চট্টগ্রাম এর নাম পরিবর্তন নিয়ে ষড়যন্ত্র!

Please log in or register to like posts.
News

বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামকে নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন এক ষড়যন্ত্র। এবার সরাসরি খড়গ বসাতে চাচ্ছে তার দেহে অর্থাৎ ইংরেজি নামটা পুরোপুরি মুছে দেয়ার উদ্যেগ নেয়া হয়েছে। ইংরেজিতে চিটাগং বলার একটা রেওয়াজ সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই এমন নয়যে স্বাধীন পরবর্তী এর নামকরণ হয়েছিল। কিন্তু বদলে যাওয়ার পথে এখন সে নিয়ম। সিদ্ধান্ত হতে চলেছে এখন থেকে নাকি চট্টগ্রামকে ইংরেজিতেও ‘চট্টগ্রাম’ লিখতে হবে। তবে এ নাম পরিবর্তনের তালিকায় চট্টগ্রামের সাথে আরো আছে বরিশাল, কুমিল্লা, বগুড়া ও যশোর জেলার নাম তাদেরও ইংরেজি বানান পরিবর্তন করা হচ্ছে। মূলত বাংলা নামের সঙ্গে মিল করতেই এ পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এমনটাই জানান। তিনি বলেন পাঁচটি জেলার নামের ইংরেজি বানানের অসংগতি দূর করতে আগামীকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আরো জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করবেন।

সরকারের সকল উন্নয়ন এর উদ্দ্যেগ প্রশংসনীয়, কিন্তু এমন একটা বিষয়ের উপর তারা হস্তক্ষেপ করছে যেটার সাথে চট্টগ্রামবাসীর রয়েছে হৃদ্যতায় প্রায় ২৬০বছরের দীর্ঘ সম্পর্ক। চট্টগ্রামের ঐতিহ্য হাজার বছরের যা তিলে তিলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর নামেও রয়েছে বেশ বৈচিত্র্য, প্রায় ৪৮টি নামের খোঁজ মেলে চট্টগ্রাম নিয়ে। ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম মোঘল সম্রাজের অংশ হয়, পরবর্তীতে আরাকানদের পরাজিত করে মোঘলরা দখল করে নিয়ে এর নাম রাখেন ইসলামাবাদ। ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে মীর কাশিম আলী খান ইসলামাবাদকে(চট্টগ্রাম) ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করে দেয়। ব্রিটিশ অধিভুক্ত হওয়ার পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি চট্টগ্রামকে ইংরেজিতে চিটাগং হিসেবেই নামকরণ করে। সেই হতে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম ইংরেজিতে চিটাগং হিসেবেই লেখা হয়ে আসছে এবং বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়ে আসছে। সারা বিশ্বের কাছে চিটাগং পোর্ট এর আলাদা একটা কদর আছে সেই ব্রিটিশ পিরিয়ড থেকেই। কেবল প্রসিদ্ধ এই নামের বদৌলতে চিটাগং তথা বাংলাদেশকে চিনে নেয় বিশ্ব। কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থের কথা বিবেচনা না করেই ইংরেজি চিটাগং নামের পরিবর্তনে তোড়জোড় শুরু করেছে চট্টগ্রাম বিদ্বেষী সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা।

চট্টগ্রামের ইংরেজি বানান Chittagong এর পরিবর্তে বানান Chattagram করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রস্তাব দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জেলার নামের বানান বাংলা উচ্চারণের সঙ্গে ইংরেজিতে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধি বা নীতিমালা নেই। কেবল নতুন বিভাগ, জেলা, উপজেলা, থানা কিংবা প্রশাসনিক ইউনিট গঠনের সিদ্ধান্ত নিতে নিকার সভার আহ্বান করা হয়। যে নিকার সভার মাধম্যে নামের এই পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে সেই কমিটির আহ্বায়ক হচ্ছেন প্রধামন্ত্রী। এখন প্রশ্ন হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ বিষয়ে স্বদিচ্ছা আছে কিনা?

এদিকে জেলার নামের বাংলা উচ্চারণের সাথে ইংরেজিতে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে হতেই হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধি বা নীতিমালা না থাকা সত্ত্বেও মন্ত্রীপরিষদ কেন এত উৎসাহী হয়ে উদ্যেগটি নিচ্ছেন তা বোধগম্য নয়। ইতিমধ্যেই এ নিয়ে বেশ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে চট্টগ্রামের স্থানীয় জনগণের মাঝে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব কম বেশি সকলে। প্রায় প্রত্যেকেই বিষয়টি নিয়ে বেশ মর্মাহত। সকলেরই অভিন্ন দাবী ইংরেজিতে চিটাগং থাকলে কোন সমস্যা নেই বরং পরিবর্তনে সমস্যা বাড়বে। এখানকার মানুষ ইংরেজিতে চিটাগং বলতেই বেশ গর্বেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। স্থানীয় বিজ্ঞাপনসহ অনেক ক্ষেত্রেই চিটাগং ব্যাবহার করা হয়, এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠানের নামের সাথেও তা যুক্ত। সবাই আশংকা করছেন যে নাম পরিবর্তনের এই উদ্দ্যেগে না জানি চিটাগং এর ঐতিহ্যও বিলীন হয়ে যায়! শুধু নাম পরিবর্তন হলেই যে দায় মুক্তি ঘটবে তা কিন্তু নয়, এর সাথে অন্যান্য সামগ্রিক বিষয়ে একটি পারিপার্শ্বিক চাপ সৃষ্টি হবে। প্রায় প্রত্যেকেই দ্বিধাহীনতায় ভুগবে ইংরেজি নামের ক্ষেত্রে। এই নাম পরিবর্তন শুধু যে সরকারি দলিলাদিতেই হবে তা কিন্তু নয় পর্যায়ক্রমে প্রাইভেট সেক্টরে এর প্রভাব বিস্তার ঘটবে। বেশিরভাগ মানুষের মত আমারও মত অন্তত নাম পরিবর্তনের পূর্বে একটা জরিপ চালানোর বিশেষ প্রয়োজন ছিল। কারো ইচ্ছা অনিচ্ছায়তো এত বছরের নামের গৌরব ঐতিহ্যকে মুছে দিয়ে এর অস্তিত্ব অস্বীকার করা যাবেনা। প্রসঙ্গতই অনেকের ধারণা- মন্ত্রীপরিষদে চট্টগ্রাম বিদ্বেষীদের প্রভাব বেশি, হয়ত চট্টগ্রামকে বেকায়দায় ফেলতে তাদের এই হীন চক্রান্ত! নাম পরিবর্তন করে চট্টগ্রামকে পিছিয়ে দিতে তাদের তৎপরতা। অন্যথা কোন প্রকার সভা সেমিনারে আলাপ আলোচনা না করে, জনমত উপেক্ষা করে একটা অঞ্চলের দীর্ঘ ঐতিহ্যগত নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়ার অর্থই হচ্ছে সেই অঞ্চলের জনগণকে চরম অপমান করার শামিল। তাই সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ দয়া করে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসুন, চট্টগ্রামের মানুষ ইংরেজিতে চিটাগং বলতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে আসছে যুগ যুগ ধরেই। প্রয়োজনে জনমত জরিপ চালান তবুও তড়িৎ সিদ্ধান্তে এমন কিছু করবেননা যেটা সত্যিকার অর্থেই জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়! 

Reactions

1
1
0
0
0
0
Already reacted for this post.

Reactions

1
1

Nobody liked ?