চট্টগ্রাম রাজনীতি

বহু প্রবীণ নেতার ভিড়ে এক উজ্জ্বল তরুণ নেতৃত্ব

এই উজ্জ্বল তরুণ নেতৃত্ব আর অন্য কেউ নন তিনি হলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী যুবলীগ এর যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ। অত্যন্ত বিনয়ী, ভদ্র, সৃজনশীল ও মেধাবী রাজনীতিবীদ হিসেবে চট্টগ্রামে যথেষ্ট সুনাম আছে তাঁর। প্রয়াত রাজনীতিবিদ চট্টলবীর মহিউদ্দিন চৌধুরী এর নিকট আস্থাভাজন ছিলেন তিনি, সম্পর্কটা তাঁদের গুরু শিষ্য সম। তিনি একাধারে রাজনীতিবিদ, সংগঠক, সমাজকর্মী, ক্রীড়া ব্যাক্তিত্ত, গল্পকার এবং নাট্যকার। একাধিক গুণাবলী সম্পন্ন এই ব্যাক্তিটি নিজেকে বিকশিত করেছেন স্বমহিমায়। তাঁর রয়েছে অসংখ্য ভক্ত অনুরাগী যারা তাঁর জন্য নিবেদিত।


ফরিদ মাহমুদ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, তাঁর পিতা আকতার হোসেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটের সন্নিকটে পাক-হানাদার বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন। ফরিদ মাহমুদ এর শরীরে বইছে একজন দেশপ্রেমিক সূর্যসন্তানের রক্তপ্রবাহ। তাই তিনিও পিতার আদর্শে দেশ মাতৃকার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। তিলে তিলে তিনি সগৌরবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মাত্র ৬ মাস বয়সে পিতৃহারা ফরিদ মাহমুদ শৈশব হতে তাঁর জননী আনোয়ারা বেগমসহ বেঁচে থাকার দীর্ঘ সংগ্রাম করে আজ এ পর্যায়ে পৌঁছেছেন। তাঁর সম্পর্কে সঠিকভাবে জানতে হলে একটু পেছনে ফিরে যেতে হয়…

যুদ্ধ পরবর্তীতে তৎকালীন সময়ে শহীদ পরাবারকে সাহায্য সহযোগিতার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সে সময়ের শ্রম ও বাণিজ্য মন্ত্রী চট্টগ্রামের সিংহপুরুষ জননেতা জহুর আহমদ চৌধুরীর আন্তরিক সহযোগিতায় চিটাগং হাউজ বিল্ডিং ডিভিশনের পক্ষ থেকে ০৭-০৬-১৯৭২ ইং ২৪ নং তুলা পুকুর লেইন, লালখান বাজার, চট্টগ্রামে বসবাসের জন্য শহীদ আকতার হোসেনের পরিবারকে একটি বাড়ি বরাদ্ধ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে শহীদ পবিরারের ভরণ পোষণসহ যাবতীয় খরচাদি বহন করার নিমিত্তে ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে চিটাগাং সিমেন্ট ক্লিংকার ফ্যাক্টরী থেকে সিমেন্টের পারমিট, চিটাগাং ষ্টিল মিলস লিমিটেডের পক্ষ থেকে একটি সিআই সিট ও লোহা ও ইস্পাত দুটি পারমিট দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু সরকারের আন্তরিক সহযোগিতায় ঘুরে দাঁড়ানো সত্ত্বেও শহীদ আকতার হোসেনের পরিবারে নেমে আসে আরেক বিপর্যয়। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট হাজার বছরের শ্রেষ্ট সন্তান জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার পরবর্তী সময়ে সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান যখন ক্ষমতায় আসীন হলেন তখন শহীদ আকতার হোসেনের পরিবারকে দেয়া ২৪নং তুলা পুকুর লেইনের বাড়িটি জোরপুর্বক দখল করে তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো: হেদায়েতুল ইসলামকে বরাদ্ধ দেন। উচ্ছেদপূর্বক সেসময় সরকারী লোকজন অসহায় শহীদ পরিবারের মালামাল লুটপাট করে তাদের একপ্রকার সর্বস্বান্ত করে দেয়। শহীদ আকতার হোসেনের স্ত্রী তৎকালীন সময়ে ডবলমুরিং থানায় একটি মামলা রুজু করলেও তার কোন সুফল ভোগ করেননি। এরপরও থেমে থাকেনি জনাব আকতার হোসেনের পরিবারের সদস্যদের জীবন। তখন শহীদ আকতার হোসেনের স্ত্রী তার অবুঝ সন্তানদের নিয়ে পর্যায়ক্রমে বসবাস শুরু করেন চট্টগ্রাম শহরের এনায়েত বাজার, চন্দনপুরা ও পশ্চিম বাকলিয়া এলাকায়। প্রায় ৪ বছর পর ১৯৮২ সালে পুনরায় ফিরে আসেন লালখান বাজার এলাকায়। শত প্রতিকূল বাঁধা ডিঙিয়ে জীবন পার করা ফরিদ মাহমুদ বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ছাত্রাবস্থাতেই জড়িয়ে পড়েন ছাত্র রাজনীতির সাথে। ১৯৮৬ সাল হতেই ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে পড়া শহীদ পুত্র ফরিদ মাহমুদ লালখান বাজার ওয়ার্ড ছাত্রলীগের আহবায়ক ছিলেন। এখন তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভুমিকা রাখছেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করতে গিয়ে জেল জুলুমসহ নানান অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। এমনকি মিথ্যা মামলায় দু দফা কারাবরনও করেছেন। আজকে তাঁর এই অবস্থানের পেছনে রয়েছে অনেক বাধা, প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকুলতা যার সবটাই মোকাবেলা করেছেন দৃঢ়চেতা হয়ে।

দেশের ক্রান্তিলগ্ন ৯০-৯৬ সালে ফরিদ মাহমুদ চট্টগ্রামের ছাত্রলীগ-যুবলীগের সকল কর্মসুচীতেই সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৯৪ সালে রাজাকার গোলাম আযমের চট্টগ্রাম আগমন ঠেকাতে তাঁর অগ্রনী ও সাহসী ভুমিকা চট্টগ্রামের রাজনীতিতে তাঁকে বেশ পরিচিত করে তোলে। সে সময় নগরীর গরীবুল্লাহ শাহ মাজার এলাকা, জিইসি মোড়, ওয়াসা মোড়, ইস্পাহানী-টাইগারপাস মোড়, দেওয়ান হাট, চৌমুহনী-বাদামতলী মোড়, কদমতলী ও অলংকার মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আওয়ামীলীগের প্রতিটি কর্মসুচীর অন্যতম চেনামুখ ছিলেন এই ফরিদ মাহমুদ। তৎকালীন সময়ে ফ্রিডম পার্টির সন্ত্রাসীদের দুর্গখ্যাত চট্টগ্রামের আমবাগান, পাহাড়তলী, পাঞ্জাবী লেইন, মাষ্টার লেইন, সরাইপাড়া এলাকা তার সাহসী ভুমিকা ও পদক্ষেপে সন্ত্রাসমুক্ত হয়।  

বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ন-আহবায়ক হিসেবে রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রচার- প্রচারণায় সবচেয়ে বেশি মাঠে সরব আছেন তিনি। বিগত প্রায় ১বছর ধরেই চট্টগ্রাম মহানগরীতে সরকারের উন্নয়নের তথ্য সংক্রান্ত বিষয়ে পোষ্টারিং করে এবং আলোচনা ও পথসভার মাধম্যে জনগণকে অবহিত করছেন। তাঁর উদ্দ্যেগে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ডিজিটাল ডিসপ্লের মাধ্যমে ভিডিওচিত্র  প্রদর্শন এবং মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও মাদ্রাসায় লিফলেট বিতরণ করে জনগণকে উদ্ভুদ্ধ করছেন। এর মধ্যে তিনি সরকারের মেগা প্রকল্পের উন্নয়ন সমুহের ছবি সম্বলিত ক্যালেন্ডার ও মগ চট্টগ্রামবাসীর কাছে বিতরণ করে নগর জুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছেন। দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তিনি এই কাজটি করতে দিন রাত পরিশ্রম করে নগরীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে চলেছেন। আর এই গুরুত্বপূর্ণ কাজে তাকে সার্বিক সহযোগীতা করছে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের নিবেদিত কর্মীরা। ফরিদ মাহমুদের এই শ্রম, মেধা, ত্যাগকে যথেষ্ট মূল্যায়ন করছে দলীয় হাইকমান্ড। তাঁর এই দলের প্রতি এই আনুগত্যের বিষয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ইতিমধ্যেই আওয়ামীলীগের দলীয় প্রধানের নিকট রিপোর্ট করেছে। তিনি বিভিন্ন উৎসব পার্বণে শামিল হয়ে যান সকল ধর্মালম্বীদের সাথে। ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী, রোজা-রমজান এবং ঈদের সময় নিজ উদ্যেগে এলাকাবাসীর হাতে তুলে দেন উপহার সামগ্রী।

 

 

আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের আমলে বিএনপি-জামাতের জ্বালাও পোড়াও ও বোমাবাজি প্রতিরোধে তিনি চট্টগ্রামে শক্ত অবস্থান নিয়ে প্রতিরোধ করেছিলেন। ফলশ্রুতিতে সেসময় অর্থাৎ ১৯৯৬-২০০১সাল পর্যন্ত হরতাল-অবরোধে জিইসি হতে আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড় এবং টাইগারপাস হতে নিউমার্কেট পর্যন্ত বিএনপি-জামাতের আন্দোলনমুক্ত ছিল। বিপদে আপদে তৃনমুলের আওয়ামী কর্মীদের সাথে সবসময় যোগাযোগ রেখেছেন তিনি। যার কারণে দলের নেতাকর্মী এবং নিজের এলাকাবাসী তাঁকে খুবই ভালবাসে। যেকোন সমস্যা সমাধানে সকলেই ছুটে আসে তাঁর কাছে।

ওয়ান ইলেভেন সরকারের আমলে সরকারি নির্দেশনায় যখন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে হয়রানীমূলক গ্রেফতার করছিল পুলিশ তখন দলের চরম দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের সাথে কৌশলে যোগাযোগ রেখে নানা কর্মসূচী পালন করতেন ফরিদ মাহমুদ। তিনি সে সময় আওয়ামীলীগ এর সভানেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তির দাবীতে গোটা চট্টগ্রাম মহানগরী জুড়ে পোষ্টার লাগিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত রাখেন। তাঁর এহেন কর্মকাণ্ডে তৎকালীন সময়ে প্রয়াত চট্টলবীর এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী খুশি হয়ে খুব প্রশংসা করতেন।

তিনি বিভিন্ন সময় অসহায় দুস্থদের সাহায্যার্থে নিজ উদ্যেগেই ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। এমন অনেক উদাহরণ আছে যা বর্ণনা করে শেষ করা যাবেনা। তার মধ্যে উল্ল্যেযোগ্য হল- সম্প্রতি নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ বাকলিয়ার ময়দার মিল এলাকায় কলোনীতে অগ্নিকাণ্ডে ভষ্মিভূত ২৮টি পরিবারকে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং তাঁরই সুযোগ্য পুত্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের পক্ষে কম্বল ও চাল বিতরণ করে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে প্রতিষ্টিত করে সংগঠনের ভীত মজবুত করতে বর্তমানে প্রশংসিত ভুমিকায় অবতীর্ণ তিনি। তাই আগামী সংসদীয় নির্বাচনে চট্টগ্রাম ১০ আসন থেকে দলীয় মনোনয়নের অন্যতম দাবীদার হিসেবে এখন ফরিদ মাহমুদের নামটিই সমুজ্জ্বল। বিগত দিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং দলের প্রতি আস্থা সবকিছু বিবেচনায় নিলে তাঁর আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই এগিয়ে।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

পৃথিবীর দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ – কক্সবাজার থেকে টেকনাফ

Footprint Admin

ছাত্র রাজনীতির অতীত ও বর্তমান

Aunantu Khan

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ মঞ্চায়নে অবতীর্ণ হওয়া বিশ্ব শক্তিধর রাষ্ট্রসমূহের দ্বন্ধ

MP Comrade

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: