অন্যান্য (U P)

এমসিকিউ পদ্ধতি বাতিল পিইসি দিয়েই

শেষ পর্যন্ত সরকার পরিক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে নানামুখী পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এমসিকিউ পদ্ধতি বাতিল করে দিচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা থেকে। গতকাল সংবাদমাধ্যমে এমনটাই জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। তবে তার এই ঘোষণায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

অভিভাবকদের অভিমত, বছরের তিন মাস পার হয়ে যাওয়ার পর সরকারের এমন সিদ্ধান্তে প্রভাব পড়বে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উপর। তারা এখন মানসিকভাবে যেমনটা প্রস্তুতি নিয়েছে তাতে যদি এই পরিবর্তন এখন আনা হয় তবে শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত হতে পারে। এমনকি তাদের পাস করতে কষ্ট হয়ে যাবে। অনেকের আশংকা এটা উঠিয়ে দিলে বাচ্চারা মুখস্থ বিদ্যার উপর বেশি ঝুঁকে পড়বে এবং নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্ন ছাড়া পুরো বই আর পড়বে না। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে অন্য কোন ব্যবস্থাও গ্রহণ করে এর সমাধান সম্ভব ছিল। কিন্তু এখন এমসিকিউ বাদ হয়ে গেলে ছেলে মেয়েদের অনেক অসুবিধা হয়ে যাবে বলে আশংকা অভিবাবকদের। এমসিকিউ বাতিল প্রশ্ন ফাঁস রোধের সমাধান নয় বলেও মনে করেন তারা।

অনেক শিক্ষাবিদ পক্ষে বিপক্ষে মত দিয়েছেন, কেউ বলছেন – সারা পৃথিবীতে বিভিন্ন পর্যায়ে এমসিকিউ প্রশ্ন চালু রয়েছে। আমরা যদি রচনামূলক প্রশ্নে চলে যাই তাহলে কিন্তু মূল্যায়নের অসঙ্গতি দারুণভাবে থেকে যাবে। তাই পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন না করে, প্রশ্ন ফাঁস রোধে প্রয়োজন কেবল যথাযথ নজরদারি এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ।

আবার অনেক শিক্ষাবিদ এর ভাষ্য, এমসিকিউটা ঠিকভাবে নিতে পারলে একদিকে ভাল হত। তবে যদি ধরেই নেয়াই হয় যে, এমসিকিউটা আমরা নিতে পারবো না তাহলে এটি বাতিল করা দীর্ঘমেয়াদের জন্য ভালো। তারা প্রাথমিক পাবলিক পরীক্ষা থেকে এটি বাদ দিয়ে দেয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এর এমন উদ্যেগ নেয়ার অবশ্য যথেষ্ট কারণ আছে। দেশের অন্যান্য পাবলিক পরিক্ষার প্রস্নপত্র ফাঁসের আঁচ লেগেছে প্রাথমিক স্তরের প্রশ্নপত্রেও। দেখা গেছে গত বছরে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রায় সব প্রশ্নই ফাঁস হয়েছে। যার ফলে পূর্ব থেকে ঘোষণা ছিল এমসিকিউ পদ্ধতি আর থাকবেনা আর এবারই নড়েচড়ে বসে মন্ত্রণালয়। মন্ত্রনালয় বলছে প্রশ্নফাঁস রোধে নানান মহল থেকে সুপারিশ ছিল। আর বাস্তবতার নিরিখে তারা পদক্ষেপ নিচ্ছে এমসিকিউ তুলে দেয়ার। কেননা এমসিকিউ পদ্ধতিতে দ্রুত নাম্বার তোলা যায় কেবল একটি টিক চিহ্ন দিয়ে বা বৃত্ত ভরাট করেই।

উল্লেখ্য যে, ১০০নম্বরের পিইসি পরীক্ষায় ৫০ নম্বর এমসিকিউ এবং বাকী ৫০ নম্বর রচনামূলক পদ্ধতি চালু ছিলো। তবে সরাকারি সিদ্ধান্তে এখন থেকে ১০০ নম্বরের পুরোটাই লিখিত পরীক্ষা নেয়া হবে।

গত কয়েক বছর থেকেই পরীক্ষা শুরু হওয়ার পূর্বে আতঙ্ক থাকে যে – এই বুঝি প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে? ঠিক এমনি এক শঙ্কায় সিদ্ধান্ত হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় এখন থেকে আর এমসিকিউ বা নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন রাখা হবে না। প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী গত মঙ্গলবার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ২০১৭ এর বৃত্তির ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।

 

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

জীবনের ফর্দনামা এবং দাদা (বড়ভাই)

ধর্মের আড়ালে পরিচালিত ইতিহাসের কুখ্যাত কিছু খুনি কাল্ট

MP Comrade

বাংলাদেশের ক্রিকেটে উন্নতির ইতিহাস

Muhammad Uddin

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy