বর্বর মালয়েশিয়ান ইমিগ্রেশন পুলিশ

Please log in or register to like posts.
News

মাহাতির মোহাম্মদের মালেয়শিয়া এখন অন্যান্য দেশের শ্রমিক/প্রবাসীদের তুলনায় বাংলাদেশীদের সাথে বৈষম্যভাব দেখাচ্ছে। বাংলাদেশীদের তারা হীন চোখে দেখছে বিশেষ করে শ্রমজীবী হলে তারা মানুষই মনে করছে না। মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাঙালীদের বিভিন্ন সময় ধরপাকর করে জেলে ঢুকিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করছে। তাদের জানতে দেয়া হচ্ছেনা কি কারণে তাদের গ্রেফতার করে জেলে ঢুকানো হয়েছে। মালয়েশিয়া ফেরত শ্রমিকদের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে। তাদের ভাষ্য মতে মালয়েশিয়া জেলে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভাল। মালেয়শিয়ার জেলে অবৈধ শ্রমিকের সাথে বহু বৈধ বাংলাদেশী শ্রমিক  আটক রয়েছে যাদের প্রত্যেকের সাথে একই আচরণ করা হচ্ছে।

এদিকে মালয়েশিয়ার জেলে আটক আছে স্টুডেন্ট এবং ট্যুরিষ্ট ভিসায় আসা বহু বাংলাদেশী। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই দালালকে টাকা ও পাসপোর্ট দিয়ে তারা এহেন বিপদে পড়ছে। ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের কথায় কর্ণপাত না করে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে জেলে পুড়ে দিচ্ছেন। বন্ধীদের ভেতর একেবারে কাগজপত্রবিহীন শ্রমিকরা দেশটির আইনানুসারে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই দুটি করে রতান অর্থাৎ বেত্রাঘাত পাচ্ছে।

বিভিন্ন বন্দী শিবির থেকে মুক্তি প্রাপ্তরা বর্ণনা করেন মালয়েশিয়ার জেলের এই সাজার কথা। তাদের ভাষ্য মতে মালেয়শিয়ার জেলে এমন অনেক বাংলাদেশী আছেন যারা কয়েক বছর ধরে সেখানে আছেন। কিন্তু সেখানে তাদের কোন আত্মীয় বা লোক না থাকায় তারা দেশে ফিরতে পারছেন না। দুর্ভাগা সেইসব বন্দীরা জানে তাদের নামে কেইস আছে কিন্তু কি সে কেইস জানতে চাইলেই নাকি তাদের উপর চড়াও হয় পুলিশ। অবস্থাটা এমন মালেয়শিয়ায় আটক বিদেশীদের মধ্যে শতকরা প্রায় ৯০ জনই বাংলাদেশী। এর এসব হতভাগা বাংলাদেশীদের সামান্য অপরাধেই রড দিয়ে পর্যন্ত আঘাত করা হয়। জেলে বন্দীদের খাবার দাবার এর বেলায়ও নাকি বাংলাদেশীদের সাথে বৈষম্য আচরণ করছে মালয়েশিয়ান পুলিশ। পরিমাণে অল্প খাবার সরবরাহ করে যা খেয়ে অতি কষ্টে মানবেতর সময় পার করছে বাংলাদেশীরা। সকালে এককাপ লাল চা এর সাথে এক টুকরো বনরুটি। দুপুরে একমুঠো ভাত ও একটা শুকনো মাছ আর সন্ধ্যায় দুপুরের মতোই খাবার। চাহিদার তুলনায় পরিমাণে অল্প এই এ খাবার খেয়েই মাসের পর মাস জেলে আটকে আছে অনেকে। এখানে বন্দি হওয়ারপর পরিচিত লোকজনদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যম হচ্ছে চোরাইভাবে ফোন করা। ক্যাম্পের ভেতর এই ব্যবস্থা আছে তবে ৫ মিনিট কথা বলতে গুণতে হয় ৩শ রিঙ্গিত যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৬ হাজার। আর বাইরে থেকে কেউ যদি ব্যাংক একাউন্টে টাকা জমা দেয় তবেই দিন সময় মিলিয়ে ফোন করতে পারে সে ভাগ্যবান বন্দী। এদিকে কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনেই বাংলাদেশীরা ব্যাপকভাবে হয়রানির শিকার হয়। বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা থাকা সত্ত্বেও অনেককে ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে আটক করে রাখা হয়। এমনও অনেকে আছেন যারা ট্যুরিষ্ট ভিসায় এসে ৭ মাসের অধিক সময় ধরে ক্যাম্পে আটকে আছেন। বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা থাকার পরেও কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনের অশোভন আচরণের শিকার হন মালয়েশিয়ায় গমনকারী এসব বাংলাদেশীরা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই টুরিস্টদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দিয়ে থাকে মালয়েশিয়ান ইমিগ্রেশন। তবে এখন তারা বিভিন্ন যাত্রীকে বিমানবন্দরের ডিটেনশন সেন্টারে আটকে রেখে নির্যাতন ও হয়রানি করছে যা পূর্বে নজির ছিলনা। ঘটনা পর্যবেক্ষণে জানা যায় দালাল চক্রের মাধ্যমে ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে যারা মালয়েশিয়ায় যায় তারাই বেশি এই হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হয়ে যখন সন্তোষজনক জবাব দিতে পারছেন না তখনি তাদের ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। আর এসব কারণে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশনে সত্যিকার বাংলাদেশী ট্যুরিস্টদেরও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশীরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে জোর দাবী জানিয়েছে যাতে হাইকমিশনের মাধ্যমে বন্দীদের দ্রুত দেশে পাঠাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহন করে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই বিষয়টি মালয়েশিয়া সরকারের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে ভিসা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় আরও কঠোর হওয়ার জন্য মালয়েশিয়াকে পরামর্শও দিয়েছে বাংলাদেশ। তবুও যেন বিনা প্রয়োজনে বাংলাদেশীদের হয়রানি না করে।

অন্যান্য দেশের তুলনায় মালয়েশিয়ার ট্যুরিস্ট ভিসা পাওয়া অনেকটাই সহজ। দেশটির ট্যুরিস্ট ভিসা নেয়ার ক্ষেত্রে ইন্টারভিউ ছাড়াই শুধুমাত্র কাগজপত্র দেখেই ভিসা প্রার্থীকে ট্যুরিস্ট ভিসা দিয়ে থাকে ঢাকার মালয়েশিয়ান হাইকমিশন। আর এই সুযোগে বেশ কিছু দালাল ও প্রতারক চক্র মালয়েশিয়ার ট্যুরিস্ট ভিসায় সেদেশে লোক পাঠায়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য, মালয়েশিয়াকে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশী যাত্রীদের হয়রানির ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক জানানো হয়েছে। বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা থাকার পরেও বাংলাদেশীদের সেদেশে প্রবেশ করতে না দেয়া ও নানারকম হয়রানিমূলক আচরণ করার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মনে করছেন তারা। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার বিষয়ে মালয়েশিয়া আরও কঠোর হতে পারে তবে ভিসা প্রদানের পর বিমানবন্দরে হয়রানি করাটা মোটেও কাম্য নয় এবং এটা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশী যাত্রীদের যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে বলে আশ্বাসও দিলেও কার্যত ফলপ্রসূ কোন পদক্ষেপ নিতে তাদের দেখা যাচ্ছেনা। দিন দিন মালয়েশিয়া ফেরত শ্রমিকদের মুখে শুনা যাচ্ছে বন্দী জীবনের সেই করুণ কাহিনী। এমতাবস্থায় সকল প্রবাসীর দাবী মালয়েশিয়ান পুলিশ যেন এই বর্বরতা দ্রুত বন্ধ করে।

Reactions

1
0
0
0
0
0
Already reacted for this post.

Reactions

1

Nobody liked ?