Now Reading
সাম্প্রদায়িকতার ছোবলে আমির খানের পরবর্তী সিনেমা মহাভারত।



সাম্প্রদায়িকতার ছোবলে আমির খানের পরবর্তী সিনেমা মহাভারত।

আমির খান যিনি ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ কিংবা ‘মিস্টার প্যাশনিস্ট’ হিসেবে সমাধিক পরিচিত।এটা সবাই এক কথাই স্বীকার করে নেবে যে বলিউডে এতটা নিঁখুত অভিনয় করতে পারে এমন খুব কম জনই আছে।অভিনয়ে অসামান্য দক্ষতা তাকে নিয়ে গেছে সাফল্যের শিখরে,গত কয়েক বছর ধরে তার যতগুলো সিনেমা রিলিজ হয়েছে সবগুলোই প্রায় বক্স অফিসের অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙেছে,তার অভিনীত দঙ্গল তো বলিউডের ইতিহাসই পাল্টে দিল।এতসব সিনেমায় অভিনয় সত্ত্বেও তার দীর্ঘদিনেরর ইচ্ছে ছিল মহাভারত এ কাজ করা।অবশেষে তিনি সেই সপ্নের দোড়গোড়ায় পৌঁছলেনও।ভারতের শীর্ষ ধনকুবের মুকেশ আম্বানি স্বয়ং হাজার কোটি টাকা লগ্নি করবেন এ সিনেমায়।জানা গেছে অনেকটা মেগাসিরিয়ালের মত পর্ব পর্ব করে আগাবে এ সিনেমা এবং আমির কৃষ্ণেরর চরিত্রে অভিনয় করবেন।কিন্তু বিপত্তিটা হল এ বিষয়গুলো জানাজানি হওয়ার পরে ভারতের কট্টরপন্থী হিন্দুরা ঘোর বিরোধীতা এবং সমালোচনা শুরু করেন,কারন একটাই আমির মুসলমান হয়েও কেন হিন্দুদের মহাভারত এ অভিনয় করবে।আর এই সমালোচনার তীব্রতা আরো বাড়িয়ে দিল ভারতে বসবাসকারী ফরাসি সাংবাদিক ফ্রাসোয়াঁ গতিয়ের টুইট।

শনিবার টুইট করে তিনি বলেছেন, ‘মুসলিম হয়ে কী ভাবে মহাভারতের মতো হিন্দুদের পবিত্র মহাকাব্যে অভিনয় করতে পারেন আমির? ইসলামের কোনও ধর্মগুরুর ভূমিকায় যদি হিন্দু অভিনেতাকে দেখা যায়, তবে কি মুসলিমরা মেনে নেবেন?’
একটা জিনিস মাথায় রাখা উচিত যে,শিল্পর সঙ্গে সাম্প্রদায়ীকতা যুক্ত হলে সেই শিল্পর ধংস অবশ্যম্ভাবী ।
ধর্ম ব্যক্তিগত আর অভিনেতা সার্বজনীন।
একজন অভিনেতা মুসলিম হয়ে মহাভারতে অভিনয় করলে কি মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে?
আর এটাও সত্য যে আমিরের মত নিঁখুতভাবে এ চরিত্রটি অন্য কেউ হয়তো ফুটিয়ে তুলতে পারবেনা অন্তত আমিরের বিগত সিনেমাগুলো তাই বলে।
আক্রমণের শিকার হওয়ার পর আমির খানের পক্ষে কথা বলেন জাভেদ আখতার। তিনি বলেন, ভারতে সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়ানোর জন্য বিদেশের কোনো কোনো এজেন্সি হয়তো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা ভারত সম্পর্কে কিছুই জানে না।
এটাও সত্য যে,আমিরের পরিবর্তে এ চরিত্রে অন্য কোনো অভিনেতা অভিনয় করলে মুকেশ এত টাকা লগ্নি করার আগ্রহ প্রকাশ করতেন না।কারন আমিরের গত দঙ্গল সিনেমাটি সর্বমোট দুই হাজার কোটি টাকা আয় করেছে সারা বিশ্বে আর আমিরের একটি বিশেষ সুবিধা হল চিনের হলগুলোতে সবসময়ই আমিরের সিনেমাগুলো অন্য বলিউড অভিনেতাদের সিনেমার চেয়ে বেশি আয় করে আসছে।তার থেকেও বড় কথা আমিরের নিঁখুত অভিনয়শৈলীর দ্বারা মহাভারত সিনেমাটি নির্মান হলে সারা বিশ্বে এ সিনেমার গ্রহনযোগ্যতা বেশি পাবে এবং মহাভারত সম্পর্কে সবাই আরো ভালোভাবে জানতে পারবে।

About The Author
hasiburrahman
Hasibur Rahman
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment