Now Reading
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ঠেকাতে মিয়ানমারের “ছল-চাতুরি”



রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ঠেকাতে মিয়ানমারের “ছল-চাতুরি”

দীর্ঘদিন বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে কার্যত কোন আগ্রহ দেখা যাচ্ছেনা মিয়ানমার সরকারের। প্রথম কিস্তিতে প্রায় ৮ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করেছিল বাংলাদেশ। সেই তালিকা যাচাই-বাছাই শেষ করতে বিলম্ব করছে মিয়ানমার, পার হয়েছে ১৪ দিন। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া প্রলম্বিত অথবা দীর্ঘায়ীত করতে নানা কূটকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে মিয়ানমার। তবে উদ্ধুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রত্যাবাসনের জন্য আরও রোহিঙ্গার তালিকা প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ। বস্তুত সেই তালিকা নিয়েও মিয়ানমারের কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছেনা।

গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী প্রত্যাবাসন কাজ শুরুর অপেক্ষায় বাংলাদেশ এবং তার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ সাড়া দিলেই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী সীমান্তের দুটি পয়েন্টকে প্রত্যাবাসন কেন্দ্র করা হয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে তাদের সম্মতির ভিত্তিতে এই দুটি প্রত্যাবাসন রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। এর একটি টেকনাফের কেরুনতলী পয়েন্ট দিয়ে নৌপথে এবং অন্যটি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম পয়েন্টে দিয়ে স্থলপথে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে পুশ ব্যাক করা হবে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দুটি পয়েন্টেই রোহিঙ্গাদের জন্য প্রয়োজনীয় শেড তৈরির কাজও সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ সীমান্তে তৈরি দুটি প্রত্যাবাসন পয়েন্টের বিপরীতে মায়ানমার সীমান্তে মংডুর মার্চিচং এবং তং পাইও লেটওয়ে এলাকায় অনুরূপ দুটি অভ্যর্থনা কেন্দ্র খোলা হয়েছে বলে জানিয়েছে মিয়ানমার।

OG-AV568_201709_FON_20170920110251.jpg

সুত্র বলছে – বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রথম দফায় মাত্র ৮০৩২ রোহিঙ্গার তালিকা দেওয়া হয়েছে এবং মিয়ানমার তা যাচাই-বাছাইয়ের নামে বিলম্বিত করে প্রক্রিয়াটিকে জটিলতার সম্মুখীন করছে, ফলে প্রশ্ন উঠেছে তাহলে এত বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠাতে কত সময়ের প্রয়োজন হবে? যাচাই-বাছাইয়ে মিয়ানমারের এই কালক্ষেপণ বাংলাদেশের সচেতন মহলকে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন করছে। সহসাই যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবসান শুরু হচ্ছেনা তা অনুমেয়।
বস্তুত রোহিঙ্গাদের তালিকা নিয়ে মিয়ানমারের তেমন কোনো আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা। তারা নানা অজুহাতে বিষয়টিকে প্রলম্বিত করে চলেছে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সত্যিই আগ্রহী কি-না তা এখনও নিশ্চিত নয়। তাদের আগ্রহ যাচাই করতে এবং তারা আন্তরিক কি-না তার প্রমাণ হিসেবে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান নেওয়া প্রায় ৭ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে কাজ শুরু করতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেয়া হলেও তাতে মিয়ানমার প্রথমদিকে সাড়া না দিয়ে বরং বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়ে রোহিঙ্গাদের ভয়-ভীতির মাধ্যমে উলটো বাংলাদেশে ঠেলে দিতে চেয়েছে। সংশ্নিষ্ট সূত্রমতে- বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের অনেকে গোপনে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে, তাদের ঐ স্থান ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। সীমান্তের এই পয়েন্ট ছাড়াও উখিয়া-টেকনাফের অন্যান্য স্থান দিয়ে প্রতিদিন পুশ ইন হচ্ছে রোহিঙ্গারা।

সর্বশেষ খবর অনুযায়ী নোম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান নেয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে আশ্বাস দিয়েছে মিয়ানমার। তবে এর পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘকে যুক্ত করতে নতুন একটি প্রস্তাবও দিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এসেছে, যদিও এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আগেই সম্মতি জানানো হয়েছে। নতুন করে এই প্রস্তাব রাখার মানে হচ্ছে, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি না করে উল্টো বিভিন্ন অজুহাতে প্রত্যাবাসন বিলম্বিত করতে মিয়ানমার কূটকৌশলের আশ্রয় নেয়া। বাংলাদেশ আশা করে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কর্তৃক আরো অধিকতর চাপ প্রয়োগ করে মায়ানমারকে বাধ্য করা উচিত এ কার্যক্রম এর দ্রুত নিস্পতি করা। রোহিঙ্গাদের চাপে কক্সবাজার ও টেকনাফের স্থানীয় জনসাধারণের ধৈর্য দিনের পর দিন নাভিশ্বাসে পরিণত হচ্ছে, অপরদিকে রোহিঙ্গারাও সুযোগ খুঁজছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া দরকার অন্যতায় এর দীর্ঘ মেয়াদী নেতিবাচক মাশুল গুণতে হবে বাংলাদেশকেই!

About The Author
MP Comrade
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment