আলোচনায় ব্রেকিং নিউজ কারেন্ট ইস্যু চট্টগ্রাম

চিটাগং টু চাট্টগ্রাম

হাস্যকর একটা কাজ করে ফেলতে চাইছে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি। নিকার সভার মাধ্যমে চট্টগ্রামের ইংরেজি ভার্সন অর্থাৎ নামটা পরিবর্তন করতে চলেছে তারা। এখন থেকে নাকি ইংরেজি চিটাগং এর স্থলে ছাট্টাগ্রাম লিখতে বা বলতে হবে। বিষয়টা অনেকটা এমনি। Chittagong এর পরিবর্তে এখন থেকে Chattogram লিখতে হবে। অর্থাৎ Cha=ছা,  tto=ট্টো, gram=গ্রাম… নিজে একবার চেষ্টা করে দেখুননা উচ্চারণটা কেমন? হাস্যকর তাইনা? ভুল শুধরানোর নামে আরেক মস্তবড় ভুলে পড়তে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়াসহ অনেক ক্ষেত্রে সবাই সরব হয়েছেন। সবার যুক্তি ইংরেজিতে “China” যদি বাংলায় “চীন” হতে পারে, “India” যদি বাংলায় “ভারত” হতে পারে, “Egypt” যদি বাংলায় “মিশর” হতে পারে, “Turkey” যদি বাংলায় “তুরস্ক” হতে পারে, “Delhi” যদি বাংলায় “দিল্লি” হতে পারে, “Saudi Arabia” যদি বাংলায় “সৌদি আরব”হতে পারে, “Mecca” যদি বাংলায় “মক্কা” হতে পারে, তবে ২৬০বছরের ঐতিহ্য ইংরেজি “Chittagong” নাম থাকতে সমস্যা কোথায়? 

আছে কোন উত্তর? কারো খেয়াল খুশিতেতো আর নিজেদের এই ঐতিহ্য নষ্ট হতে পারেনা। ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দ হতেই সারা বিশ্ব চিটাগং নামটির সাথে পরিচিত। এই নামেই বিশ্বব্যাপী এই অঞ্চলের একটি পরিচিতি ঘটেছে। এখন যদি খাম খেয়ালীর বসে নামটির পরিবর্তন করা হয় তবে এই পরিচিতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। একটু পেছনে ফিরে গেলেই আদি একটি নামের সাথে সামঞ্জস্য পাওয়া যায়। অনেক নামের ভেতর খোঁজ মেলে চট্টগ্রামের আদি নাম ছিল “চিত তৌ গং”। যার বাংলা অর্থ দাড়ায় যুদ্ব নয় শান্তি। আজ থেকে বহুশত বছর পূর্বে সাগর পথে বহিশত্রুর বারংবার আক্রমনে অতিষ্ট হয়ে তৎকালীন মগ রাজা শান্তি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সাগরের নিকটবর্তী পোতাশ্রয়ে এক সুুউচ্চ টাওয়ার নির্মান করে তাতে লিখে দেন “চিত তৌ গং” কথাটি। যা পোতাশ্রয় থেকে অনেক দূরে চলাচল করা জাহাজ থেকে চোখে পরত। পরবর্তীকালে টাওয়ার এর লেখা টার উপর ভিত্তি করেই পোতাশ্রয় টির নাম হয়ে যায় “চিত তৌ গং”। আর এই চিটাগং ই হল “চিত তৌ গং” এর পরিবর্তিত রূপ। যা পরবর্তিতে এই অঞ্চলে বাঙালীদের আগমনে পরিবর্তন এবং পরিবর্ধনের মধ্য দিয়ে বাংলায় চট্টগাম রূপ ধারন করেছে। সুতরাং পরিবর্তন যদি করতেই হয় তবে বাংলায় চট্টগ্রাম নামটি পরবর্তন করা যুক্তিযুক্ত।

বাংলা উচ্চারণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে বাকী ৪ জেলার ইংরেজি নামের বানানেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেইসব নামেও রয়েছে গড়মিল ও অসামঞ্জস্য। সুনির্দিষ্ট কোন বিধান বা নীতিমালা না থাকা সত্ত্বেও কেবল প্রস্তাবনার উপর ভিত্তি করেই এই সিদ্ধান্তটি নেয়া হচ্ছে। গত সোমবার ২এপ্রিল ২০১৮ইং প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় নামের বানান পরিবর্তনের এই প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

 

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

শিশু পার্ক গুলোতে অবাধে চলছে যুবক-যুবতীদের বেহায়াপনা !

Ferdous Sagar zFs

বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ইউটিউব যুদ্ধ এবং তার পরিণতি

NahidRains vLog

খুব দ্রুত আসছে ঘূর্ণিঝড় “মোরা”

Sayeed al Sifat

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: