মানসিকতা শিশু নিরাপত্তা ও ভবিষ্যত

বুলিং এর কবলে শিশু-কিশোর’রা

বুলিং শব্দটির সাথে মোটামুটি সবাই এখন পরিচিত। আন্তর্জাতিকভাবে এই বুলিং এর অর্থ হচ্ছে যখন কাউকে শারীরিক বা মানসিকভাবে আঘাত করা। যেমন-  ধাক্কা দেয়া, শারীরিকভাবে আঘাত করা, হেয়প্রতিপন্ন করা, মজা করা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা, অপমান করে সবার সামনে ছোট করা ইত্যাদি। যে বা যারা এই কাজ করে তারা নির্দিষ্ট একটি গ্রুপ তৈরি করে তার নেতৃত্ব দেয়। তারা বুলি হিসেবে গণ্য হয় এবং গ্রুপে তারা বয়সে অন্যদের চেয়ে বড় ও দাপুটে হয়। বুলিং এমন একটা জিনিস যে বুলি অন্যদের নেতৃত্ব দেয়- তোমার সাথে মিশবনা বা খেলবনা ইত্যাদি বলে। যার ফলে বুলিং এর শিকার শিশু-কিশোররা একপ্রকার মনস্তাত্ত্বিক চাপে ভোগে। তারা বিভিন্ন বাহানা করে স্কুলে যেতে চায়না, বাসায় অকারণে ছোট ভাই-বোনের প্রতি আগ্রাসী মনোভাব দেখায়। মূলত স্কুল কলেজে পড়ুয়ারাই সহপাঠী কিংবা সিনিয়রদের দ্বারাই এই পীড়নের শিকার হয়। তাছাড়াও এলাকা ভিত্তিক কিশোরদের গ্রুপ কর্তৃকও বুলিং হয়। এমনকি নিজ বাড়ীতেও বুলিং এর শিকার হতে হয় বিশেষ করে শিশুদের। হয়ত বিষয়টির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচয় না থাকাতে আমরা খুব একটা গুরুত্ব দিইনা। এই যেমন চাচাত বা মামাত ভাই-বোনেরা কিংবা বড় কোনজন শিশুকে বলল- তুমি খুব পচা কিংবা তোমার চেয়ে অমুক বেশি ভাল কিংবা তুমি সুন্দর নও ইত্যাদি। এইসব বিষয়ও কিন্তু বুলিং এর আওতায় পড়ে কেননা একটা কিশোর কিংবা বাচ্চা এই ধরণের আচরণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। অপমান বোধ করাতে তার মানসিক বিকাশ প্রচণ্ড ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর বিরুপ প্রতিক্রিয়া পরে তার লেখা পড়া ও শারীরিক গঠনে। যার ফলে পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হয় এবং শারীরিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। এমনও হাজারো প্রমাণ আছে অনেক শিশু-কিশোর এই বুলিং এর শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছে।

শুধুই যে এভাবে বুলিং হয় তা কিন্তু নয়, ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়ায় অনলাইন গেম খেলার সময় শারীরিকভাবে আক্রান্ত ও হুমকির শিকার হয় এই তরুণ প্রজন্ম। তবে এসব ঘটে বিশেষ কিছু ওয়েবসাইটে অথবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্ল্যাটফর্মে।বিশ্বব্যাপী সাইবার বুলিংয়ের ঘটনা বিদ্যমান। শিশুরা অনলাইনে আপত্তিকর মন্তব্যের শিকার হয়, তার মধ্যে রয়েছে গালাগালি, বর্ণবাদী ও যৌনতা-বিষয়ক মন্তব্য যা তারা সহজেই অভিবাবক কিংবা পরিবারের সদস্যদের সাথে শেয়ার করতে পারেনা। তবে আশার কথা হচ্ছে যে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এসব অপ্রত্যাশিত ঘটনা প্রতিরোধে ইদানীং সচেতনতা বাড়ছে। ডিজিটাল অপরাধ কীভাবে এড়িয়ে চলা যায় এবং এ ধরনের অপরাধের শিকার হলে তা কীভাবে প্রতিহত করা সম্ভব, সে বিষয়ে তরুণদের মধ্যে পূর্বের চেয়ে সচেতনতা বাড়ছে।

তাই শিশু কিশোরদের এই বুলিং থেকে রক্ষা করতে উদ্দ্যেগ নিতে হবে অভিবাবক কিংবা পরিবারের সদস্যদের। তাদের সাথে বন্ধুর মত মিশে জেনে নিতে হবে তার সমস্যার কথা এবং তা নিরসনে যথাযথ ভুমিকা রাখতে হবে। প্রাসঙ্গিক সকল বিষয়ে তাদের উৎসাহ দিয়ে মনোবল বৃদ্ধি করতে হবে। তবেই একজন শিশু কিংবা কিশোর এই বুলিং এর মারাত্মক প্রভাব থেকে বের হয়ে আসতে পারবে। সকলের প্রত্যয় হউক যেন প্রতিটি শিশু কিশোরের নির্ভয়ে বেড়ে উঠার পরিবেশ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারি।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

ব্যর্থতা থেকে মুক্তি পাওয়া কি সম্ভব?

Kazi Mohammad Arafat Rahaman

দূর্বলতা

krisnokomoldas

ধর্ষণ বনাম পারফেকশন

Rihanoor Islam Protik

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy