Now Reading
আতাকামার এলিয়েন



আতাকামার এলিয়েন

২০০৩ সালে চিলির আতাকামা মরুভুমিতে স্ট্যানফোর্ডের গবেষকরা মানুষের মত দেখতে কিন্তু আকারে অনেক ছোট একটি কঙ্কাল আবিষ্কার করেন।এই কঙ্কাল টি প্রথমে অস্কার মুনোজ নামে এক ব্যাক্তি খুজে পান যিনি এবং তার দল চিলির “লা নরিনা” নামের স্থানে প্রত্নতত্ব খোজার জন্য খনন করছিলেন। নামে কঙ্কাল টি দেখতে মানুষের মত হলেও কঙ্কালের অনেক কিছুই বিজ্ঞানীদের দিন রাত খাটিয়ে মেরেছে। প্রথমে সবাই এতীকে এলিয়েন কঙ্কাল বলে ধরে নেয়। ফরেনসিক টেস্টের সময় এটি গবেষক দের ঘাম ঝরিয়ে ছাড়ে এবং তখন এর ব্যাতিক্রম কঙ্কাল এর নাম দেয়া হয় আতা -“Ata”। কঙ্কালের দৈর্ঘ্য মাত্র ১৫ সেন্টি মিটার। প্রথমে সবাই ভেবেছিল  এটা সম্ভবত ভ্রূণেই নষ্ট হয়ে যাওয়া কোন বাচ্চার কঙ্কাল।

আতা এর আকৃতি বাদেও গবেষকদের বিভ্রান্ত হবার মত আরো অনেক কিছুই ছিল। এর শারীরিক আকারের কারনে অনেক গবেষক দাবী করছিলেন এটি মানুষ নয় কিন্তু স্তন্যপায়ী কোন জীবের কঙ্কাল ও হতে পারে। মানুষের ১২ টি পাজড় থাকে কিন্তু আতার ছিল ১০ টি। এর মাথার উপর আরেকটি মাথা ছিল যা এর মাথার সাইজ প্রিম্যাচিউর বাচ্চা দের থেকেও অনেকটাই বড় আকৃতিতে। এর দাত ছিল খুবই শক্ত এবং সূচালো যা প্রিম্যাচিউর বাচ্চাদের হয়না।

কঙ্কালের ডিএনএ টেস্ট করে দেখা যায় এটি ৯১% মানুষের সাথে মিলে। ৯% অমিল যদিও অনেক বড় একটি ব্যপার তবুও গবেষকরা এটিকে প্রাচীন যুগের কোন মানুষ হিসেবে গন্য করছেন। গবেষকরা অবাক হয়েছিলেন এই ভেবে যে আতা কোন ভ্রূণে নষ্ট হয়ে যাওয়া বাচ্চা নয়।কারন আতার দাত অনেক শক্ত আর সূচালো ছিল আর পাজরের হাড় ও বেশ শক্ত ছিল।গবেষনা থেকে বলা যায় বাচ্চার জন্মের ৬-৭ বছর পর দাত ও হাড়ের এমন পরিপক্কতা আসে। কিন্তু আকৃতিতে আতা কখনোই ৬-৭ বছরের বাচ্চার মত না। আবার হাড় ও দেহের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য এর দিক থেকে আতা মানুষের থেকে ভিন্ন। কিন্তু আতাকে স্তন্যপায়ী বলে প্রমাণ করা হয়েছে এবং মানুষের সাথে এর জেনেটিকস ও ৯১% মিলে যায়। আতা তাহলে কি?

ধরে নেয়া যায় আতা বামুনত্বের শিকার এবং সেটা খুবই প্রকটভাবে বামুনত্ব। কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে বামুন মানুষটিও ৫৪.৬ সেন্টিমিটার লম্বা। তবে মানুষ কতটা বামন হতে পারে সেই ব্যাপারে এখন কোন মাপকাঠি তো এখনো আবিষ্কার হয়নি।

আরেকটা কারন ধরা যেতে পারে সেটা হলো প্রজেরিয়া। প্রজেরিয়া হলো এক ধরনের বিরল ব্যাধি যার কারনে বাচ্চাদের অকালেই বার্ধক্য চলে আসে।এমনটা হলে আতার ভ্রূণেই প্রজেরিয়া হবার সম্ভাবনা করছেন এক পক্ষের গবেষকরা, এবং আরেক পক্ষের গবেষকরা বলছেন – ভ্রূণেই প্রজেরিয়া হবার কোন সম্ভাবনাই নেই।

আতাকে নিয়ে গবেষণা এখনো চলছে, হতে পারে আতা মানুষ, আবার নাও হতে পারে। আতাকে নিয়ে বিশাল এক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে www.siriusdisclosure.com নামের এই গবেষনাপ্রধান ওইয়েবসাইটে। আপনারা চাইলে এই সাইট থেকে বিস্তারিত জানতে পারেন।

About The Author
Kazi Mohammad Arafat Rahaman
পড়াশোনা - ব্যাচেলর করছি কম্পিউটার সায়েন্সে। ভাল লাগা - গান, ফুটবল আর বই। খারাপ লাগা - নাই। খারাপ লাগেনা। অনুভূতিহীন। শখ - অনেক আছে। লক্ষ্য - ইন্টারপ্রেনার হতে চাই।
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment