অন্যান্য (U P)

মানব শরীরের যত ক্রিয়াকলাপ

আমাদের দেহ কেমন করে কাজ করে? কেমন তার জটিলতা ? কোথায় কোনটি থাকে? কার কাজ ই বা কি ? সহজভাবে তা নিয়ে খুব একটা লেখালেখি হয়েছে বলে মনে হয় না। ব্লগে তো নয়ই। অথচ প্রত্যেকেরই এই গাড়ি নিয়ে নিত্য কারবার। স্কুল-কলেজে biology না থাকা ব্লগার তো কম নয় বলেই ধারনা। আবার biology তে Human biology নিয়ে খুব বিস্তারিত আলোচনা হয় না। শারীরবৃত্তীয় নানা খুটিনাটি, যা আমাদের অগোচরে সর্বক্ষন কাজ করে যাচ্ছে তার কিছু ধারনা দেবার চেষ্টায় এই পোষ্ট।

লেখাটাতে যেটা বেশী প্রচলিত বা সহজবোধ্য সেই term ই ব্যবহার করা হয়েছে, English বা বাংলা যেটাই হোক। অন্যটি প্রয়োজনে ব্রাকেটে দেয়া আছে। আর সহজবোধ্য করার জন্য technical details ও কিছুটা পরিহার করা হয়েছে।

Respiratory System (শ্বষন তন্ত্র)

প্রথমেই দেখা যাক শ্বাস-প্রশ্বাস কিভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। আমরা প্রতিবার প্রায় আধা লিটার(৫০০ মি.লি.) বাতাস নিঃশ্বাসে গ্রহন করি, আবার আধা লিটার বাতাস ছেড়েও দেই। প্রায় সকলেরই জানা আছে, নেওয়ার সময়ে অক্সিজেন এবং ছাড়ার সময়ে কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়। এভাবে মিনিটে স্বাভাবিক অবস্থায় ১২-১৮ বার শ্বাস-প্রশ্বাস চলে যা আমাদের মনের অজান্তেই চলতে থাকে। অর্থাৎ মিনিটে আমরা প্রায় ৬ লিটার বাতাস গ্রহন করে থাকি। বায়ুমন্ডলে কিন্তু মাত্র ২১% অক্সিজেন। অবশিষ্ট সিংহভাগই নাইট্রোজেন। উদ্ভিদের প্রয়োজন তো আছেই (যা মূলতঃ এই নাইট্রোজেন) মানুষের জন্যও এটা ক্ষতিকর হোত যদি ২১% অক্সিজেনের বদলে বায়ুমন্ডল ১০০% অক্সিজেন দিয়ে পূর্ন থাকত।

এই অক্সিজেন নাকের ছিদ্র দিয়ে ঢোকার সময়ে নাকের পশম আবর্জনাকে কিছুটা filter করে, আরও ছোট ছোট ধুলিকনাকে filter করার জন্য আরেকটু অভ্যন্তরে শ্বাসনালীর গায়ে অতি সূক্ষ রোমের মত cilia থাকে। এসবের ফলে আবর্জনা বের করার জন্য সময়ে সময়ে যে হাচি দেয়া হয় তার গতিবেগ ঘন্টায় প্রায় ৯৬৫ কি.মি. বা ৬০০ মাইল। কাশির সময়েও এই গতিবেগে বাতাস বের করা হয়।

এরপর আরও খানিকটা পথ পাড়ি দিয়ে একদম ফুসফুস পর্যন্ত চলে যায় এই বাতাস। ফুসফুসে রয়েছে অসংখ্য বায়ু কুঠুরি বা alveoli। এই alveoli এর চারপাশের দেয়ালের অপর প্রান্তে জালের মত রক্তনালীর শাখা বিদ্যমান থাকে যার ফলে অক্সিজেন এই alveoli থেকে রক্তে মিশে যায়, অপরদিকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড রক্ত থেকে এই alveoli এ চলে আসে। লক্ষনীয় যে একই জায়গায় অক্সিজেন ফুসফুস থেকে রক্তে চলে যাচ্ছে অপরদিকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড রক্ত থেকে যাচ্ছে ফুসফুসে। আবার এই অক্সিজেন রক্তের মধ্যে হিমোগ্লোবিনের সাথে সংযুক্ত হয়ে যখন দেহের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র cell (কোষ) এর পাশ দিয়ে যায়, তখন কিন্তু অক্সিজেন হিমোগ্লোবিনের থেকে পৃথক হয়ে কোষের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে। সেই সাথে cell থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড রক্তে মিশে যাচ্ছে ( হিমোগ্লোবিনের সাথে নয়)। এখানে জটিল কিছু প্রক্রিয়া কাজ করছে বলে এটা সম্ভব হচ্ছে। Pressure difference এবং অক্সিজেন ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড প্রত্যেকের নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য আছে বলেই এ রকম খাপে খাপ ঘটনা ঘটে। আর ফুসফুসের যে পরিমান জায়গা জুড়ে এই গ্যাসীয় আদান প্রদান চলে তার আয়তন একটা প্রায় ১৮ফুট বাই ২০ফুট ঘরের সমান।

Cardiovascular (হৃদযন্ত্র) System

এখন জানা যাক আরেক গুরুত্বপূর্ন সিস্টেম রক্ত সরবরাহ এবং Heart এর কথা।

আমাদের হৃদপিন্ডে চারটি chamber আছে। দুইটি Ventricle দুইটি Atria.

হৃদপিন্ডের ডানদিকে উপরে থাকে Right atria তার নিচে Right Ventricle. সমস্ত শরীর থেকে দূষিত অর্থাৎ কার্বন-ডাই-অক্সাইড যুক্ত রক্ত এই Right atria তে এসে জমা হয়। Right atria বলা চলে একটা Collecting chamber. এখান থেকে রক্ত সাথে সাথে Right Ventricle এ পাঠিয়ে দেয়া হয়। Ventricle গুলোর পাম্প করার ক্ষমতা থাকে যা Atrium এর অতটা থাকে না। Right Ventricle থেকে এই রক্ত একটা মোটা রক্তনালী (Artery) দিয়ে Lungs (ফুসফুসে) এ চলে যায়। Lungs এ গিয়ে এই রক্ত সমস্ত ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশে ছড়িয়ে পড়ে। রাজপথ যেমন ছোট রাস্তায়, তার পর আরেকটু ছোট রাস্তায় এরপর গলিতে ভাগ হয়ে যায়, Artery গুলোও ছোট হতে হতে সবশেষে Capillary –তে পরিনত হয়। এই অতিক্ষুদ্র Capillary, Lungs এর ক্ষুদ্রতম অংশ Alveoli এর চারপাশ ঘিরে অবস্থান করে এবং Alveoli থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিয়ে নেয় আর অক্সিজেন চালান করে দেয়।

অর্থাৎ সমস্ত শরীরের কার্বন-ডাই-অক্সাইড যুক্ত রক্ত Right atria সংগ্রহ করে ফুসফুসে পাঠিয়ে দেয় যার ফলে রক্ত সেখানে গিয়ে কার্বন-ডাই-অক্সাইড মুক্ত হয়ে অক্সিজেন এ ভরপুর হয়ে ফিরে আসে Left atrium এ। এই Left atrium থেকে আবার Left Ventricle হয়ে সমস্ত শরীরে রক্ত পৌছে যায়। অক্সিজেনে পরিপূর্ন রক্ত পৌছে যায় মস্তিষ্কে, পাকস্থলী এবং অন্ত্রে (Intsetine) , কিডনীতে এবং অন্যান্য অঙ্গে, মাংসপেশীতে, ত্বকে। চোখে,নাকে,অস্থির জোড়ায় জোড়ায় (Joint) ও এই রক্ত পৌছে দেয় অক্সিজেন এবং আরো কিছু উপাদান (পুষ্টি) । এই ভাবে সমস্ত cell এর চারপাশ ঘিরে capillaryর network রক্ত চলাচল করে চলেছে। সমস্ত শরীরে যে পরিমান capillary আছে তার surface area একটা ফুটবল মাঠের সমান। অর্থাৎ এত বিশাল জায়গা জূড়ে সে gas exchange করছে, খাদ্য আদান-প্রদান করছে।

এ কারনে হার্ট কিছুক্ষন বন্ধ থাকলেই এই রক্ত চলাচল তথা অক্সিজেন সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। প্রথমেই আক্রান্ত হয় মস্তিষ্ক। কয়েক সেকেন্ড অক্সিজেনের ঘাটতিতেই মস্তিষ্ক সাময়িক ভাবে বিকল হয়ে যায়, পরিনামে মানুষ অচেতন হয়ে পড়ে। আরো বেশীক্ষন এই ঘাটতি চলতে থাকলে মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যায়, প্রানে বেচে গেলেও এই ঘাটতি আর পূরন হয় না।

হার্ট মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ বার (যেটা অনেকের কাছে মিনিটে ৭২ বার বলে জানা আছে) পাম্প করে সমস্ত শরীরে রক্ত সরবরাহ করে। কারো যদি ৬০ বার পাম্প করে, তবুও এটা যথেষ্ট আবার কারো ১০০ বার করলেও এটা স্বাভাবিক।

সাধারনতঃ ঘুমের সময়ে হৃদস্পন্দন কমে আসে আবার উত্তেজিত অবস্থায় এটা বেড়ে যায় কারন শরীরের চাহিদা বেড়ে যায়। যেমন জ্বরের সময়, অথবা দৌড়ের সময় মাংসপেশীতে অনেক রক্ত সরবরাহ করতে হয়। যারা ব্যয়াম করে অভ্যস্ত (athlete) তাদের স্বাভাবিক ভাবেই হৃদস্পন্দন কিছুটা কম থাকে কারন তাদের হার্টের মাংসপেশী কিছুটা সবল থাকে যার ফলে একবার পাম্পেই অনেকটা রক্ত পাঠিয়ে দেয়। তবে গড়ে প্রতিবার হার্ট প্রায় ৭০ মি.লি. রক্ত পাম্প করে। এভাবে কারু হার্ট ৮৫ বার পাম্প করলে মিনিটে প্রায় ৬ লিটার রক্ত হার্ট থেকে সমস্ত শরীরে যাচ্ছে। চাহিদা বেড়ে গেলে হার্ট মিনিটে এমনকি ১৫০ বার পর্যন্ত পাম্প ও করে থাকে। অর্থাৎ চাহিদা অনুযায়ী যদি ১৫০ বার Heart Beat হতে থাকে তাহলে প্রায় ১০ লিটার রক্ত প্রতি মিনিটে হার্টের মধ্যে দিয়ে ঘুরতে থাকে। এই রক্ত কিন্তু একই রক্ত। Total রক্তের পরিমান একই থাকছে ( ভিন্ন পরিস্থিতিতে সেটা যদিও বাড়ে)। অর্থাৎ একই রক্ত বারবার হার্ট হয়ে ফুসফুসে যাচ্ছে বেশী বেশী অক্সিজেন আনার জন্য। এই অবস্থায় নিঃশ্বাস ও ঘন হয়ে যায় বেশী অক্সিজেন ভিতরে পাঠিয়ে ভেতরের অতিরিক্ত জমে যাওয়া কার্বন-ডাই-অক্সাইড দ্রুত খালি করার জন্য।

Blood Circulation System (রক্ত সঞ্চালন তন্ত্র)

শরীরের মোট রক্তের পরিমান প্রায় ৫ লিটার। এর মধ্যে ৫৫% বা প্রায় ৩ লিটার জলীয় অংশ বাকী ৪৫% Cellular component বা কোষ। রক্তের মধ্যে তিন ধরনের কোষ থাকে। Red Blood Cell / RBC বা লোহিত রক্ত কনিকা অক্সিজেন আদান প্রদান করে থাকে, রক্তে আরও দুই প্রকারের cell আছে। White Blood Cell/WBC (শ্বেত রক্তকনিকা) এবং Platelet (অনুচক্রিকা)। বলা বাহূল্য এদের মধ্যে RBC সবচেয়ে জরুরী কাজটি করে কিন্ত অন্যরাও গুরুত্বপূর্ন। WBC আমাদের শরীরের প্রহরীর ভূমিকা পালন করে, অর্থাৎ রোগজীবানু প্রবেশ করলে তাদের প্রতিহত করে (এই কাজের মধ্যেও অনেক আকর্ষনীয় দিক আছে)। আর Platelet এর কাজ মূলতঃ রক্ত জমাট বাধা। যেমন রক্তনালী ছিড়ে গেলে Platelet আরো কিছু বাহিনীর সহায়তায় এটা আটকে দেয়।

RBC এর life span বা আয়ুষ্কাল ১২০ দিন বা চার মাস। এ কারনেই চার মাস পরপর রক্তদানের অনুমতি দেয়া হয়। যদিও যেই রক্ত দেওয়া হচ্ছে তার মধ্যে সব বয়সী RBC ই বিদ্যমান থাকে তবে ৪৫০ মি.লি. রক্ত দিলে শরীর সেটাকে পুষিয়ে নিতে সক্ষম। পুরুষের দেহের ওজনের প্রায় ৬০% (মেয়েদের ওজনের ৭০%) জলীয় অংশ। অর্থাৎ ৬০ কেজি ওজনের একজন পুরুষের জলীয় অংশই ৩৬ কেজি।

WBC এর অবস্থা যা বলছিলাম; শরীরে Foreign body বা শত্রুবাহিনী ঢুকলে প্রথমে এদের মধ্যে একদল এগিয়ে আসে। এরা পারলে তো ভাল নইলে দ্বিতীয় সারির দল কে খবর দেয়, শত্রুর প্রকৃতি বর্ননা করে। দ্বিতীয় দল সেইভাবে প্রস্ততি নিয়ে শত্রুর উপর ঝাপিয়ে পড়ে। এমনকি আরেকদল এই যুদ্ধক্ষেত্রের চারপাশ ঘিরে ফেলে যেন শত্রুবাহিনী খাদ্যের যোগান না পায়। এক পর্যায়ে কুপোকাত করে ফেলার পরও তার কাজ শেষ হয় না। সে একটা memory cell করে রাখে যেন পরবর্তীতে এ ধরনের শত্রু আসলে নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত যুদ্ধ শুরু করে দিতে পারে। এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা যায় সারা জীবন সে এই শত্রুকে মনে রাখে ( যেমন chicken pox এর জীবানু , যার ফলে একজনের দ্বিতীয়বার আর chicken pox হয়না, গুটিকয়েক ব্যতিক্রম ছাড়া)। রক্ত বন্ধ করবার জন্যও এরকম কয়েক স্তরের ব্যবস্থা আছে। Platelet এদের প্রধান বলা চলে। আর যে সমস্ত উপাদান একাজে নিয়োজিত তাদের মধ্যে কিছু Coagulation Factors রয়েছে যার বেশীরভাগ Liver থেকে তৈরী হয়। একারনে Liver এর রোগে ( Especially Cirrhosis) অতিরিক্ত রক্তক্ষরন হয়ে থাকে যেহেতু রক্তকে জমাট রাখার উপাদান তৈরী হতে সমস্যা হয়।

আর একটি জিনিষ জানিয়ে প্রথম পর্ব শেষ করছি। রক্ত থেকে কোষে কোষে এই আদান প্রদান করার জন্য Blood Pressure একটা মূখ্য ভূমিকা রাখে। বলাই বাহুল্য pressure যদি fall করে তবে পুরো সিস্টেম ই collapse করে যায়। তবে এর মধ্যেও গুরুত্ব অনুযায়ী শরীর আচরন করে থাকে। যেমন Brain যেহেতু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন সেহেতু Brain এ রক্ত পৌছানোর জন্য শরীর সবচেয়ে সচেষ্ট থাকে। দরকার হলে লোড-শেডিং এর মত অন্য জায়গায় রক্ত চলাচল বন্ধ করে দেয়। শুরুতেই Skin এ বন্ধ করে দেয়, মাংসপেশীতে বন্ধ করে দেয়। এরপর kidney তে বন্ধ করে দেয়। এজন্য দেখা যায় কারু ডায়রিয়া বা প্রচুর রক্তক্ষরন হলে হাত পা ঠান্ডা হয়ে যায়, কিছু পরে প্রসাবও বন্ধ হয়ে যায়। Brain, Heart, Lungs এগুলোতে কিন্তু শেষ সময় পর্যন্ত রক্ত সরবরাহের চেষ্টা চলতে থাকে।

Gastro Intestinal ( পরিপাক তন্ত্র )

সেই যে একটা ছোটদের গল্প ছিল, হাত পা মুখ সব একদিন মিটিং এ বসল এই কারনে যে সব খাবার তো খায় পেটে অথচ কাজ করি আমরা। সুতরাং সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিল, আজ থেকে সবাই হরতাল করবে। হাত খাবার তুলে দেবে না, মুখও সেটা গিলবে না, পা খাবারের ত্রিসীমানায় ও যাবে না। কদিন পর দেখা গেল, হাত আর মুঠিও করতে পারছে না, পা আর চলছে না, মুখের সব বকবক বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তখন এরা সবাই বুঝতে পারলো আসলে পেট একাই খাবার খেত না, সবাই সেই খাবারের ভাগীদার ছিল ।

সত্যিকার অর্থেই, আমরা তো মজার মজার খাবার খেয়েই খালাস। অথচ জানাও নেই এরপর কত শত mechanism কাজ শুরু করে দিচ্ছে। প্রথমেই ধরা যাক saliva বা লালার কথা। খাবার দেখলেই এমনকি খাবারের কথা চিন্তা করার সাথে সাথেই লালার production বেড়ে যাচ্ছে, এমনকি পেটের মধ্যে পাচক রস (Gastric juices) নিঃসরন (secretion) হতে শুরু করে। প্রধানতঃ যেটা নিঃসরন হয় তা হোল হাইড্রোক্লরিক এসিড যা প্রোটিন হজমে কাজ করে। এছাড়াও আরও কিছু পাচক রস (Gastric juices) নিঃসরন (secretion) হয় আলাদা আলাদা ভাবে চর্বি (fat) এবং শর্করা (carbohydrate) হজমের জন্য। সাধারন ভাবে হজম বলতে সাধারন মানুষ যা বুঝে থাকে তা আসলে Digestion (?বিপাক) এবং Absorption (শোষন) এই দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত।

প্রথমে খাবার মুখের মধ্যে লালার মাধ্যমে পিচ্ছিল হয়ে যায় এবং গিলতেও সাহায্য করে। গলাধঃকরন পর্যন্ত তো আমরা সহজেই বুঝি কিন্তু এরপর আমাদের আর কোন নিয়ন্ত্রন থাকে না। শুরু হয়ে যায় peristalsis নামে এক চলমান প্রক্রিয়া যা খাবার কে গলা থেকে নামিয়ে পেট পর্যন্ত নিয়ে যায়। এরপর সেই হাইড্রোক্লরিক এসিড কাজ শুরু করে, এবং কাজ শেষ করে খাবার কে সামনে ঠেলে দেয়। সাধারনতঃ পেট থেকে এই খাবার বের হতে ৩ ঘন্টা সময় লাগে। পেট থেকে খাবার প্রবেশ করে অন্ত্রে ( Intestine)। এই Intestine কে small ও Large দুই ভাগে ভাগ করা হয়। Small Intestine ৬ মিটার এবং Large Intestine ১.৫ মিটার লম্বা। Large Intestine ই মূলতঃ Colon নামে পরিচিত। আমরা গরু-খাশী জবাইয়ের পর পেটের মধ্যে এধরনের জিলাপীর প্যাচ হয়তো দেখে থাকতে পারি। এভাবে একজন ৫-৬ ফুট লম্বা মানুষের পেটে প্রায় ২৫ ফুট লম্বা জিলাপীর প্যাচ খাদ্য digest এবং absorption এর কাজে নিয়োজিত থাকে। এবং এই ২৫ ফুট লম্বা intestine এর মোট surface area হচ্ছে একটা টেনিস কোর্টের সমান।

Digest হচ্ছে খাদ্যকে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে দলাই মলাই করে নির্যাসে পরিনত করা এরপর absorption বা শোষন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অংশটুকু রক্তে প্রবেশ করে আর বাড়তি অংশটুকু শরীর থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য তৈরী হয়ে থাকে যা Rectum এ জমা থাকে। Digestion এর কাজে আরও যারা অংশগ্রহন করে তারা হলো Pancreas, Gall Bladder ।

Pancreas এর কাজ মূলতঃ খাদ্য digestion এর জন্য কয়েক ধরনের পাচক রস (Gastric juices) তৈরী করা । Pancreas এর আরো একটি গুরুত্বপূর্ন কাজ insulin তৈরী করা। ইনসুলিন এর নাম শোনেনি এরকম কেউ বোধহয় নেই কিন্তু অনেকেরই জানা নেই যে এটা প্রত্যেকের শরীরেই তৈরী হয়। ডায়াবেটিস রোগীদের যে ইনসুলিন দেয়া দেয়া হয় সেটা অবশ্য কৃত্রিমভাবে প্রস্তুতকৃত এবং এটা তখনই দেয়া হয় যখন রোগীর শরীরে এটা পর্যাপ্ত পরিমানে তৈরী হতে পারে না। ইনসুলিনের কাজ হোল খাবারের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্লুকোজ Liver এ জমা করে রাখা এবং প্রয়োজনে ( যেমন অভুক্ত অবস্থায়) এই গ্লুকোজ কে পুনরায় Liver থেকে বের করে শক্তির উৎস হিসাবে কাজে লাগান। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে Pancreas শরীরের খুবই প্রয়োজনীয় একটা অঙ্গ এবং এটি একটিই থাকে।

Gall Bladder (পিত্ত থলি) ও একটি ই এবং এটি থাকে পেটের উপরিভাগের ডানদিকে পাজরের ঠিক নীচে। Liver ও একটিই, যার অবস্থান ও উপরে উল্লেখিত স্থানে। Gall Bladder এর মধ্যে পিত্তরস বা bile জমা থাকে। Bile এর কাজ হোল চর্বি কে টুকরো টুকরো করে Digestion এ সাহায্য করা। Gall Bladder ফেলে দিলে তাই fatty খাবার খেলে কিছুটা অসুবিধা হয়।

Kidney & Body Fluids (Renal System):

খাদ্যের পানি বা জলীয় ভাগ Colon থেকে Blood এ শোষিত হয়ে যায়। এই রক্ত যেমনভাবে Lungs এর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়ে অক্সিজেন মিশে যায় আর কার্বন-ডাই-অক্সাইড ছেড়ে দেয়, Intestine এর পাশ দিয়ে যাবার সময়ে পুষ্টি উপাদান মিশে যায় এমনিভাবে Kidneyর পাশ দিয়ে যাবার সময়ে রক্ত পরিশোধন হয়ে জলীয় ভাগ বের করে দেয়। এই দূষিত জলীয় ভাগ প্রসাব হিসাবে দুই Kidney থেকে দুইটা Ureter দিয়ে Urinary Bladder নামে একটা থলিতে জমা হয় এবং আমাদের ইচ্ছামত বাইরে নির্গত হয়। Urinary Bladder এ প্রায় ১৫০ মিলি প্রসাব জমা হলে প্রসাবের একটা অনুভুতি সৃষ্টি হয় তবে প্রায় ৩৫০ মিলি পর্যন্ত এই থলি ধারন করে রাখতে পারে এরপর ব্যথা শুরু হয়ে যায়।

Kidneyর অবস্থান পেছনদিকে নাভি বরাবর দুইপাশে। Metabolism বা বিপাক ক্রিয়ায় দেহে প্রচুর পরিমানে দূষিত পদার্থ শরীরে সৃষ্টি হয় যেমন Factory তে পন্য উৎপাদনের সময়ে প্রচুর বর্জ্যপদার্থ উৎপন্ন হয়। রক্তের এই বর্জ্য অপসারনে Kidney filter এর কাজ করে। Kidneyর আরো গুরুত্বপূর্ন কিছু কাজ আছে যেমন শরীরের electrolytes বা লবন নিয়ন্ত্রন করা। শরীরের যাবতীয় কাজ Electrolytes এর উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। এই electrolytes গুলোর মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ন হোল Sodium, Potassium, Chloride, Bicarbonate, Calcium, Magnesium. এছাড়া আরো কিছু electrolytes আমাদের শারীরবৃত্তীয় কাজে জরূরী ভূমিকা রাখে। সোডিয়াম , পটাসিয়াম যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন সেটা কিন্তু সবচেয়ে সুলভ ও বটে। খাবার লবনের মাধ্যমেই এগুলোর যোগান নিশ্চিত হয়ে থাকে।

একটা লক্ষনীয় বিষয় হোল, বিভিন্ন জাতিগোষ্টীর খাদ্যতালিকায় রুচিভেদে অনেক বাছবিচার দেখা যায়। যাবতীয় মশলা (হলুদ, মরিচ, ইত্যাদি ইত্যাদি) এই উপমহাদেশ ছাড়া এত জনপ্রিয় আর কোথাও নয়। কিন্তু লবন খায়না এরকম কোন জাতিগোষ্ঠী পাওয়া যাবে না। এমনকি পশুরা পর্যন্ত লবন ছাড়া খেতে পারে না। অনেক সময় বন্যপ্রানীরা লবন আলাদা চেটে চেটে খায়। যাই হোক, Kidney শরীরের বর্জ্য রক্ত থেকে বের করে দেয় অপরদিকে পানি, লবন এগুলোর ভারসাম্য নিয়ন্ত্রন করে। অর্থাৎ কোন সময়ে পানিস্বল্পতা দেখা দিলে প্রসাবের পরিমান কমিয়ে দেয় যেন electrolytes এবং পানি যতটা সম্ভব আটকে রাখা যায়। Kidney failure এ Dialysis এর মাধ্যমে এই ছাকনির কাজটাই করার চেষ্টা করা হয়। যদিও Kidneyর আরো অনেকগূলো কাজ Dialysis করেও পূরন হয় না।

Hormone (Endocrine) / হরমোনঃ

শরীরের আরেকটা গুরুত্বপূর্ন সিস্টেম হচ্ছে Endocrine System অর্থাৎ হরমোন। ইনসুলিন ও একটা হরমোন যার কাজ আগেই বলা হয়েছে। এরকম আরো প্রায় ১৫-২০টা হরমোন শরীরে কাজ করে। এদের মধ্যে Thyroid মানূষের কাছে সবচেয়ে পরিচিত কারন এটির রোগই সবচেয়ে বেশী হয়। থাইরয়েড হরমোন একই সাথে খুবই গুরুত্বপূর্নও বটে ( যদিও দেহের কোনটি নয়?) । থাইরয়েড gland টা অবস্থান করে গলার উচু জায়গাটার দুই পাশ জূড়ে । এই হরমোনের ঘাটতিতে বুদ্ধির স্বল্পতা দেখা যায়, কাজে কর্মেও ধীরগতি চলে আসে। এই হরমোনের আধিক্যে বুক ধড়ফড় করে এবং আরো অনেক রকমের জটিলতা দেখা দিতে পারে। শরীরের মধ্যে আরো যে সমস্ত হরমোন কাজ করে তার মধ্যে Testosterone একটি যা মূলতঃ ছেলেদের থাকে (নারী দেহেও কম মাত্রায় থাকে) যার প্রভাবে আক্রমনাত্বক ভাব, প্রবৃত্তি, শক্তি প্রকাশ পায়। মেয়েদের কোমলতা, লাবন্য, এগুলো হয়ে থাকে estrogen নামক hormone এর কারনে।

MusculoSkeletal System (মাংশপেশী এবং অস্থি)

শরীরে মাংসপেশী মোট ওজনের একটা বড় অংশ দখল করে থাকে । এই মাংসপেশী হাতে পায়ে যেমন আছে যা voluntary muscle অর্থাৎ আমরা নিজেরাই নিয়ন্ত্রন করতে পারি। এমনি ভাবে involuntary muscle ও ছড়িয়ে আছে intestine, heart এবং আর কিছু জায়গায় যেগুলো নিয়ন্ত্রন মানূষের ক্ষমতার বাইরে। অর্থাৎ এগুলোকে চালানোর দায়িত্বও আমাদের না, চাইলে আমরা এটাকে থামাতেও পারব না। খাবার গলাধঃকরনের সাথে সাথেই intestine এর muscle এটাকে সামনে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে। Heart এর muscle অবিরতঃ pump করে যাচ্ছে যা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত করে যাবে। কারন যেমনটা আগেই বলেছি, Heart মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ বার অর্থাৎ ঘন্টায় প্রায় ৫ হাজার বার এবং দিনে ১ লক্ষ ২০ হাজার বার pump করে যাচ্ছে। কয়েক সেকেন্ড বন্ধ থাকলেই মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী।

ঐচ্ছিক মাংসপেশী গুলো একেক টা জোড়া (joint) কে ঘিরে কাজ করে। উদ্দীপনা পায় Nerve থেকে যা Brain থেকে মেরুদণ্ড (Spinal Cord) দিয়ে নিচে নেমে আসে। Brain উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হলে (যেমন স্ট্রোকে) হাত পা নাড়ানো যায় না, Spinal Cord এ আঘাত বা রোগ হলেও তেমনি একই সমস্যা হতে পারে। আর Muscles রোগাক্রান্ত হলে (যা তূলনামূলকভাবে কম) এ সমস্যা হবে এটা তো বলাই বাহূল্য। Joint গুলোতে দুইটি ( কোন কোনটি দুইয়ের অধিক) bone পাশাপাশি আটকানো থাকে Ligament নামের দড়ির মত জিনিষ দিয়ে। যদিও Joint এ দুইটা bone এর মাঝে lubrication বা পিচ্ছিল করার জন্য এক ধরনের fluid থাকে, Joint গুলোকে সুরক্ষিত রাখার জন্য Shock Absorber জাতীয় Bursa বলে আরও কিছু জিনিষ Joint কে ঘিরে রাখে। তবে বেশী stress এ (যেমন খেলোয়াড়দের, অনেকসময় সাধারন মানুষেরও) এই Ligament মাঝে মাঝে ছিড়ে যায় যা সাধারন এক্সরে পরীক্ষায় নজরে আসে না। এই joint fluid এবং আশেপাশের সবকিছুতেই কিন্তু প্রতিনিয়তঃ রক্তের মাধ্যমে খাবার পৌছে যায়।

Nervous System/Neurology/নিউরোলজি

প্রায় সবকিছু নিয়ন্ত্রনের হেডকোয়ার্টার হলো Brain যা সুরক্ষিত থাকে Skull (খুলি) এর শক্ত কাঠামোয়। Brain এ কয়েক মিলিয়ন nerve cell থাকে যা শৈশবকাল পর্যন্তই বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। মস্তিষ্কের আরেকটা বিষয় হোল পূর্নবয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কের cell (কোষ) আর বাড়ে না। যা তৈরী হবার তা ভ্রুন এবং শৈশব অবস্থায়ই তৈরী হয়ে যায়। Brain এর একেকটা জায়গা একেক কাজে নিয়োজিত। যেমন সামনের অংশ আবেগ, স্মৃতি, পারিপার্শ্বিক সচেতনতা (social awareness যার কারনে একজন জনসমক্ষে প্রসাব করতে শুরু করে না ) এগুলোকে নিয়ন্ত্রন করে। Brain এর ডান পাশ, শরীরের বাম পাশ কে নিয়ন্ত্রন করে আর বাম পাশ, নিয়ন্ত্রন করে শরীরের ডান পাশ কে। কথা বলার উদ্দীপনা তৈরী হয় যে জায়গা থেকে তা প্রায় ৯০% ক্ষেত্রে থাকে বাম পাশে। শ্রবন, ঘ্রান এবং অন্যান্য যাবতীয় কিছুর এভাবে আলাদা আলাদা জায়গা আছে এবং মস্তিষ্কে র ঐ জায়গা ক্ষতি হলে ঐ কাজ করার যোগ্যতা হারায়।

আমরা চোখে যা দেখি তা চোখের লেন্সের (যেটা একটা convex লেন্স) মধ্য দিয়ে প্রথমে Retinaয় পড়ে। Retina থেকে তার একটা message, nerve বহন করে নিয়ে যায় Brain এর একেবারে পিছনে। প্রত্যেকটা অনুভুতি Brain এর একটা ছোট জায়গায় গিয়ে পৌছায় এবং ঠিক তার পাশের আরেকটা জায়গা পূর্ব্বের স্মৃতির সাথে মিলিয়ে এই অনুভুতি কে বোধগম্য করে। অর্থাৎ একটা বই চোখে পড়লো, কিন্তু ততক্ষন পর্যন্ত এটা বোধগম্য হবে না যতক্ষন পর্যন্ত না পূর্ব্বের স্মৃতিভাণ্ডার এটার পরিচয় তুলে ধরে। এমনিভাবে কানে কিছু শুনলে আমরা চোখ বন্ধ করেও বলে দিতে পারি এটা এর আওয়াজ, অমুকের কন্ঠস্বর, এমনকি তমুকের পদশব্দ। অনেকেই কিন্ত এটা পারবে না যার এই অংশগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যায়। যেমন, স্ট্রোকের অনেক রোগীকে আমরা দেখি, কারুর দিকে ভাবলেশহীন তাকিয়ে থাকতে কিন্তু চিনতে পারে না। অথবা কলম দেখালে নিজে থেকে বলতে পারে না কথা বলার সহায়তা কেন্দ্র ক্ষতি হলে। বলে দেয়ার পর কিন্তু সাথে সাথে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দেয়। কারন তার শ্রবনকেন্দ্র,দৃষ্টিশক্তি এগুলো ঠিকই আছে। যাহোক এরকম হাজারো জটিল সূক্ষ্মাতিসূক্ষ কাজকারবার মস্তিষ্কে সর্বক্ষন ঘটে চলেছে।

Brain তথা Nerve এবং Heart ও অন্যান্য muscles এর কাজকারবার এগুলোর সব কিছু কাজের জন্য Electrical activities এর উপর নির্ভর করে। Electricity Conduction এর মাধ্যমে একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত পর্যন্ত Impulse বা উদ্দীপনা বয়ে চলে। প্রত্যেকটা Signal পাঠিয়ে ই Brain বসে থাকে না, এগুলোর feedback নেয় ঠিকমত সম্পাদন হোল কিনা। এবং fine tuning এর মত adjust করে দেয় মস্তিষ্কের পশ্চাতে অবস্থানকারী cerebellum আরো কিছু অংশের সহায়তায়।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

ধর্মের আড়ালে পরিচালিত ইতিহাসের কুখ্যাত কিছু খুনি কাল্ট

MP Comrade

জীবন সাফল্য পেতে ইচ্ছা শক্তি টাই বড়,পরিস্থিতি নয়।

খুন!

Maksuda Akter

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy