Now Reading
নবজাতকের মৃত্যুতে বেকায়দায় স্কয়ার হাসপাতাল!



নবজাতকের মৃত্যুতে বেকায়দায় স্কয়ার হাসপাতাল!

ইদানীং কসাইখানা হিসেবে বেশ নাম ডাক কুড়িয়েছেন রাজধানীর অভিজাত স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড। দেশের আধুনিক হাপাতাল হিসেবে পরিচিতি থাকায় অনেকেই চিকিৎসা ব্যয় মাত্রাতিরিক্ত হওয়া সত্ত্বেও এই হাসপাতালের দিকে ঝুঁকেন কেবল ভাল একটা সেবা পাওয়ার আশায়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে এর উল্টো, চিকিৎসার নামে এই প্রতিষ্ঠান রীতিমত কসাইখানা খুলে বসেছেন। খুব একটা প্রভাবশালী কিংবা পরিচিত না হলেই সেবা প্রার্থীদের ভাগ্যে অবর্ণনীয় দুর্দশা অপেক্ষা করে। বলা যায় মানুষ বুঝে তারা তাদের আচরণ করেন। এই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার মূল্য তুলনামূলক দেশের অন্যান্য হাসপাতালের তুলনায় অনেক বেশি। সাধারণ মানুষজন এই প্রতিষ্ঠানের সেবা থেকে বঞ্চিত। আর যারা মোটামুটি কিছুটা স্বাবলম্বী বা বাধ্য হয়ে সেবার আশায় সেখানে যাচ্ছেন তাদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ফল সুখকর হচ্ছেনা। ভুক্তভোগীরা নিয়মিত এসব অভিযোগ বিভিন্নভাবে ব্যাক্ত করছেন। দেশের স্বনামধন্য ঔষধ তৈরির প্রতিষ্ঠান স্কয়ার এই হাসপাতালটি পরিচালনা করছে। নানা অনিয়ম এর মাঝে সবচেয়ে বেশি দুর্নাম ছড়িয়েছে চিকিৎসা অবহেলায় শিশু মৃত্যুর বিষয়টি। বেশ কিছুদিন যাবৎ এই তকমাটি তাদের ব্র্যান্ডে জড়িয়ে গেছে আর তা হল খরচ বাড়াতেই নাকি তারা ইচ্ছেমত গর্ভপাত করান! আর এই অভিযোগ খোদ যারা চিকিৎসা সেবা নিতে গিয়ে ভুক্তভোগী তাদেরই। নরমাল ডেলিভারি এর ক্ষেত্রেও নাকি তারা সিজার করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন রোগীকে। তেমনি এক ঘটনা নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে, আজ সকালে এক হতভাগ্য দম্পতির শিশুর মৃত্যু ঘটেছে কেবল চিকিৎসকদের অবহেলার কারনেই। শিশুটির পিতা-মাতা এবং আত্মীয় স্বজনদের দাবী তাদের বাচ্চা সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল। তারা বলেছেন, ভূমিষ্ঠ হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে যখন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ছিল তখন ওটি’তে থাকা চিকিৎসক রেহেনুয়া নাকি চাচ্ছিলেন সিজার করতে। পরে প্রসব বেদনার কষ্টে ভোগা তাসলিমা তারানুম নোভা(শিশুটির মা) অসহায় হয়ে যখন সিজার করতে রাজি হলেন তখন চিকিৎসক কালক্ষেপণ করে একাধিকবার বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা দিতে থাকেন। জানা যায়, গত ৫এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরেরদিন শুক্রবারে ডেলিভারি করে নবজাতকটিকে আইসিইউতে নিবিড় পরিচর্যার জন্য রাখা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারটির অভিযোগ আইসিইউ এর বিল ৫ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতে গেলে তাদের উপর চড়াও হয় ঐ প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা। অব্যবস্থাপনা, চিকিৎসায় অবহেলা ও চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসা সব মিলিয়ে মারাত্মক এক দুর্নামে পরিগণিত হচ্ছে দেশের এই আধুনিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানটি। অনেকেই বলছেন দিনের পর দিন চিকিৎসা নিয়ে নানা অনিয়ন সত্ত্বেও তারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকছেন তারা। বিষয়টা এমন যে অনেকেই ভাবেন তাদের ছাড়া দেশে উন্নত সেবা পাওয়ার আর কোন বিকল্প নেই। মানুষের এই বিশ্বাসকে পুজি করে তারা চিকিৎসার নামে দেশে এক প্রকার ডাকাতিতে নেমেছেন বলে অনেকের অভিযোগ। এর পূর্বেও অনিয়ম ও অব্যাবস্থাপনায় হাসপাতালটিতে গর্ভে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসবের কোন সুরাহাতো হয়নি বরং চিকিৎসকদের ব্যাপারে কোন ব্যাবস্থা নিতে গেলে উল্টো ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে গোটা দেশের চিকিৎসা সেবা প্রার্থীদের। ডাক্তারদের ভুলের বিপরীতে শাস্তিমূলক কোন ব্যাবস্থা নেয়াই যেন আরেকটি অপরাধ এই দেশে। যাক সেই দিকে না যাই। কারন এসব নিয়ে বলতে গেলে দেখা যাবে পরিচিত ডাক্তাররাই আমার চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেবেন…

আজকের ঘটনায় বেশি খারাপ লেগেছে যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখেছি শিশুটিকে নিয়ে তার পিতা-মাতার করুণ আহাজারি। বিবেকের কাছে প্রশ্ন- টাকার জন্য কি জীবনের কোন মূল্যই নেই এসব ডাক্তার নামের অপেশাদার মানুষের কাছে?

হতভাগ্য সেই নবজতাকের বাবা শাহবুদ্দিন টিপু সংবাদ মাধ্যমেই অভিযোগ করেছেন, ‘গত বৃহস্পতিবার তার স্ত্রীকে চেক-আপের জন্য স্কয়ারে নিয়ে আসলে গাইনি ডাঃ রেনুমা জাহান কয়েকটি চেক-আপ করে বলে দেন প্রসব বেদনা উঠলেই যেন তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু একই সময় ইমারজেন্সি রুম থেকে অন্য এক ডাক্তার বলেন, এখন সময় হয়ে গেছে তাই তার স্ত্রীকে ভর্তি করাতা হবে।  তার স্ত্রীর কোনো প্রসব ব্যথা না থাকায় তিনি ভর্তি করাতে ইচ্ছুক ছিলেন না। কিন্তু ডাক্তার এক প্রকার জোর করেই তার স্ত্রীকে ভর্তি করাতে বাধ্য করে এবং প্রসব বেদনার জন্য ইনজেকশন দিয়ে দেয়। আর শুক্রবার যখন তার স্ত্রীকে ডেলিভারি করানোর জন্য ওটি’তে নিয়ে যাওয়া হয় তখন তাকে জানানো হয় বাচ্চাটি মারা গেছে।

এখন প্রশ্ন হল, মারা যাওয়ার পরও কেন ৪দিন বাচ্চাটিকে আইসিইউতে রেখে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ? চিকিৎসা সেবার নামে এই অপেশাদারিত্বের দৌরাত্ন বন্ধ হবে কবে? এদের লাগামই বা টানবে কে? সরকারের উচিৎ এসব প্রতিষ্ঠানের উপর কঠোর নজরদারি করা যেন অকালেই কোন মা-বাবার কোল খালি হয়ে না যায়। ধিক্কার জানাই চিকিৎসা সেবার নামে চলা মুনাফাভোগীদের এসব ব্যাবসার। জীবনের কি কোন মূল্যই তাদের কাছে নেই? টাকার জন্য কি জোর করেই হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে? মৃত জেনেও চার দিন মৃত বাচ্চাটিকে কেন আইসিইউতে রেখে ৫ লাখ টাকার ব্যবসা করতে হবে? কে দেবে এর সদুত্তোর?

ভুক্তভোগীর ভিডিও স্টেটমেন্টঃ https://www.facebook.com/reza.u.karim.7/videos/10211729303488898/

About The Author
MP Comrade
MP Comrade
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment