Now Reading
ভালোবাসা সীমাহীন



ভালোবাসা সীমাহীন

প্রতিদিনের মতো আজও ইমরান রাস্তার পাশে আম গাছটার নিচে দাঁড়িয়ে আছে শুধুমাত্র ইভার সাথে একটু কথা বলার জন্য। ইভা প্রতিদিন এই রাস্তাদিয়ে কলেজে যায়। ইভাকে ভীষন ভালোবাসে ইমরান কিন্তু ইভা ভালোবাসার অভিনয় করেছে এতোদিন। তাই সে ইমরানকে স্পষ্টভাবে বলে দেয় যে,  তাকে যেন আর বিরক্ত না করে। ইভা কেনো ইমরানের সাথে এমন করলো তা জানতে চায় ইমরান। তাইতো দাঁড়িয়ে আছে ইভার কলেজে যাবার রাস্তায়।.-.ইভা আসতেছে, ইভাকে দেখে ইমরান বললঃ– দাঁড়াও ইভা,আমার প্রশ্নের জবাব দিয়ে যাও।

ইভা বললঃ– তোমার সাথে কথা বলার মতো সময় বা ইচ্ছা কোনটাই আমার নাই। ইমরানঃ– তারপরও তোমায় জবাব দিতে হবে। বলো কেনো আমার সাথে ভালোবাসার অভিনয় করলে? কি দোষ ছিলো আমার ? আমিতো তোমাকে সত্যিকারের ভালোবাসা দিয়েছিলাম তাহলে কেনো আমায়দুরে ঠেলে দিলে বলো ইভা বলো ?

ইভা বললঃ — সামনে আমার এইচ, এস, সি, এক্সাম সো, আমায় একদম বিরক্ত করবা না। শুধু একটা কথাই মাথায় রাখবা আমাকে তোমার মতো স্বল্প শিক্ষিত একটা বেকার ছেলের সাথে মানায় না। যখন তোমার সাথে প্রেম করতাম তখন আমি স্কুলে পড়তাম তুমিও পড়তে আর এখন আমি কলেজে পড়ি আর তুমি পড়াশুনা বাদ দিয়ে বেকার হয়ে ঘুরে বেরাচ্ছো। তোমার মতো ছেলেকে ভালোবাসা আমার পক্ষে সম্ভব না। প্লিজ আমায় ভুলে যাও। এই বলে ইভা চলে গেলো।ইমরান ইভার চলার পথের দিকে তাকিয়ে নীরবে কাঁদতে লাগলো। তারপরও ইমরান রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতো শুধু ইভাকে একটু দেখার জন্য।বিনিময়ে ইভা ইমরানকে অনেক অপমান করত।

তাও ইমরান ইভাকে ভুলতে পারেনা। ভুলবে কি করে ওদের সম্পর্কটা যে স্কুল লাইফ থেকে। দুজনে একই ক্লাসে পড়তো। তাই ওদের সব বন্ধুরা ওদের সম্পর্কের কথা জানতো। ইভার চেয়ে ইমরান পড়াশুনায় অনেক ভালো ছিলো তাই ইভা আগে ইমরানকে প্রপোজ করেছিলো। ইমরানও নির্দ্বিধায় রাজি হয়ে গেলো। পড়াশুনার সব ব্যাপারে ইমরান ইভাকে অনেক হেল্প করতো। এমনকি এস, এস, সি পরীক্ষার সময় ইমরান ইভার খাতা নিয়ে লিখে দিইয়েছে আর তার খাতা ইভার কাছে ছিলো। এভাবে খাতা অদল বদল করে তারা পরীক্ষা দিয়েছিলো।যার ফলে ইভা অনেক ভালো রেজাল্ট করে আর ইমরানপরীক্ষায় টেনেটুনে পাস করে। তাই ফ্যামিলি থেকে ইমরানের পড়াশুনা বন্ধ করে দেওয়া হয়।যেই ইভার জন্য ইমরান এতো কিছু করলো তার কাছে এখন আর ইমরানের কোনোমূল্য নেই।

দীর্ঘ দিন পর আবার হঠাৎ করে দেখা। কিন্তু এই ইভা কি সেই ইভা যে একটা সময় ইমরানকে ছাড়া থাকতে পারত না। এক দিন ইমরান কে না দেখলে ফোন দিয়ে কতই না আভিমানি করত।
পাগলের মত ভালোবাসত দুজন দুজনকে।।। আর সেই ইভা এখন ইমরান কে দেখে আড়ালে থাকে ওকে
দেখে ও না দেখার ভান করে।
কিন্তু ইমরান তো ওকে এক পলক দেখার জন্য পাগলের মত করছে।
একটু কথা বলার জন্য বার বার ওর কাছে ছুটে যায় কিন্তু ও যেন ওকে চিনেই না।
ইমরান তো অবাক।
এই কি সেই আমার জান, যে আমার সাথে একদিন কথা না বলতে পারলে সারা রাত কাদতো।
আর আজ সে আমাকে avoid করছে।
এটা কি করে সম্ভব।
তবু ও ইমরান আনেক কষ্টে, জোর করে কথা বলতে চাইল।
ইমরান ইভার কাছে গিয়ে টলমল চোখে ইভাকে বললো। কেমন আছ তুমি।
ইভাঃ ভাল ছিলাম এতদিন কারন তোমাকে দেখতে হয়নি। দেখতে হয়নি তোমার ঐ মুখ।
এই বলে ইভা চলে গেল বারির ভিতরে।
কিন্তু একটি বার ও জিজ্ঞেস করল না।
ইমরান তুমি কেমন আছ।
ইমরান ও বারি চলে এল। কিন্তু ওর মধ্যে কি যেন কষ্ট জেগে উঠল, আর ইমরান কাদতে লাগলো
এই ভেবে যে, এত দিন ওকে দেখিনি তাতে যতটুকু না কষ্ট পেয়েছি, তার চেয়ে
আজ আরো বেশি কষ্ট পাচ্ছি।

ইভা ভুলে গেসে ইমরানকে

কিন্তু ইমরান কিছুতেই ভুলতে পারছে না ইভাকে

ওর জন্য আজও ইমরানের সিমাহীন ভালোবাসা রয়ে গেছে ইমরানের।

About The Author
Rakib Hossain
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment