Now Reading
পৃথিবীর সবচেয়ে বিস্ময়কর দুটি বৃক্ষ, মেথুলাস এবং সিক্যুয়া



পৃথিবীর সবচেয়ে বিস্ময়কর দুটি বৃক্ষ, মেথুলাস এবং সিক্যুয়া

প্রাণীজগতের বয়স এবং এদের আকার আকৃতি সম্পর্কে আমাদের আগ্রহ কৌতুহলের শেষ নেই। ধারণাও কম নেই মানুষের। কারণ মানুষ জ্ঞান পিপাসু এবং কৌতুহলী।

বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষটির বয়স কত হয়েছিলো, সমুদ্রের প্রাণী কূলের বয়স সর্বোচ্চ কত বা স্থলভূমিতে সবচেয়ে বয়স্ক বৃক্ষের কত বয়স হতে পারে বা উচ্চতা কত এই নিয়ে গবেষণা করা হয়ে থাকে। একশ, দুইশ, তিনশো, চারশো বা সর্বোচ্চ পাঁচশো বছর পর্যন্ত গণনা করা সম্ভব হয়েছে। তবে স্থাপত্য শিল্পগুলোই সাধারণত হাজার বছর বা তারও বেশী হয়ে থাকে। যা আকার আকৃতিও সেই সময় থেকে অনেক সমৃদ্ধ। তবে এখানে কোন স্থাপত্য নয়, বিস্ময়কর দুটি গাছ সম্পর্কে বলব। যা এখনও জীবিত।

মেথুলাস গাছ:-

একটি গাছের বয়স সাধারণত কত হতে পারে!? বড় জোর একটি বটবৃক্ষের বয়স পাঁচশো বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে যতদূর জানা যায়। কিন্তু কখনো কোন গাছের বয়স প্রায় পাঁচ হাজার বছর হতে পারে এমন কথা শোনা তো দূর কল্পনাও কেউ করেনি তবে এটা বাস্তবেই এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট মাউন্টেসে এমন একটি গাছের সন্ধান মিলেছে যার বয়স চার হাজার আটশো চুরাশি বছর বা প্রায় পাঁচ হাজার বছর।

গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Pinus longaeva. গ্রেট বেসিন বিসলকোন পাইন জাতের এ গাছটির নাম রাখা হয়েছে মেথুলাস। এই মেথুলাস হল বাইবেলে বর্ণিত সবচেয়ে বয়স্ক চরিত্রটির নাম। বাইবেলের মেথুলাসের বয়স ছিল ৯৬৯ বছর। কিন্তু বৃক্ষ মেথুলাসের বয়স আরো অনেক বেশী।

বিজ্ঞানীরা হিসাব করে দেখেছেন, মেথুলাসের জন্ম যিশুখ্রিস্টের জন্মেরও ২ হাজার ৮৩২ বছর আগে। অর্থাৎ যা পিরামিড তৈরিরও বেশ আগে। তাহলে গাছটার বর্তমান বয়স ৪ হাজার ৮৪৪ বছর!কে জানে, কত শত বা হাজার ইতিহাসের স্বাক্ষ বহন করছে এই বিস্ময়কর গাছটি!

সিক্যুয়া গাছ:-

ক্যালিফোর্নিয়ার সিক্যুয়া ন্যাশনাল পার্ক। এ বনটি বিশ্বের বৈচিত্র্যময় বনগুলোর অন্যতম একটি। যেখানে দেখা মেলে দৈত্যাকৃতির বিভিন্ন গাছ। তবে এখানে পৃথিবীর সবচেয়ে বিশাল আকৃতির গাছটি অবস্থিত। যেটি প্রায় ৫২,৫০০ কিউবিক ফিট উচ্চতাসম্পন্ন সিক্যুয়া জেনারেল শেরমেন।বিস্ময়কর এই দৈত্যাকার সিক্যুয়া গাছ দেখতে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ছুটে আসে রেডউড বনে। এই গাছটি দেখতে এতটাই প্রকান্ড যে এর পাশে মানুষকে পোকামাকড় মনে হবে । ধারণা করা হয় এই গাছটি প্রায় ২,০০০-৩,২২০ বছরের পুরানো।

কিছু কিছু সিক্যুয়া গাছের গোড়ার অংশ এতটাই প্রকান্ড যা কেটে যাতায়াতের রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। অত্যন্ত সুন্দর এবং অতিকায় এই গাছটি দেখে মানুষ যেমন মুগ্ধ হয় তেমনি নির্বাক হয়ে যায় এর উচ্চতা দেখে।

তথ্যসুত্র: ইন্টারনেট

About The Author
Fatematuz Zohora ( M. Tanya )
Little writer & poet...!
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment