আন্তর্জাতিক কারেন্ট ইস্যু

যুদ্ধে রাশিয়াকে প্রস্তুত থাকার চ্যালেঞ্জ আমেরিকার

গতকয়েকদিনের বিশ্ব পরিস্থিতি  বেশ উত্তাপ ছড়িয়েছে। সিরিয়ার বর্তমান গৃহযুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অস্থিরতা ক্রমশই জোরালো হচ্ছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে সমর্থন দিয়ে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে রাশিয়া। অন্যদিকে আসাদ বিরোধী গ্রুপকে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এমন প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে – তবে কি পৃথিবী তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে? এমন ভাবাটা অমূলক  নয়। বিগত বিশ্ব যুদ্ধগুলির প্রেক্ষাপট খেয়াল করলেই এ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বৃহৎ শক্তিগুলো পরস্পরের প্রতি বৈরিভাব এবং ক্ষমতার ধন্ধে নানা ধরনের হুমকি থেকেই যুদ্ধের উৎপত্তি। ঠিক তেমনি এক পরিস্থিতি বিরাজ করছে বর্তমান সময়। পৃথিবীতে এখন নানা ধরনের দ্বন্দ্ব কিংবা সংঘাত চলছে এবং এর সাথে নানা দেশ জড়িত। পৃথিবীর রাজনৈতিক শক্তি বলয় কার্যত এখন দুইভাগে বিভক্ত। এক পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আরেক পক্ষের নেতৃত্বে রাশিয়া। এ পর্যন্ত এমন কোন উল্ল্যেখযোগ্য কিছুই উদাহরণ হয়ে দাঁড়াতে পারেনি যেখানে এই দুই পক্ষই একই সুরে কথা বলেছেন কিংবা কাজ করেছেন। বরং এর উল্টোটাই দেখেছি আর তা হল যেখানে আমেরিকা কোন পক্ষকে সমর্থন বা সহযোগিতা করেছে ঠিক তার বিপরীত পক্ষকে সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে শক্তিশালী করেছে রাশিয়া।

সিরিয়ার গৃহ যুদ্ধ তেমনি একটি প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে যার সংঘাত এরই মধ্যে বৈশ্বিক রূপ লাভ করেছে। বাশার আল আসাদের সামরিক ক্ষমতার পেছনে রাশিয়া ও ইরানের ভুমিকাকে যুক্তরাষ্ট্র কোনভাবেই উপেক্ষা করতে পারে না। তাই প্রেসিডেন্ট আসাদ এর বিরোধীদের নানাভাবে সমর্থন ও অস্ত্র দিয়ে শক্তিশালী করছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট আসাদকে সমর্থন দিয়ে তার বিরোধীদের ঘাঁটিতে রাশিয়া নিজেই আক্রমণ চালিয়েছে। এসব কিছু আমেরিকা ভালভাবে নেয়নি তারা সুযোগ এর অপেক্ষা করছিল কিভাবে প্রেসিডেন্ট আসাদকে ঘায়েল করা যায় এবং রাশিয়াকে উচিৎ জবাব দেয়া যায়। সেই সুযোগটি সম্ভবত পেয়ে গেছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাশিয়া এবং আমেরিকা পরস্পর সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের দলটি চেষ্টা চালাচ্ছে একটি আন্তর্জাতিক টিম গঠনের যারা রাসায়নিক অস্ত্র আক্রমণের বিষয়ে তদন্ত করবেন। তবে শঙ্কা দেখা দিয়েছে রাশিয়া এরকম সকল প্রস্তাব আটকে দেবে। তারা চাইবেনা এই প্যানেল কাউকে দোষী বলে চিহ্নিত করুক। রাশিয়ার বক্তব্য হচ্ছে, তাদের সামরিক বিশেষজ্ঞরা দুমায় বেসামরিক লোকদের ওপর কোন ক্লোরিন বা রাসায়নিক অস্ত্র হামলার প্রমাণ এখনো পর্যন্ত পায়নি। এদিকে নিরাপত্তা পরিষদ এর বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, তদন্তকারীরা যদি সিরিয়ান শাসকদের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েও থাকেন তবে আদৌ তারা কোন কিছু করতে পারবে বলে মনে হচ্ছেনা। এরপরও যুক্তরাষ্ট্র সবকিছু একা সামলে নেয়ার প্রতিজ্ঞা ব্যাক্ত করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন যে, তিনি এ বিষয়ে সামরিক বাহিনীর সাথে কথা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্র হুঁশিয়ারি দিয়েছে, রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করার জন্য সিরিয়াকে কড়া জবাব দেয়া হবে। সাথে সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার সর্বশেষ টুইটারে উস্কানি মূলক টুইট করে বলেছে-  ‘রাশিয়া প্রস্তুত হও’ – কারণ যে মিসাইল আসবে আসবে তা হবে ‘সুন্দর, নতুন এবং বুদ্ধিমান।”

সুতরাং ধরেই নেয়া যায় যে, এক ধরনের শীতল যুদ্ধ এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। অনেকে বলছে সংঘাতে জড়ানো ছাড়াও যদি যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের মতো কোন পদক্ষেপ যদি নেয় তাহলে শুধু সিরিয়া নয় রাশিয়া ও ইরানও এর আওতায় পড়তে পারে। অন্যদিকে আমেরিকার কাছে একটি বড় মাথা ব্যাথার কারণ হচ্ছে উত্তর কোরিয়া। কেননা উত্তর কোরিয়া পারমানবিক সক্ষমতা অর্জনের বেশ কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ইতিমধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন উত্তর কোরিয়াকে শান্ত রাখতে নতুন কৌশল হিসেবে আলোচনার দিকে এগুচ্ছেন। কিন্তু অনেক বিশেষজ্ঞদের মতে উত্তর কোরিয়ার দাবীর প্রেক্ষিতে আমেরিকা যদি কোরিয়া উপদ্বীপ থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয় তাহলে সেটা হবে খুবই ভয়ঙ্কর একটি বার্তা। ফলশ্রুতিতে সে অঞ্চলে একটি যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার  সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। সবমিলিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষরা পূর্বের চেয়ে বেশ শক্তিশালী হয়ে নিজেদের সংগঠিত করেছে। রাশিয়া সেই বলয়টাকে প্রতিনিয়ত সাহায্য সহযোগিতা দিয়ে শক্তিশালী করেছে তাই সেসব দেশ তাদের শতভাগ নিয়ন্ত্রণে আছে।

এদিকে যদি যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার মত কোন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তবে বৃহৎ শক্তিগুলোর পরস্পরের মাঝে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং পরস্পরের স্যাটেলাইটে সাইবার আক্রমণের মত সম্ভাবনা কেউ উড়িয়ে দিচ্ছেন না। মধ্য প্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে যদিও উত্তেজনা বাড়ছে কিন্তু একই সাথে উত্তেজনা প্রশমনের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে অনেকেই কাজ শুরু করেছেন। আর এ পরিস্থিতিতে যে কোন ধরনের বড় যুদ্ধ থামাতে হাতিয়ার হিসেবে জাতিসংঘ একটি বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

আমেরিকাকেও চ্যালেঞ্জ জানাল রাশিয়া

MP Comrade

ধনী রাষ্ট্রের সাথে গরীব রাষ্ট্রের বৈষম্য

MP Comrade

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ মঞ্চায়নে অবতীর্ণ হওয়া বিশ্ব শক্তিধর রাষ্ট্রসমূহের দ্বন্ধ

MP Comrade

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: