আন্তর্জাতিক কারেন্ট ইস্যু

রাশিয়া ব্যর্থ আমেরিকাকে থামাতে

শেষ পর্যন্ত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়ার তোলা খসড়া প্রস্তাব নাকচ হয়ে গেছে।সিরিয়ায় আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের শনিবারের সমন্বিত হামলার নিন্দা জানাতেই রাশিয়ার এই উদ্যোগ। কিন্তু অবাক করা বিষয় হচ্ছে মাত্র ৩টি দেশ রাশিয়া, চীন ও বলিভিয়া এই প্রস্তাবের খসড়ার পক্ষে সমর্থন দিয়েছে।  চার দেশ ইথিওপিয়া, কাজাখস্তান, গায়ানা ও পেরু ভোটদানে বিরত থাকে এবং প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয় বাকী আটটি দেশ যথাক্রমে, আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড, সুইডেন, কুয়েত, পোল্যান্ড ও আইভরিকোস্ট। জাতিসংঘের অনুমোদন ব্যাতিত সিরিয়ায় ওই হামলা চালিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদের তিন স্থায়ী সদস্যদেশ আমেরিকা, ফ্রান্স এবং ব্রিটেন। ফলে শনিবার দিনের শুরুতে চালানো হামলার ব্যাপারে শনিবার রাতে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের  জরুরি বৈঠকে রাশিয়া ঐ প্রস্তাব তোলে।

যেহেতু আশানুরূপ ভোট পড়েনি তাই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়ার তোলা খসড়া প্রস্তাব নাকচ হয়ে গেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতরেস এই বিপজ্জনক অবস্থায় সবকটা পক্ষকে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়ে পরিস্থিতির অবনতি না ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতিসংঘে রাশিয়ার নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেভেনজিয়া নিরাপত্তা পরিষদের ঐ জরুরি বৈঠকে এক পৃষ্ঠার  খসড়া প্রস্তাবটি পড়ে শোনান। খসড়া প্রস্তাবটিতে সিরিয়ায় আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সামরিক আগ্রসানের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এ হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে  রুশ রাষ্ট্রদূত সংঘর্ষপীড়িত সিরিয়ায় পুনরায় হামলা চালানোর ব্যাপারে তিন পশ্চিমা দেশকে সতর্ক করে দেন। রাশিয়া দাবী করে, সিরিয়ায় শনিবারের আগ্রাসন ছিল জাতিসংঘ ঘোষণার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এ হামলা উগ্র সন্ত্রাসীদের সমর্থনেরও শামিল। রাশিয়ার দাবী হামলার এই ভয়াবহতায় সিরিয়ায় উদ্ভাস্তু বাড়বে সাথে সাথে জনগণের অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশাও বাড়বে। গত শনিবার ভোর ৪টায় ব্রিটেন ও ফ্রান্সকে সঙ্গে নিয়ে আমেরিকা সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে। পশ্চিমা জোট প্রায় ১০০টিরও অধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ে যার মধ্যে সিরিয়া ৭১টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে বলে দাবী করেছে। এদিকে রাশিয়া বলেছে ক্ষেপণাস্ত্র গুলা তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যাবস্থার আওতায় আসেনি।

গত সপ্তাহে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের নিকটবর্তী ডুমায়  দেশটির সেনাবাহিনী রাসায়নিক হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে আমেরিকা ও তার মিত্ররা। ওই হামলার জবাবে প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদকে কোণঠাসা করতে গত শনিবার ভোর রাতে সিরিয়ার বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় একযোগে ১০০টির ও অধিক ক্রুস ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমান হামলা চালিয়েছে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা জোট। এমন একটা সময় এই পশ্চিমা শক্তি সিরিয়ায় হামলা চালিয়েছে যখন রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থার বিশেষজ্ঞরা দুমার কথিত রাসায়নিক হামলার তদন্ত করতে দামেস্ক পৌঁছেছেন।  প্রশ্ন উঠেছে আন্তর্জাতিক তদন্ত দলের তথ্য-প্রমাণাদি উদঘাটন এর পূর্বে কেন তড়িঘড়ি করে সিরিয়ায় হামলা চালাল আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্স। হামলার পরপরই বিশ্বজুড়ে এর পক্ষে-বিপক্ষে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। হামলার পর পরই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সিরিয়া, ইরান ও রাশিয়া এ হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লা খামেনী আমেরিকা, ব্রিটেনও ফ্রান্সকে ‘ক্রিমিনাল’ বা দুষ্ট চক্র বলে অভিহিত করেছেন।  সিরিয়া হামলার বিরোধিতা করে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, যুদ্ধ নয় বরং রাজনৈতিক উপায়ে সমস্যা সমাধান করা যেত । কিউবাও  এই হামলার বিরোধিতা করেছে। মিশর ও আলজেরিয়াও হামলার পক্ষে অবস্থান নেয় নি ঠিকই কিন্তু এই হামলার বিরুদ্ধে তারা গভীর উদ্ধেগ প্রকাশ করে বলেছে, “আমাদের ভ্রাতৃপ্রতীম সিরিয়ার জনগণের নিরাপত্তায় এই হামলা ভয়াবহতা ছড়াবে এবং সিরিয়ায় যে নিরাপদ অঞ্চল গঠন করা হয়েছে তা হুমকির মুখে পড়বে।” এদিকে সিরিয়ায় হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে লোবননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ এবং সিরিয়ার প্রতি তাদের সমর্থন পুনব্যাক্ত করে পশ্চিমা ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করায় সামরিক বাহিনীর প্রশংসা করেছে । অন্যদিকে, আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের হামলার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে কানাডা, সৌদি আরব, ইসরাইল, তুরস্ক, কাতার, কলম্বিয়া, ইউরোপীয় কাউন্সিল, জার্মানি, পোল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র, নেদারল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্লোভেনিয়া ও স্পেন।

 

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

ইথিওপীয়ার উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত নিয়ে উঠছে হাজারো প্রশ্ন

salma akter

ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার কবলে ইরান

MP Comrade

তাহসান-মিথিলা বিচ্ছেদ এবং আমাদের মানসিকতা

Rihanoor Islam Protik

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy