পাল্টা পাল্টি বহিস্কার সেয়ানে সেয়ানে (৩য় বিশ্ব যুদ্ধের ডাক?)

Please log in or register to like posts.
News

চলছে পাল্টা পাল্টি বহিস্কার, কে কার চেয়ে শক্তিশালী বুজা দায়। একজন রুশ ডাবল এজেন্টকে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে হত্যার চেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে রাশিয়ার ২৩ জন কূটনীতিকে ব্রিটেন থেকে বহিষ্কার করেছেন। তার এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে রুশ দূতাবাসের এক তৃতীয়াংশ কর্মকর্তাদের ব্রিটেন কর্তৃক বহিষ্কার করা হল।

মে এর দাবী ঐ ২৩ জন রুশ কূটনীতিক প্রকৃতপক্ষে গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং তাদের ৭দিনের মধ্যেই ব্রিটেন ছেড়ে যাওয়ার আল্টিমেটাম দেন। ব্রিটেনে কেজিবির সাবেক গুপ্তচর কর্নেল সার্গেই স্ক্রিপাল এবং তার কন্যার ওপর স্নায়ু-বিধ্বংসী কেমিকেল এজেন্ট বা নার্ভ গ্যাস দিয়ে আক্রমণের ঘটনার পর মিসেস মে এই পদক্ষেপের কথা ঘোষণা দেন। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ অভিযোগ করেছেন, ব্রিটেন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

এদিকে রুশ কূটনীতিকদের বহিষ্কারের পাল্টা জবাবে দুদিন আগে রাশিয়াও সমান সংখ্যক কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে তাদের দেশ থেকে । পাশাপাশি রাশিয়ায় ব্রিটিশ কাউন্সিল আর সেন্ট পিটার্সবুর্গ শহরে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধেরও নির্দেশ দিয়েছে।

বিশ্বের প্রতিটি দেশেই কূটনীতিকরা ইম্যুনিটি বা সাধারণ ক্ষমার আওতায় তাদের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এর অর্থ দাঁড়ায় নিযুক্ত কোন কূটনীতিকদের সেসব দেশে বিচার করা যাবে না। তবে যদি কোন কারনে তারা আইন অমান্য করেন বা দেশ বিরোধী কোন কাজ করেন বলে সংশ্লিষ্ট দেশ মনে করে, অথবা কোন পরিস্থিতিতে যদি কূটনৈতিক সংকট তৈরি হয় তবে হোস্ট কান্ট্রি এসব অধিকার এককভাবে প্রত্যাহার করার ক্ষমতা রাখে। ব্রিটেন আর রাশিয়ার মধ্যে চলা বর্তমান ঘটনাটি তেমনি একটি।  

প্রাচীনকাল থেকে বিশ্বের অধিকাংশ জাতি ও রাষ্ট্রের মধ্যে আন্ত:রাষ্ট্রীয় কুটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকলেও এর আইনগত কোন স্বীকৃতি বা ভিত্তি ছিল না।  তাই সকল রাষ্ট্রের সার্বভৌম সমতা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা এবং জাতিসমূহের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ বিষয়ক জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতিকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘের আওতাভুক্ত রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক আইনগত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ফলশ্রুতিতে রুপ লাভ করে “ভিয়েনা কনভেনশন” যার মাধ্যমে প্রতিটি দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের উন্নয়নের লক্ষ্যে  কুটনৈতিক সংসর্গ, অধিকার ও দায়মুক্তি নিশ্চিতকরনের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও সামাজিক ব্যবস্থার প্রতিফলন ঘটানো। তবে এও উল্ল্যেখ আছে- প্রদত্ত অধিকার ও দায়মুক্তি কোনভাবেই ব্যক্তি স্বার্থে নয় বরং কুটনৈতিক মিশনসমূহের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রযোজ্য হবে। ১৯৬১ সালের ১৮ এপ্রিল ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের কূটনৈতিক আদান-প্রদান ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিনিধি সম্মেলনে ভিয়েনার কূটনৈতিক সম্পর্কের কনভেনশন স্বাক্ষরিত হয়। ভিয়েনা কনভেনশনের ৯ আর্টিকেলে স্পষ্ট বলা আছে যে কোন দেশ যেকোনো কারণে কূটনৈতিক কোন ব্যক্তিকে নন গ্রাটা বা ঐ দেশে অবাঞ্ছিত বলে ঘোষণা করতে পারবে। আর মুলত কনভেনশনের এই অণুচ্ছেদের যথাযত প্রয়োগ ঘটিয়েছে যুক্তরাজ্য ও রাশিয়া।

সাবেক সোভিয়েত জামানা থেকে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর সাথে এক ধরনের দ্বন্দ্ব রয়েছে রাশিয়ার। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নকে ঘায়েল করতে আমেরিকার নেতৃত্বে তাদের মিত্র দেশ নিয়ে গঠন করা হয়েছে সামরিক জোট ন্যাটো। যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা সাথে রয়েছে ইউরোপের বেশীর ভাগ দেশ। ন্যাটো জোটের সদস্য দেশ গুলি হছে- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানী, কানাডা, ইতালি, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ড, আইসল্যান্ড, স্পেন, বেলজিয়াম, ল্যুক্সেমবার্গ, নরওয়ে, পর্তুগাল, গ্রীস এবং তুরস্ক । ন্যাটো জোটের ২টি অংশ বিভক্ত এর একটি রাজনৈতিক এবং অন্যটি সামরিক। নেটো সামরিক জোটের ঘোষিত অন্যতম একটি লক্ষ্য যেটি তাদের সংবিধানের ৫ ধারায় উল্ল্যেখ আছে – কোনো সদস্য দেশের বিরুদ্ধে হামলাকে জোটের বিরুদ্ধেই হামলা হিসাবে গণ্য হবে। এই ধারা কেবল একবারই কার্যকর করা হয়েছিলো ৯/১১ আমেরিকার টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার পর। তবে ব্রিটেন এখনও স্যালসবেরির ঘটনাকে আর্টিকেল ৫ বিষয় বলে দেখাতে চাইছে না।

কূটনীতিক প্রত্যাহারে নির্দিষ্ট কোন নিয়মনীতি নেই। সংশ্লিষ্ট দেশ প্রত্যাখ্যাত রাষ্ট্রদূতকে তলব করে সরাসরি যেমন জানিয়ে দিতে পারে আবার আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক চিঠি দিয়েও জানাতে পারে। রুশ কূটনীতিক বহিস্কারের পাল্টা জবাবে মস্কোতে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ল্যরি ব্রিস্টোকে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তলব করে জানিয়ে দিয়েছে যে তাদের চলে যেতে হবে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে রাশিয়া ব্রিটেনের চেয়েও কঠোরতর পথ নিচ্ছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবী করছে, প্রমাণ ছাড়া রাশিয়াকে দায়ী করে এমন উস্কানিমুলক আচরণের জবাবে রাশিয়াও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন আরেকটু আগ বাড়িয়ে বলেছেন- রুশ ডাবল এজেন্ট হত্যায় প্রেসিডেন্ট পুতিনও নাকি জড়িত! বিষয়টিকে সহজভাবে নেয়নি রাশিয়া, প্রতিক্রিয়ায় মি পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, “এ ধরণের কথাবার্তা ক্ষমার অযোগ্য”। দুই দেশের বর্তমান আচরণে পরিস্থিতির যে অবনতি ঘটবে তা অনুমান করাই যায়।

 

এর মধ্যে গত রবিবার ফের চতুর্থ বারের মতো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন মিঃ পুতিন। ৬ বছর মেয়াদে তিনি ২০২৪ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকছেন। অসম্ভব জনপ্রিয় এই নেতা সম্পর্কে রাশিয়ানদের ধারণা মি: পুতিনের মাধ্যমে তারা আবার সুপার পাওয়ার দেশে আসীন হবে।

Reactions

2
1
0
0
0
0
Already reacted for this post.

Reactions

2
1

Nobody liked ?