ করি, বিশেষ করে ঝাল খাবার খেতে খুব একটা চান না। কোন কোন পরিবারে আবার সন্তানের জন্য আলাদা কিছু তৈরী করবে, সেই সামর্থ অথবা পরিবেশ পরিস্থিতিও অনেক সময় থাকে না। তাই পরিবারের সবাই বাধ্য হয়েই, প্রেসার দিয়ে ঝাল খাবার খাওয়ান। এই সমস্যটা সাধারণত পরিবারে মেয়ে সদস্যরা একটু বেশী মোকাবিলা করেন। অনেক সময়ই দেখা যায়, বিশেষ করে গ্রামের মেয়েদের ক্ষেত্রে, মেয়ে হয়ে যদি বলেন, ঝাল খাবার আমি খাব না। আর যদি সেই মেয়ে, গরীব ঘরে জন্মান। তাহলে তো মেয়ের মা বলবেন, কোন লাট সাহেবের বেটি উনি, ঝাল খেতে পারবেন না? তাকে বিয়ে করার জন্য কোন রাজার পুত্র অপেক্ষা করছে? যে উনি ঝাল তরকারী খেতে পারবেন না? তার জন্য কে,পোলাও কোরমা নিয়ে বসে আছে?তোকে ঝাল তরকারী দিয়েই ভাত খেতে হবে। পরে মেয়েটি উপায় অন্ত না দেখে,খুব অপছন্দ হলেও, কস্টো করে ঝাল খাবার খেয়ে নেন নিরবে। সাধারণত মেয়েদের ক্ষেত্রে মায়েরা, শশুর বাড়ীর,একটু বেশী আগাম প্রস্তুতি হিসেবে, সব জটিল আর কঠিন পরিস্থিতির জন্য রেডি করতে চান। কারণ মেয়েটির মা বা নানী কোন কালে হয়তো, বৈরী একটা পরিবেশে সংসার করেছে। সেখানে তার নানী হয়তো ঝাল খাবার খেতো বলে, কস্ট পেয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার ইতিহাস মেয়েটির মা হয়তো জানে। তাঁই সে মনে মনে ভাবে, আমার মেয়ে যেন, পরের বাড়ী যেয়ে, এমন অসুবিধায় না পড়ে। তাই তার এতো কঠিন ভাবে বলা। এই কাজটি করছেন, হয়তো মেয়েটির ভালোর জন্যে। কিন্তু মেয়েটি হয়তো বুঝতে চাচ্ছে না। ঐ ধরনের পরিস্থিতিতে আবার অনেক সময় দেখা যায়, পরিবারে মায়ের এক্সট্রা কেয়ারে বড় হওয়া ভাইটিও মায়ের পক্ষ নিয়ে, নিজের বোনকে দুই চারটা চর থাপ্পর দিয়ে, বুঝিয়ে দেন How powerful he is? এবং বলেন এই ঝাল তরকারী দিয়েই তোকে ভাত খেতে হবে। অনেক মায়েরাই তাদের একটি ছেলে আর একটি মেয়ে থাকলে, ছেলের প্রতি একটু বেশী পক্ষ পাতিত্ব আচরণ করেন, ছেলেকে খুশী রাখার চেস্টায় ব্যতিব্যস্ত থাকেন মায়েরা। ছেলেকে একটু বেশী খেতে দেন, বা তার চাহিদার প্রতি বেশী খোঁজ রাখেন। ছেলের মর্জিটা একটু বেশী রাখার চেস্টা করেন। কারণ তিনি হয়তো মনে মনে ভাবেন, এই ছেলেই আমার ভবিষ্যত। মেয়ে তো, দুইদিন পরে বিয়ে দিলে পরের বাড়ী চলে যাবে। তাই তার আশা করে কোন লাভ নেই। এই ধরনের আচরণ কোন মায়েরই করা উচিত না। এছাড়া খাবার দাবাবের ক্ষেত্রে, আমার মতে ছেলে মেয়েদের প্রতি প্রেসার না দিয়ে, বুঝিয়ে শুনিয়ে, বিভিন্ন ধরনের খাবারে অভ্যস্ত করালেই ভালো।
তবে ইদানীং শহরে বড় হওয়া ছেলে মেয়েরা কাটাওয়ালা বা ছোট মাছ খেতে তেমন পছন্দ করেন না। আমি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখেছি। আর তিতা খাবার মানেই তো করোলা। সেই করোলা খায় এমন ছেলে মেয়ে খুব কমই দেখেছি। তবে একটা লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো, এখনকার ছেলে মেয়েদের কাছে খাবারের যেমন বিকল্প ব্যাবস্থা রয়েছে বা বৈচিত্র পূর্ণ খাবার সহজলভ্যতা রয়েছে। একটা সময় ছিলো এদেশে খাবারের এতো বৈচিত্র ছিলো না। মানুষ অল্প কিছু খাবারের মধ্যেই তাদের পছন্দ কে সীমাবদ্ধ রাখতো।
যেটা এখন হাজারও পছন্দের ব্যাপারে পৌছেছে। ইচ্ছে করলেই ছেলে মেয়েরা তাদের পছন্দ মতো খাবার খেতে পারেন।

About The Author
Mohammad Abubakker Mollah
Mohammad Abubakker Mollah
আসসালামু আলাইকুম । আশা করি সবাই ভালো আছেন।
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment