Now Reading
জায়ান্ট রাশিয়া’কে রুখতে ব্যাস্ত বিশ্ব, তবে কি তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধের প্রস্তুতি?



জায়ান্ট রাশিয়া’কে রুখতে ব্যাস্ত বিশ্ব, তবে কি তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধের প্রস্তুতি?

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কূটনীতিক বিতাড়নের মুখে পড়েছে বিশ্ব জায়ান্ট রাশিয়া। সাবেক রুশ গুপ্তচর এবং ডাবল এজেনট সের্গেই স্ক্রিপাল এবং তার কন্যার ওপর সোভিয়েত আমলের দুর্লভ নার্ভ এজেন্ট প্রয়োগ করে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে এমাসের শুরুতে ২৩জন রুশ কূটনৈতিক বহিষ্কার করেছে যুক্তরাজ্য। অবস্থা এতটাই খারাপ হতে থাকে যে রাশিয়াও পাল্টা জবাব হিসেবে সম সংখ্যক ব্রিটিশ কূটনীতিক বহিস্কার করে তার দেশ থেকে। এদিকে ঘটনার  ধারাবহিকতায় যুক্তরাজ্যের সাথে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বপূর্ণ বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র তাদের দেশ থেকে রুশ কূটনীতিকদের বহিষ্কার করছেন। তবে এ প্রক্রিয়ায় একটু বেশি মাত্রায় প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তিনি তার আদেশে সবচেয়ে বেশি মোট ৬০ জন কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছেন আমেরিকা হতে ।

তার মধ্যে ওয়াশিংটন রুশ দূতাবাসের ৪৮ কূটনীতিক ও নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে কর্মরত ১২ কূটনীতিককে বহিষ্কারের প্রজ্ঞাপন জারী করেছে। যুক্তরাষ্ট্র আর অভিযোগ করেছে, শতাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা কূটনৈতিক পদে নিযুক্ত আছে রাশিয়ার যা বহিষ্কারের পরও অনেক কর্মকর্তা থেকে যাবে। অবস্থাটা এমন প্রতিটি রুশ কূটনীতিককে গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবেই ধরে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে সেটলে রুশ দূতাবাসও বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাশিয়া যে নার্ভ এজেন্ট ব্যবহার করে একজন ব্রিটিশ নাগরিক ও তার মেয়েকে হত্যার চেষ্টা করেছে গত ৪ মার্চ । তা তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাজ্যের অগণিত নিষ্পাপ জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এরইমধ্যে একজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ তিনজনকে গুরুতর আহত হয়েছে। সামরিক পর্যায়ের এই নার্ভ গ্যাস প্রয়োগ রাসায়নিক অস্ত্র চুক্তির ভয়ানক লঙ্ঘন ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে দাবী যুক্তরাষ্ট্রের।

ইতিহাস বলছে, এই প্রথমবারের মত রাশিয়ার এত বেশি সংখ্যক কূটনীতিককে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে একযোগে বহিষ্কার করা হচ্ছে। এই তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। গত সপ্তাহে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ রাশিয়ার বিরুদ্ধে নার্ভ এজেন্ট ব্যবহারের বিষয়ে ঐক্যমত হন।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে স্পষ্ট বলেছেন, প্রেসিডেন্ট পুতিন ও তার সরকার আমাদের সবার স্বার্থ এবং নিয়মের বাইরে গিয়ে আন্তঃ মহাদেশে ও বিশ্বব্যপী বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন। তিনি আরো বলেছেন, ইউরোপের একটি সার্বভৌম গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সাথে মিলে এই হুমকির প্রতিরোধ করবে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল বলেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম ইউরোপে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে কাউকে হত্যার চেষ্টা খুবই দুঃখজনক।

তবে শুরু থেকেই রুশ ডাবল এজেন্টকে হত্যা প্রচেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করে, এ আচরণকে উস্কানিমূলক বলে অভিহিত করে রাশিয়া জানিয়েছে তারা শীঘ্রই পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় তাদের এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ পদক্ষেপ বিরোধিতার সম্পর্ক তৈরির ধারাবাহিক অংশ বলেই ধরে নেবে রাশিয়া। তারা এ আচরণকে অবন্ধুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়া সকল দেশের বিরুদ্ধেই পাল্টা ব্যবস্থা নেবে হবে বলে হুশিয়ারি দেয়া হয় একই বিবৃতিতে।

চলুন জেনে নিই কোন কোন দেশ কি পরিমাণে তাদের দেশ থেকে রুশ কূটনীতিক বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছেঃ

যুক্তরাজ্যঃ ২৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রঃ  ৬০ জন, ইউক্রেনঃ ১৩জন, জার্মানিঃ ৪জন, ফ্রান্সঃ ৪জন, পোল্যান্ডঃ ৪জন, লিথুয়ানিয়াঃ ৩জন, চেক প্রজাতন্ত্রঃ ৩জন,  ইতালিঃ ২জন, অস্ট্রেলিয়াঃ ২ জন, স্পেনঃ ২জন, ডেনমার্কঃ ২জন, নেদারল্যান্ডসঃ ২জন, আলবেনিয়াঃ ২ জন, এস্তোনিয়াঃ ১জন, ফিনল্যান্ডঃ ১জন, সুইডেনঃ ১জন,ক্রোয়েশিয়াঃ ১জন,  হাঙ্গেরিঃ ১জন, লাটভিয়াঃ ১জন, রোমানিয়াঃ ১জন, নরওয়েঃ ১ জন, মেসিডোনিয়াঃ ১ জন, কানাডাঃ ৪ জন এবং রাশিয়া থেকে নতুন করে আরো ৩ জনের আবেদন প্রত্যাখ্যান।

আরো কয়েকটি দেশ নতুন করে এই তালিকায় যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যে তারাও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। এদিকে গ্রীস, অস্ট্রিয়া ও পর্তুগাল জানিয়েছে তারা কোনো রুশ কূটনৈতিককে তাদের দেশ থেকে বহিষ্কার না করলেও যুক্তরাজ্যের প্রতি পূর্ণ সমর্থন আছে তাদের।

অন্যদিকে উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে আইসল্যান্ড ঘোষণা দিয়ে দিয়েছে তারা রাশিয়ার সাথে উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা স্থগিত করেছে। আইসল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় নেতারা রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছে। অবশ্য এমাসের শুরুতেই যুক্তরাজ্যও জানিয়েছে তাদের রাজপরিবারের কোন সদস্য বা মন্ত্রী রাশিয়া ফুটবল বিশ্বকাপে যাচ্ছে না।

বিশ্ব তাকিয়ে আছে এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়া কি পদক্ষেপ নিচ্ছে! রাশিয়াকে চটিয়ে দিলে বিশ্ব দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়বে তাতে কোন সন্দেহ নেই তবে এতে সম্ভাবনা জাগিয়ে দেবে আরেকটি বিশ্ব যুদ্ধের!

About The Author
MP Comrade
MP Comrade
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment