Now Reading
বিধ্বস্ত বিমান, স্তব্ধ জাতি!



বিধ্বস্ত বিমান, স্তব্ধ জাতি!

দেশের জন্য সত্যি এক মর্মান্তিক খবর-  শাহজালাল বিমান বন্দর থেকে ৬৭ জন যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যাওয়া নেপালগামী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিএস ২১১, কাঠমান্ডুর ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে গিয়ে বিধ্বস্ত হয়ে প্রায় ৫০জন মত নিহত এবং অনেকেই আহত হয়েছেন।  বিভিন্ন গণমাধ্যম এ খবর ফলাও করে প্রচার করছে। ১৭ বছরের পুরনো বোম্বাইডার ড্যাস কিউ৪০০ টার্বোপ্রপ ইঞ্জিন বিশিষ্ট বিমানটি বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ৪৩ মিনিটে উড্ডয়ন করে নেপালের স্থানীয় সময় বেলা ২টা ২০ মিনিটে কাঠমান্ডু ত্রিভুবন এয়ারপোর্টে অবতরণ করতে গিয়ে রানওয়ে সংলগ্ন একটি ফুটবল মাঠে আছড়ে পড়ে।  

 

ত্রিভুবন বিমানবন্দরের মুখপাত্র প্রেম নাথ ঠাকুর গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ল্যান্ডিংয়ের সময় উড়োজাহাজটি বিমানবন্দরের পাশে একটি ফুটবল মাঠে গিয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার কিছু পরই উড়োজাহাজটিতে দ্রুত আগুন ধরে যায়। এতে ৬৭ জন যাত্রী ও চার ক্রুসহ মোট ৭১ জন ছিলেন।

 

ঘটনার পরপর নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সুরেষ আচার্যের বরাত দিয়ে কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছিল, ওই উড়োজাহাজ থেকে ১৭ জনকে তারা আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে বাকীদের উদ্ধারে তারা তৎপর রয়েছে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মী ও নেপাল সেনাবাহিনীর একটি অংশ সেখানে উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেয়।  দুর্ঘটনার পরপরই লেগে যাওয়া আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয় উড়োজাহাজটি। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, যান্ত্রিক ক্রটির কারণে ল্যান্ডিংয়ের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে।

 

এদিকে বাংলাদেশের আরেক বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারের ২২০ আসন বিশিষ্ট একটি বিমান ২০১৫ সালে ঢাকা থেকে ওমানের রাজধানী মাসকট যাওয়ার পথে ইঞ্জিনের সমস্যায় জরুরি অবতরণ করে ভারতের ছত্তিশগড়ে রায়পুরের মানা বিমানবন্দরে। বিমানবন্দরে স্থানাভাবের বিষয়টি চিন্তা করে সে সময় বিমানটি অবতরণের অনুমতি দিতে আপত্তি জানালেও, বিমানটির পাইলট তার আপৎকালীন পরিস্থিতি এবং ঝুঁকির কথা বলায় বাধ্য হয় ৫ মিনিটের মধ্যে রানওয়ে খালি করে নিরাপদে বিমানটিকে অবতরণ করতে সাহায্য করে কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকে ৩ বছর ধরেই পার্কিং ফি পরিশোধ না করেই বিমানবন্দরের ৬টি পার্কিং বে-র একটি দখল করে রেখেছে পরিত্যক্ত বাংলাদেশি এই বিমানটি। ইতিমধ্যেই পার্কিং ফি বাবদ পাওনা বেড়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ লক্ষ রুপি। ফলশ্রুতিতে বেসরকারি বিমান সংস্থার বিমানটি বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ভারত। অন্য দেশের পরিত্যাক্ত লক্কর জক্কর মার্কা বিমান গুলি সস্থায় কিনে এনে মেরামত করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে এসব বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলি। ফলে বারংবার ঝুঁকির কথা জানান দিচ্ছে এই বিমানগুলি।

 

About The Author
MP Comrade
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment