স্যোশাল নেটওয়ার্কে ভাইরাল

হাত হারানো রাজীবের বাঁচার চেষ্টাও বৃথা গেল

শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানলেন ঢাকার মহাখালী এলাকার সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন। গত কয়েকদিন আগে বাসে একটি কাটা হাত ঝুলে থাকার দৃশ্যের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই যেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছিল। হ্যাঁ এটিই সে রাজিবের হাত যেটি সে হারিয়েছিল দুই বাসের চাপায়, আর এ কয়দিন লড়াই করে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন তিনি। চলতি মাসের চার তারিখে রাজিব রাষ্ট্র মালিকানাধীন বিআরটিসির একটি বাসে চড়ে কলেজে যাচ্ছিলেন তখন রাজধানীর সার্ক ফোয়ারার কাছে ব্যক্তি মালিকানাধীন অন্য একটি বাসের সাথে রেষারেষির এক পর্যায়ে বাস দুটি একটি আরেকটিকে ঘেঁষে চলতে শুরু করে।  দুই বাসের এই অনিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতায় এবং তাদের ঘষায় যাত্রী রাজীবের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে বাসের দরজায় ঝুলে থাকে। তৎক্ষণাৎ রাস্তায় পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান রাজীব। রাজধানীর একটি বেসরকারি হাপাতাল পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় তাকে। তার বাহুর নিচ থেকে পুরোটাই কাটা পড়েছিল যার ফলে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। জ্ঞান ফেরার পর অসহায়ভাবে বাম হাত দিয়ে ডান হাতটা খুঁজতো রাজীব। তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল থাকা সত্ত্বেও মৃত্যুর কাছে হার মেনে নেন এই যুবক। তার মাথার হাড়ে ফাটল পাওয়া গেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছিল পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ’তে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন রাজীবকে কর্তব্যরত চিকিৎসক সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে মৃত ঘোষণা করেন।

খুব ছোট বেলায় মা-বাবাকে হারানো রাজীব হোসেন ছোটো দুই ভাইয়ের আশার সম্বল ছিলেন। যাত্রাবাড়ীর মিরহাজিরবাগের একটি মেসে থেকে স্বজনদের সহৃদয় সহযোগিতায় কলেজের অধ্যায় চুকিয়ে বড় হবার স্বপ্ন ছিল তার। ছোট দুই ভাইকেও সেভাবে মানুষ করার লক্ষ্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন তিনি। তার ভাই দুজনই রাজধানীর একটি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় পড়ে।  নিজের পড়ালেখার খরচের পাশাপাশি ভাইদের খরচও বহন করতেন রাজীব। সত্যি বলতে সমাজ থেকে এমন সব মানুষের অকালে চলে যাওয়া মেনে নিতে কষ্ট হয় যারা অভাগা হয়েও ভাগ্যন্বেষণে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে বেঁচে থাকে। রাজীবের এই মর্মান্তিক ঘটনাটি দেশের মানুষকে ব্যাপক নাড়া দিয়েছে, তার বিচ্ছিন্ন হাতটি দুই বাসের ফাঁকে ঝুলে থাকার বীভৎস দৃশ্যে আঁতকে উঠেছিল সকলের মন। মুহূর্তেই বাসে ঝুলে থাকা সেই হাতের ছবি ব্যাপকভাবে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

রাজীবের এই হাতটির ছবি হয়ে উঠেছে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষজনের নিরাপত্তাহীনতার একটি প্রতীক। তাই এখনি সচেতন হতে হবে নিজেকেই, কোন চালক যদি তার বাহনটি অহেতুক বিপদজনকভাবে চালনা করে তবে তৎক্ষণাৎ তার প্রতিবাদ করতে হবে নিজেকে। কয়েক মিনিট আগে পৌঁছানোর জন্য যেন এমন অসহনীয় প্রতিযোগিতাকে সমর্থন না করি।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

নিষ্ঠুরতার বলি হতভাগা আসিফা

MP Comrade

মাশরাফি- শুভাশিস দের কাছে অনেক কিছু শেখার আছে!

Kanij Sharmin

কোটা বাতিল ইস্যুতে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করা যাবে কি?

MP Comrade

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy