সাফল্যের গল্প

জনপ্রিয় ব্যান্ড এলআরবি’র ২৮শে পদার্পণ

যদি কাউকে প্রশ্ন করা হয়- বাংলাদেশের একটি কিংবদন্তী বিখ্যাত ও জনপ্রিয় রক ব্যান্ড দল এর নাম বলতে। তবে সবাই এল আর বি এর নাম সবার আগেই রাখবে। ১৯৯১ সালের ৫এপ্রিল যাত্রা শুরু করে দেশের অন্যতম প্রধান এই রক ব্যান্ড। এই ব্যান্ডটি ইতিমধ্যেই পাড়ি দিল ২৭টি বর্ণিল বসন্ত। এল আর বি এর পুরো নাম লাভ রান্‌স ব্লাইন্ড। তবে শুরুতে কিন্তু এই নাম ছিলনা। কিংবদন্তী এই ব্যান্ডটি যখন যাত্রা শুরু করে তখন নাম রাখা হয় লিটল রিভার ব্যান্ড নামে। কিন্তু পরে যখন জানা গেল এই নামে অন্য একটি ব্যান্ড আছে তখন নাম চেঞ্জ করে রাখা হল লিটল রিভার ব্যান্ড। পরবর্তীতে এই নাম টিও পরিবর্তন হয়ে বর্তমানে লাভ রান্‌স ব্লাইন্ড নামটি ধারণ করেছে। চট্টগ্রামের সন্তান আইয়ুব বাচ্চু ব্যান্ডটির প্রতিষ্ঠাতা। বাংলাদেশের ব্যান্ড সঙ্গিতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সম্মানিত যে কজন ব্যক্তি আছেন তাদের একজন হলেন তিনি। অবশ্য তিনি এর আগে টানা দশ বছর সোলস ব্যান্ডের মেম্বার ছিলেন এবং তারও আগে ফিলিংসের সাথে যুক্ত ছিলেন। আইয়ুব বাচ্চু তার শ্রোতা-ভক্তদের কাছে এবি (AB) নামেই পরিচিত, যিনি একাধারে গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক। সত্যি বলতে কি আইয়ুব বাচ্চু আর এলআরবি একে অপরের পরিপূরক। অনেকে ভুল করে আইয়ুব বাচ্চুর একক পরিবেশনাকে এলআরবি এর পরিবেশনা ভেবে বসেন। তবে বাচ্চুকে শ্রোতারা এলআরবি এর মাধম্যেই গ্রহণ করেছেন তাতে কিঞ্চিৎ সন্দেহ নেই। ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে মাধবী এবং হকার নামে বাংলাদেশ এর ইতিহাসের প্রথম এই ডব্‌ল্‌ এলবাম দিয়েই যাত্রা শুরু হয়েছিল এল আর বি এর। আর এ পর্যন্ত অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়ে তারা আসন পেতেছেন শ্রোতাদের মনে।

বর্তমান লাইনআপ


ব্যান্ড্‌ এর বর্তমান লাইনআপে লিড গিটারিস্ট এবং ভোকাল হিসেবে আছেন ব্যান্ডেটির প্রতিষ্ঠাতা আইয়ুব বাচ্চু নিজেই। বেইজ গিটারিস্ট হিসেবে আছেন স্বপন, যিনি এলআরবি  এর শুরু থেকেই এখনো সাথে আছেন। গিটারিস্ট ও ভোকাল হিসেবে আরো একজন হচ্ছেন মাসুদ, তিনি ২০০৩ সালে ব্যান্ডটিতে যোগ দেন। ড্রামার হিসেবে আছেন চট্টগ্রামের আরেক প্রিয় মুখ রোমেল। প্রাক্তন ব্যান্ড সদস্যদের মধ্যে ছিলেন-  জয় (ড্রামার), মিল্টন আকবর (ড্রামার), সুমন (ড্রামার), হাবলু (কঙ্গো ও পার্কাসন), শহিদুল ইসলাম টুটুল (কী-বোর্ড), রিয়াদ (ড্রামার)। বর্তমানে কিবোর্ডিষ্ট এর পজিশনটি বিলুপ্ত করেছে ব্যান্ডটি। মুলত রক ঘরানার আধুনিক, ক্লাসিকাল গান দিয়েই এলআরবি শ্রোতাদের মন জয় করে নিয়েছেন। ব্যান্ডটির অসংখ্য জনপ্রিয় গানের মধ্যে- চলো বদলে যাই, হকার, রিটায়ার্ড ফাদার, ঘুম ভাঙ্গা শহরে, ঘুমন্ত শহরে,  এখন অনেক রাত, ফেরারী মন, সাড়ে তিন হাত মাটি, রাতের তারা, রূপালী গীটার, শুক তারা,সুইসাইড নোট অন্যতম।

এলআরবি এর মুক্তি প্রাপ্ত স্টুডিও অ্যালবাম গুলি হচ্ছেঃ মাধবী(১৯৯২),  হকার(১৯৯২), সুখ (১৯৯৩), তবুও (১৯৯৪), ঘুমন্ত শহরে (১৯৯৫), স্বপ্ন (১৯৯৬), আমাদের (১৯৯৮), বিস্ময় (১৯৯৮), মন চাইলে মন পাবে (২০০১), অচেনা জীবন (২০০৩), মনে আছে নাকি নাই (২০০৫), স্পর্শ (২০০৮), যুদ্ধ (২০১২), রাখে আল্লাহ্‌ মারে কে (২০১৬)।  

ফেরারী মন

এছাড়াও ফেরারী মন (১৯৯৬) একটি লাইভ এ্যালবাম এবং আরো বেশ কটি সংকলিত এ্যালবাম আছে।

কিছু মিক্সড এ্যালবামেও তাদের গান রয়েছে, আর তা হলঃ চমক (১৯৯৪), ক্যাপসুল ৫০০মি.গ্রা (১৯৯৬), স্ক্রু ড্রাইভার (১৯৯৬), ধুন (১৯৯৮), সিক্স ব্যান্ড’৯৯ (১৯৯৯), হিট রান আউট, দাবানল(২০০৮), আসর(২০১০), গর্জে উঠো বাংলাদেশ(২০১১)।

১৯৯৩ সালে সাউন্ডটেক এর ব্যানারে মুক্তি পাওয়া এল আর বি এর দ্বিতীয় এলবামটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং শ্রোতাদের মনে শক্তভাবে জায়গা করে নেয়। এই এলবামে এর “চলো বদলে যাই(সেই তুমি)” গান টি বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীত জগতে আলোড়ন তোলে যা  এখনো শ্রোতাদের কাছে সমান জনপ্রিয়।

দেখতে দেখতে ২৮বছরে পা দিল এলআরবি। ব্যান্ডটির বর্ণিল এই দীর্ঘ সময়ে উপহার দিয়েছে অসংখ্য জনপ্রিয় গান আর বিনিময়ে শ্রোতাদের কাছ থেকে অর্জন করেছে অসংখ্য ভালবাসা। পুরস্কার ও সন্মাননা এ পর্যন্ত কম অর্জিত হয়নি এলআরবি’র। পরপর ৫বছর মেরিল-প্রথম আলো তারকা জরিপ পুরস্কার (১৯৯৮-২০০৫) পর্যন্ত সেরা ব্যান্ড ক্যাটাগরিতে নিজেদের কৃতিত্ব ধরে রেখেছিল তারা। বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতে রক ধারণার প্রচলনে নেতৃত্বস্থানীয় হিসেবে ব্যান্ডটি যে অনবদ্য ভূমিকা রেখেছে তা তাদের নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। এলআরবি এর সৃষ্ট গান যুগ যুগ ধরেই বেঁচে থাকবে শ্রোতাদের কণ্ঠে।

শুভ কামনা এলআরবি…

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

বাংলাদেশী যুবকের HWPL শান্তি পুরস্কার লাভ! সাবাস বাংলাদেশ!

Footprint Admin

স্মার্ট ফার্মিং এ নতুন সংযোজন ড্রোন ব্যবহার

MP Comrade

মা মারা যায় যখন আমার বয়স ৪ বছর কিন্তু তার শেষ ইচ্ছেটা রয়ে যায় অপূর্ণ

Rohit Khan fzs

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: