স্বাস্থ্য কথা

নিয়ম অনিয়ম ( ১ম পর্ব )

ঔষধ পর্ব:

নিয়ম অনিয়ম মিলিয়ে সমাজ। যে সমাজে যত বেশি নিয়ম মান্য করা হয় সেই সমাজ তত বেশি উন্নত। যে সমাজে অনিয়মের উচ্চ সঙ্গীত শোনা যায় সে সমাজ যে অন্ধকারময় হবে তা সকলেই বলতে পারে। এমনি সমাজ লক্ষ্য করা যায় প্রায় প্রতিটি দেশে। আজ নিয়ম অনিয়মে এমনি একটা অনিয়মের চিত্র তুলে ধরবো যা আমরা সকলেই দেখতে পায় এবং সকলে পরিচিত। আজ নিয়ম অনিয়মে এই কথা বলতে হয় যে, আমাদের দেশের ঔষধ বাজারে ঔষধের দাম অনিয়মের প্রতিযোগীতা চলছে। যে যত বেশি লাভ করতে পারে সেই প্রতিযোগীতার বিজয়ী। আর এই প্রতিযোগীতা বিক্রেতাকে সামাজিক দায়িত্ব কর্তব্য থেকে দূরে রাখছে।
বাংলাদেশের একটি জেলা “চুৃয়াডাঙ্গা”।চুৃয়াডাঙ্গা জেলার একটি ইউনিয়ন “কার্পাসডাঙ্গা”। কার্পাসডাঙ্গা বাজারে প্রতিদিনি চলছে ঔষধের দাম বৈষম্য, কিন্তুু কেন?প্রত্যেকটি মানুষ কোনো না কোন ভাবে ঔষধের সঙ্গে পরিচিত। এমন কোন মানুষ নেই যে সেই ব্যক্তি ঔষধের সঙ্গে পরিচিত নয়।কেউ ঔষধ ক্রয় করে তার জন্য,বাবা-মায়ের জন্য,ছেলে-মেয়ের জন্য বা বিভিন্ন আত্মীয় সজনের জন্য। সেই জন্য সকলকে ঔষধ সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। আজ ঔষধ বাজারে এমন কিছু ফার্মেসী স্থাপন হয়েছে যাদের হয়তো কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই, তারা ঔষধের নাম ঠিক মতো বলতে পারেনা। তবে কিভাবে তারা ফার্মেসী প্রতিষ্টা করলো? এই প্রশ্নটা সকলের আসতে পারে। এর একটি উত্তর হলো ইউনিয়ন পরিষদের দেওয়া ট্রেড লাইসেন্স। প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষার সনদপত্র থাকলেও সেটি আসল কিনা তা যাচাই করার নেই কোন প্রতিষ্ঠান বা কর্মকর্তা। কেন?কথায় বলা হয় খোদার পর একমাত্র ডাক্তার একটি মানুষকে বাঁচতে পারে। তবে কেন তাদের এই অপকর্ম। আজ ডাক্তারের পেসক্রিপশন হয় Interest দ্বারা। সে কোম্পানি যতবেশি Interest দেয় পেসক্রিপশনে সেই কোম্পানির ঔষধ লেখা হয় কেন?সমগ্র ডাক্তারের নিকট প্রশ্ন করলে তারা মুখ ঘুরিয়ে রাখে। মুখ ঘুরিয়ে উত্তর দেয়,”ঐ ঔষধটি সব চেয়ে ভালো এবং সকলের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে”।ডাক্তারের উপর বিশ্বাস স্থাপন করার যোগ্য উত্তর বুঝি এটা? ডাক্তাররা ভাবে না যে তাদের অবস্থান কোথায়? ভাবে কোথায় টাকা?ডাক্তারের এই অস্বাভাবিক আচরণের পর ফার্মেসী মালিকের দায়িত্ব পড়ে ঔষধের উচ্চমূল্য নেওয়া। কিন্তু কেন?একটি ঔষধের পেসক্রিপশন যখন ফার্মেসীতে এসে পৌঁছায়, তখন ঔষধ ক্রেতা ভয়ে থাকে,”এই বুঝি ভাঙ্গলো এবার মাজা “!বাস্তব অর্থে সেটায় হয়।কিন্তু কেন? অর্থের জন্য মানুষ মনুষত্ব্য কে আজ বিলিন করে দিচ্ছে। সস্মানের স্তম্ভ হিসেবে অর্থকে দাড় করিয়ে দিয়েছে। সামাজিক দায়িত্বকে অবহেলা করে চলেছে। ফার্মেসী মালিক বা ডাক্তাররা মনে রাখে না যে, সমাজে একজন রোগীর কি অবস্থা, একজন রোগী কতটা দরিদ্র। তারা মনে রাখে টাকাকে। গ্রামের অল্প শিক্ষিত মানুষেরা ফার্মেসীতে ঔষধ ক্রয় করতে গেলে পদে পদে হয়রানির শিকার হতে হয়। তাদের সঙ্গে নেওয়া হয় অধিক মূল্য। কাঁচামালের বাজারে পেয়াজ রসুনের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফার্মেসীর বিক্রেতা ঔষধের দাম বৃদ্ধি করে দেয়। নিতে থাকে অধিক মূল্য। কোনো ঔষধের Body rate এ দেওয়া মূল্যেরর চেয় অধিক মূল্য নিতে দিধা রাখে না। প্রশ্ন করলে বিক্রেতা বলে থাকে Over rate এ কেনা। তা কতটা সত্য? এটি যাচাই করার কি কেউ রয়েছে?যেহেতু দেশের সমস্থ জায়গায় ঔষধের দাম অনিয়ম হয়েই চলেছে। কখনো কি এর অবশান হবে? প্রশ্ন রইলো সমস্থ মানুষের নিকট।
কয়েকটি ঔষধের নাম লিখছি যা থেকে বিক্রেতা অধিক মূল্য গ্রহন করছে।
যেমন:- Tryptin 25 একটি Square এর একটি পন্য। যা কোনো কোনো ফার্মেসীতে বিক্রি হয় ১৭ টাকা প্রতি ১০ ট্যাবলেটে আবার কোনো কোনো ফার্মেসীতে বিক্রি হয় ২০ টাকা।কেন?

অন্য একটি হলো Betnovate N cream একটি GlaxoSmithkline Group of companies এর একটি পন্য। প্রতি 10 grams যার Body rate ২৬.৮৪ টাকা কিন্তু বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে, কেউ ২৬ টাকা, কেউ ২৮ টাকা,কেউবা ৩০ টাকা। একজন ক্রেতা বিক্রেতাকে প্রশ্ন করে, এতে তো Body rate, ২৬ টাকা ৮৪ পয়সা , আপনি ৩০ টাকা নিবেন কেন? বিক্রেতার উত্তর Over rate এ কেনা তাই।
ঔষধের এই দামের অনিয়মটি কি ফার্মেসী থেকে শুরু হয়, নাকি কোম্পানির কর্মকতা থেকে শুরু হয়? এই প্রশ্নটা থেকে যায় সব সময়।

এখানে শুধুমাত্র দুইটি ঔষধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সমস্থ ঔষধের দাম বৈষম্য হবে না এটা কে বলতে পারবে?
একটি দরিদ্র মানুষ ঠিকমতো ঔষধ ক্রয় করতে পারেনা। তার উপর যদি Body rate এর চেয়ে অধিক মূল্য দিতে হয়, তাহলে অসুস্থ দরিদ্রের অবস্থা কি হবে? এটা চিন্তা করার মত অনেক লোক রয়েছে, নেই ব্যবস্থা নেওয়ার মত লোক। সমাজে প্রতিটি মানুষের রয়েছে সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার অধিকার।
কিন্তু সেক্ষেত্রে কতটা অধিকার পাচ্ছে জনগন?বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তদন্ত করে। আজ আমি এই লেখার মাধ্যমে সকল কর্মকর্তা নিকট অনুরোধ করছি যে, ঔষধের এই ব্যাপার নিয়ে একটু তদন্ত করুন। মানুষকে সুন্দর ভাবে বাঁচার অধিকার প্রদান করুন। সমাজের প্রতিটি মানুষ যেন আর কখনো এমন অবস্থার শিকার না হয়।ঔষধ বাজারের দাম অনিয়ম শুধুমাত্র চুয়াডাঙ্গা জেলায় হচ্ছে না, বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় হচ্ছে। প্রতিটি মানুষ ভুগছে ঔষধের এই দাম আধিক্য দ্বারা। ঔষধের দাম আধিক্যের জন্য অনেক রোগীর হচ্ছে প্রাণহানী। ক্রয়ক্ষমতার বাইরে ঔষধের মূল্যের জন্য অনেক রোগী পিছিয়ে পরে ঔষধ ক্রয় থেকে। সমাজের প্রতিটি মানুষকে ভাবা উচিত, সমাজে তার একটি মূলবোধ রয়েছে।সেও সমাজের বাইরে নয়। সমাজের প্রতি তার যে দায়িত্ব তা সে কখনো অস্বিকার করতে পারে না। একজন ফার্মেসী মালিক, একজন ডাক্তার তার দায়িত্ব ও সমাজিক দায়বদ্ধতার কথা চিন্তা করে পথ চললে, ভালো হবে সমাজের,ভালো হবে দেশের তথা সমস্থ পৃথিবীর।

সকলের  নিকট একটায় আবেদন , যেন কোন কারণে  অনিয়মের  মধ্যে পড়লে  যত দ্রুত সম্ভব পুলিশের সরাপন্ন হয় ।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

সপ্তাহে মাত্র ৪দিনের শারীরিক ব্যায়াম ঠেকিয়ে দিতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত হৃদরোগ

MP Comrade

গরমে ভাল থাকার উপায়।

Md. Riajul Islam

জিমে না গিয়ে বাসায় ব্যায়াম করে শরীর ১০০% ফিটনেস রাখার উপায়

Muhammad Uddin

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: