Now Reading
পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর এবং বৃহত্তম লেক ‘বৈকাল লেক’



পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর এবং বৃহত্তম লেক ‘বৈকাল লেক’

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম বিস্ময়কর একটি নিদর্শণ হচ্ছে লেক বা হ্রদ। লেক সাধারণত কোন জলাশয়কে বোঝায় কিন্ত লেকের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তা নদীর মতো প্রবাহিত হয়ে অন্য নদী বা সাগরে গিয়ে মেশে না। লেক হলো একটি আবদ্ধ জলাশয় যা অনেক সময় নদীর থেকেও বিশাল হয়ে থাকে। পৃথিবীতে বেশ কিছু এমন লেক রয়েছে যার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং গভীরতা দেখে বোঝার সাধ্য নেই যে এটা আসলে নদী নাকি লেক! আবার কখনো ছোট কোন সমুদ্র ভেবেও ভুল হতে পারে! অনেক হ্রদ বা লেক অবশ্য আয়তন ও গভীরতায় ছোটও হয়ে থাকে।

পৃথিবীতে কিছু লেক মানুষের তৈরি আবার কিছু লেক প্রাকৃতিক ভূগর্ভে প্রচণ্ড কম্পন বা আলোড়নের ফলে যে বিশাল ফাটল সৃষ্টি হয় তা থেকেও উৎপত্তি হয়। পৃথিবীর কিছু লেক হাজার বছর বা তারও অনেক পুরোনো আবার কিছু লেক সাম্প্রতিক সময়ে সৃষ্টি হয়েছে। তবে যাই হোক লেকগুলো সাধারণত অপূর্ব সুন্দর হয় যা সহজেই মানুষের মন কাড়ে আর এই স্বর্গীয় অপরুপ সৌন্দর্য অবলোকন করতে ভ্রমন পিপাসু মানুষ সারাবছরই এসব যায়গায় ভিড় করে থাকে। পৃথিবীর বুকে এমন অপূর্ব সুন্দর একটি লেক হচ্ছে ‘বৈকাল হ্রদ’।

এটি পৃথিবীর প্রাচীনতম একটি হ্রদ, যা আনুমানিক ২৫-৩০ মিলিয়ন বছর আগে সৃষ্টি হয়েছিল। বৈকাল হ্রদ পৃথিবীর সবচেয়ে পরিষ্কার এবং স্বচ্ছতম একটি হ্রদ। এই হ্রদের পানির নীচে ৪০ মিটার পর্যন্ত স্পষ্ট দেখা যায়। ১৬৪৩ সালে কুরবাট ইভানভ প্রথম ইউরোপীয় হিসেবে বৈকাল হ্রদে পৌঁছান এবং ১৯৯৬ সালে ইউনেস্কো বৈকাল হ্রদকে World Heritage Site হিসেবে ঘোষণা করে।

রাশিয়ার পূর্ব সাইবেরিয়ার দক্ষিণ প্রান্তে, বুরয়াটিয়া রিপাবলিক ও ইরকুটস্ক প্রদেশের মধ্যে অবস্থিত বৈকাল হ্রদ হল একটি মহাদেশীয় চ্যূতি হ্রদ। বৈকাল হ্রদ হল পৃথিবীর গভীরতম, প্রাচীনতম ও স্বচ্ছতম হ্রদ যা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। এই হ্রদ ‘The Pearl of Siberia’, ‘Galapagos of Russia’, ‘Ozero Bajkal’ নামেও পরিচিত। বৈকাল হ্রদ রাশিয়ার সর্ব-উত্তরের অঞ্চল সাইবেরিয়ার দক্ষিণে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এবং পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও প্রাচীনতম হ্রদ। এই হ্রদের চারিপাশ পাহাড় দিয়ে ঘেরা। ধারণা করা হয়, ২৫ থেকে ৩০ মিলিয়ন বছর আগে ‘বৈকাল ফাটল এলাকা’র ভূগর্ভে তীব্র আলোড়নের ফলে ভূপৃষ্ঠে এক প্রকার ফাটলের সৃষ্টি হয় । আর এর ফলেই এই বিশাল জলাশয় বৈকাল হ্রদের সৃষ্টি হয়েছিল। আয়তনের মত গভীরতার দিক থেকেও এটি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ লেক। বিশালতার কারণে প্রাচীন চীনা পাণ্ডুলিপিতে এই হ্রদকে ‘উত্তর সাগর’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বহুকাল ধরে ইউরোপের মানুষ সাগরসদৃশ এই হ্রদের খোঁজ জানত না। রাশিয়া এই অঞ্চলে তাদের রাজ্য সম্প্রসারিত করলে সর্বপ্রথম কুরবাত ইভনিভ নামক এক রুশ অনুসন্ধানী গবেষক ১৬৪৩ খ্রিস্টাব্দে এই এলাকায় পৌঁছেন। তার মাধ্যমে প্রকৃতির অপরূপ বিস্ময় ও সৌন্দর্যের লীলাভূমি বৈকাল হ্রদের জীব-বৈচিত্র্যের এক সমৃদ্ধ ভাণ্ডার সম্পর্কে জানা যায়। এই হ্রদের পাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ১ হাজার ৭০০’রও বেশী জাতের গাছপালা ও জীবজন্তু রয়েছে, যার এক-তৃতীয়াংশ পৃথিবীর অন্য কোথাও দেখা যায় না।

বৈকাল একট শীত প্রধান এলাকা।  শীতকালে এই হ্রদের পানি বরফ হয়ে পুরু আস্তরণের তৈরি হয় যার উপর দিয়ে অবলীলায় হেঁটে যাওয়া সম্ভব।

বৈকাল হ্রদ সঞ্চিত জলের আয়তনের ভিত্তিতে পৃথিবীর বৃহত্তম মিষ্টি জলের হ্রদ। রাশিয়ার বৈকাল হ্রদ নৈসর্গিক সৌন্দর্যে এবং ভৌগোলিক ও জীব বৈচিত্র্যতায় সত্যিই অপূর্ব সংমিশ্রণ।

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট

 

About The Author
Fatematuz Zohora ( M. Tanya )
Little writer & poet...!
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment