Now Reading
বাঘ আর কুমির এক ঘাটেই!



বাঘ আর কুমির এক ঘাটেই!

শেষ পর্যন্ত সব কিছুকে মিথ্যে প্রমাণ করে দিয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন পরস্পরের প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়া। সম্ভাব্য মে মাসেই ট্রাম্প-কিম বৈঠকের বিষয়ে প্রাক প্রস্তুতি হিসেবে এর মধ্যেই উত্তর কোরিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের মধ্যে গোপনে আলোচনা শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের চোখ এখন তাদের এই বৈঠক নিয়ে, আদৌ তা ফলপ্রসূ হবে কিনা? সবকিছু ঠিক থাকলে পৃথিবীর ইতিহাসের এই নজিরবিহীন ঘটনা দেখবে বিশ্ববাসি। কেননা এটিই হবে উত্তর কোরিয়ার কোন নেতার সাথে ক্ষমতাসীন কোন মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম বৈঠক। এই বৈঠক বা সম্মেলন কোথায় হবে – তা এখনো অস্পষ্ট। তবে শুনা যাচ্ছে তৃতীয় অন্য কোন দেশে তাদের মধ্যে এই বৈঠক হতে পারে। বৈরি দুদেশের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে মার্কিন প্রশাসন বলছে, ট্রাম্প-কিম এর এই বৈঠকে উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের মজুতের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। উত্তর কোরিয়া ইতিমধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়াকে জানিয়েছে যে তারা কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করতে ইচ্ছুক এবং এ নিয়ে তারা কথা বলতে রাজী। আর তারা এই প্রথম পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে বা  ‘ডি-নিউক্লিয়ারাইজেশন” এ ওয়াশিংটনকেও সরাসরি আশ্বাস দিলো।

যুক্তরাষ্ট্র চায়, উত্তর কোরিয়া তার সকল পরমাণু অস্ত্র ত্যাগ করুক। আর উত্তর কোরিয়ারও স্পষ্ট দাবী, কোরিয়া উপদ্বীপ থেকে মার্কিন সৈন্য সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানকে রক্ষায় কোন অস্ত্র ব্যাবহার করবেনা যুক্তরাষ্ট্র।

তবে বিগত এক বছর ধরে দুই দেশের রাষ্ট্র প্রধানরা পরস্পরকে যখন নানান হুমকি ও বিদ্রুপ করেছেন তখন পরিস্থিতি অনেকটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠে। কিন্তু পরবর্তীতে যখন মার্চ মাসে হঠাৎ বৈঠকের খবর চাউর হয় তখন সবাই বিস্মিত হয়ে যায়। আপাতদৃষ্টে সুখের সংবাদ হচ্ছে পরস্পর বৈরি দুই শত্রু নিজেদের মধ্যেই ঠিক করে নিতে যাচ্ছেন তারা কি করবে। ভাল কিছু হওয়ার প্রত্যাশায় গোটা বিশ্ব। এই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক কিংবা পরিস্থিতির অবণতি ঘটলে তার মাশুল যে সারা পৃথিবী গুনবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

About The Author
MP Comrade
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment