Now Reading
প্রশ্নফাসহীন পরীক্ষা এ বঙ্গে দীর্ঘজীবী হোক।



প্রশ্নফাসহীন পরীক্ষা এ বঙ্গে দীর্ঘজীবী হোক।

এ জাতি চাতক হয়ে অপেক্ষায় ছিলো।অপেক্ষাটা জলের জন্য ছিলো না,অপেক্ষাটি ছিলো একটি প্রশ্নফাসহীন পরীক্ষার জন্য।এ জাতি তীর্থের কাক হয়ে অপেক্ষায় ছিলো।অপেক্ষাটি ছিলোএকটি প্রশ্নফাসহীন পরীক্ষার জন্য। দীর্ঘদিন এ বংগে তার কোনো দেখা ছিলোনা। তিনি লাপাত্তা ছিলেন। জাতি তার দেখা পেতে উদগ্রীব হয়ে ছিলো।তার দেখা না পেয়ে জাতি কর্তাব্যাক্তিদের অমনোযোগীতা ও উদাসীনতাকে দায়ী করছিলো। কর্তাব্যাক্তিরা তার এই অভাব অস্বীকার করে অবশ্য বলেছিল প্রশ্নফাস বলে কিছু নেই। সব মিডিয়ার সৃষ্টি।অথচ গলি থেকে রাজপথ সর্বোচ্চ খোজাখুজি করে দেখা গিয়েছিলো,এ বঙ্গে তখন প্রশ্নফাসহীন পরীক্ষা বলে কিছু নেই। ‘প্রশ্নফাস বলে কিছু নেই’কথাটি কর্তাব্যক্তিদের সৃষ্টি।তারপর অনেক দিন গত হলো, প্রশ্নফাস পরীক্ষায় পাশ করা প্রজন্মের জন্ম হলো। অত:পর অবশেষে অপেক্ষার প্রহর শেষে দীর্ঘদিন পর এইচ এস সি পরীক্ষার প্রথম প্রহরের এক শুভলগ্নে তিনি পা রাখলেন এই বঙ্গে। জাতির জন্য এ এক অন্যরকম প্রশান্তি, এ এক অনাবিল সুখের প্রাপ্তি।সেহরির পর সারাবেলা অনাহারে কাটিয়ে ইফতারের প্রথম চুমুক পানি যেমন প্রশান্তিদায়ক,প্রশ্নফাসহীন পরীক্ষা জাতিকে ঠিক তেমন একটি প্রশান্তি এনে দিলো।

যাই হোক আশা করবো তিনি কদিনের অতিথি হয়ে নয়, তিনি এদেশে আবার পূর্বের মতো বাড়ি করে বসবাস করত এসেছেন। তিনি য়েনো সেই পরিবেশ পান, আশা করবো এ দিকে কর্তাব্যক্তিগণ নজর রাখবেন অত্যন্ত বিচক্ষনার সহিত। কেনোনা তাকে লুন্ঠন করার মতো বহুচক্র তৎপর রয়েছে এদেশে। তারা যেনো রাতের আধারে তার বাড়িতে ঢিল ছুড়ে উত্যক্ত করার সুযোগ না পায়। আশা রাখবো তার নিরাপত্তা ব্যাপারে কর্তাব্যক্তিগন সদা আন্তরিক থাকবেন। প্রয়োজনে তাকে উত্যক্তকরন নিষিদ্ধের নিমিত্তে আইন করবেন এবং এদেশে অধিকাংশ আইনের প্রয়োগ না থাকলেও এই আইনটার প্রয়োগ বলবৎ রাখবেন।

তবেই সারাবছর পড়ার টেবিলে না বসে পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্ন হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় থাকার অলিখিত মুখ থুবড়ে পড়বে। এ এক ভয়াবহ রকমের ধংসাত্মক রীতি। একটি জাতিকে গোমূর্খ প্রজন্ম উপহার দিতে এই একটি রীতিই ভীষনভাবে যথেষ্ট। এই রীতির সাথে রতিক্রিয়ায় ইতিমধ্যে প্রমান সাইজের একটি গোমূর্খ প্রজন্ম জন্ম হয়েছে, যার খেসারত ভবিষ্যতে এই জাতিকে দিতে হবে ভাবতে গায়ে কাটা দিয়ে ওঠে।

যাই হোক প্রশ্নফাসহীন পরীক্ষার আগমনে জাতি আবার একটি সুশিক্ষিত প্রজন্ম উপহার পাবে,যারা সমস্ত বাধা অতিক্রম করে জাতিকে সম্মুখ দিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে। তারা এদেশের অর্থনীতি,রাজনীতি, সংস্কৃতির চাকাকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে অতন্দ্র প্রহরী সেজে জেগে থাকবে।

পরিশেষে প্রশ্নফাসের দায় এতদিন আমরা যাকে দিয়ে এসেছি,প্রশ্নফাসের জন্য এতদিন আমরা যাকে অযোগ্য অথর্ব বলে ছোট বড় অগনিত কলাম, স্যটায়ার, স্ট্যাটাস লিখেছি। প্রশ্নফাসের জন্য দায়ী করে যাকে নিয়ে আমরা অসংখ্য ট্রল করেছি সে তাকেই অন্তরের অন্তস্থল থেকে কাচা, টাটকা ধন্যবাদ ও শুভকামনা জানিয়ে শেষ করছি।

প্রশ্নফাস নিপাত যাক।
প্রশ্নফাসহীন পরীক্ষা এ বঙ্গে দীর্ঘজীবী হোক।

About The Author
rafiuzzaman
i am a writer
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment