Now Reading
নিষ্ঠুরতার বলি হতভাগা আসিফা



নিষ্ঠুরতার বলি হতভাগা আসিফা

কাশ্মিরের কাঠুয়া অঞ্চলে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার ৮ বছর বয়সী শিশু আসিফা বানুকে ফের গণধর্ষণ করে তারপর হত্যা করা হয়েছে। এ বছরের জানুয়ারিতে কাঠুয়া উপত্যকায় ঘোড়া চড়ানোর সময় অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় আসিফাকে। অপহরণের পর সপ্তাহখানেক আটকে রেখে ধর্ষণ এবং শেষে হত্যা করা হয়। হতভাগ্য এই আসিফা বানু হচ্ছে ভারতের সংখ্যালঘু বাকারওয়াল জাতিগোষ্ঠীর ইউসুফ বাকারওয়ালের কন্যা। বাকারওয়াল গোষ্ঠীটি কাশ্মীরের পাহাড়ি এলাকায় যাযাবরের মতো বাস করে, তারা ভেড়া ও ঘোড়া চড়িয়ে এদের জীবিকা নির্বাহ করে। গোষ্ঠীটির কিছু লোক রাসানা এলাকায় বসবাস করতে এলেই বাঁধে বিপত্তি, তারা এখানকার প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তা সনজি রাম এর রোষানলে পড়েন। সনজি রাম শুরু থেকেই বাকারওয়ালদের বিরুদ্ধে মাদকপাচার, গো-হত্যাসহ নানা উসকানি ছড়িয়ে স্থানীয়দের উত্তপ্ত রাখতেন। এত কিছু করেও যখন পেরে উঠছিলেননা উগ্র মানসিকতার সনজি রাম, তার ভাগনে রামুকে নির্দেশ দেন আসিফাকে অপহরণের। এর পেছনে লক্ষ্য ছিল বাকারওয়াল গোষ্ঠীকে এলাকা থেকে তাড়ানো।  

এদিকে অপহরণের পর মেয়েকে ফিরে পেতে খোঁজ চালাতে থাকে বাকারওয়ালরা তারা পুলিশকেও অবহিত করে বিষয়টি। ১৭ জানুয়ারি রাসানার একটি জঙ্গল থেকে আসিফার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এমন প্রেক্ষাপটে সনজি রাম বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আনন্দ দত্ত নামের উপ-পরিদর্শক পদ মর্যাদার এক তদন্ত কর্মকর্তাকে দেড় লাখ রুপি ঘুষ দেন।

আসিফা হত্যার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে সম্প্রতি ওই ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশ যখন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় তখন। গ্রেফতার করা হয়েছে অভিজুক্ত সেই অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা সনজি রামকে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আরো রয়েছে -দীপক খাজুরিয়া নামের পুলিশের এক বিশেষ কর্মকর্তা, সুরেন্দ্র বর্মা, আনন্দ দত্ত ও তিলক রাজ এবং সনজি রামের ভাগনে রামু ও তার বন্ধু পারবেশ কুমার (মানু) ও রামের ছেলে বিশাল জঙ্গোত্রা।

পুলিশের অভিযোগপত্রে উল্ল্যেখ আছে, বাকারওয়াল গোষ্ঠীকে এলাকা থেকে তাড়াতে সনজি রাম তার ভাগনে রামুকে দিয়ে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটায়।  রামু তার বন্ধুদের নিয়ে ইউসুফের মেয়ে আসিফাকে অপহরণ করেত। এরপর তাকে ধর্ষণ করে রামু পরবর্তীতে মানুও চেষ্টা করে ধর্ষণের। পরে তারা সনজি রামের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি উপাসনালয়ে তালাবদ্ধ করে আসিফাকে আটকে রাখে। পরবর্তীতে নির্জন এলাকার একটি কালভারট এর উপর নিয়ে গিয়ে রামুর বন্ধু দীপক তার চাদর আসিফার গলায় পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। রামু আসিফার মাথা পাথর দিয়ে থেতলে দিয়ে মরদেহ ফেলে দেয় দূরের জঙ্গলে। সেখানেই পড়ে থাকা আসিফার নিথর মরদেহ  ১৭ জানুয়ারি উদ্ধার করেন স্থানীয়রা, খবর পেয়ে পুলিশ এসে মরদেহটি নিয়ে যায়।

শিশুটিকে গণধর্ষণ ও হত্যায় তোলপাড় চলছে ভারতে। এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে রাজনীতিক, সুশীল সমাজের নেতা থেকে শুরু করে কলিউড-টলিউড-বলিউডের তারকারা পর্যন্ত যারা প্রচণ্ড সোচ্চার হয়েছেন। প্রত্যেকের অভিন্ন সুর যেন আসিফার ধর্ষক ও হত্যাকারীদের কঠোর বিচার হয়।

About The Author
MP Comrade
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment