আন্তর্জাতিক রাজনীতি

শান্তির পথে উত্তর কোরিয়া

শেষ পর্যন্ত লড়াকু মনোভাব পরিত্যাগ করে সকল প্রকার ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করলেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। তার এই ঘোষণায় কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিস্থাপন করতে ২১ এপ্রিল থেকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষা ও আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত এর সকল প্রকার পরীক্ষা বন্ধ রাখবে। তাছাড়া কোরীয় উপদ্বীপে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো ও শান্তির প্রয়োজনীয়তা দেখছে দেশটি তাই পূর্বের অবস্থা থেকে সরে এসে নমনীয় হয়েছে প্রেসিডেন্ট কিম। যদি এটি ঘটে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও উত্তর কোরীয় নেতার মধ্যে এটি প্রথম কোনো বৈঠক হবে।

North Korean nuclear warhead

উল্লেখ্য, গেল বছরের নভেম্বরে আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের একটি সফল সফল পরীক্ষা চালায় উত্তর কোরিয়া। এতে কোরীয় উপদ্বীপের রাষ্ট্রসমূহ এবং আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে দেশটি। উত্তর কোরিয়া দাবী করে তাদের পরীক্ষাকৃত ক্ষেপণাস্ত্রটি যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো জায়গায় সফল আঘাত হানতে সক্ষম। মূলত এ পরীক্ষার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বেশ তৎপর হয়। তাদের দাবী উত্তর কোরিয়া বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করে আসছে।

এদিকে কিমের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার এক টুইট বার্তায় বলেছেন- ‘এটি একটি বিশাল অগ্রগতি এবং উত্তর কোরিয়া ও বিশ্বের অন্যদের জন্য খুব ভালো খবর’। ট্রাম্প আরো বলেন, উত্তর কোরিয়া পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ করলে সামনে তার জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। আর দক্ষিন কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে তাদের মুখপত্র বলেছেন- উত্তর কোরিয়ার এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ এবং অর্থবহ অগ্রগতি।

আগামী জুনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ান প্রেসিডেন্ট কিমের মধ্যকার এক সামিট আয়োজিত হতে পারে যা নজিরবিহীন। যদি এমনটা হয় তবে, ক্ষমতাসীন মার্কিন কোন প্রেসিডেন্টের সাথে উত্তর কোরিয়ার কোনো নেতার এটাই হবে আনুষ্ঠানিক প্রথম বৈঠক। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন এবং উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন এর মধ্যে টেলিফোনে সংযোগ স্থাপিত হয়।  এদিকে এই দুই কোরীয় নেতার বৈঠকের বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে, তাই আশা করা যাচ্ছে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই হয়ত তা হবে। দুই চির শত্রুভাবাপন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হলে তা হবে গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে দুই কোরিয়ার শীর্ষ নেতাদের মধ্যে প্রথম বৈঠক।

মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএর সাবেক পরিচালক মাইক পম্পিও এক গোপন সফরে উত্তর কোরিয়া গিয়ে ওই দেশটির নেতা কিম জং আনের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তাই সবার ধারণা ট্রাম্প ও কিম জং ইনের মধ্যকার বৈঠকের  প্রস্তুতি হিসেবেই পম্পিওর ওই সাক্ষাৎ। কিছুদিন আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সরকারে নতুন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে পম্পিওর নাম ঘোষণা করেছিলেন। ট্রাম্প নিজেও কিছুদিন পূর্বে বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার সাথে উচ্চ পর্যায়ে সরাসরি যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও উত্তর কোরিয়া সফরের পরিকল্পনা করছেন, অবশ্য কিছুদিন আগেই কিম জং ইন নিজেও বেজিং সফর করে এসেছেন। এদিকে সবকিছু সামনে রেখেই প্রভাবশালী দেশসমূহ কোরীয় দ্বীপের রাষ্ট্রটির সাথে নানামুখী ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে লক্ষ্য করা যাচ্ছে প্রায় প্রতিটি দেশই উত্তর কোরিয়াকে শান্ত রাখতে কৌশল অবলম্বন করেছে, আর তাদের সে উদ্দ্যেগকে শ্রদ্ধা জানিয়ে উত্তর কোরিয়াও নমনীয় হয়ে এই ঘোষণাটি দিল।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে নিঃশব্দ গণহত্যা | মায়ানমারের রোহিঙ্গা নিধন | বাংলাদেশের কি করনীয়?

Footprint Admin

“Cold War” বা স্নায়ু যুদ্ধের গোড়াপত্তন

MP Comrade

পাল্টা পাল্টি বহিস্কার সেয়ানে সেয়ানে (৩য় বিশ্ব যুদ্ধের ডাক?)

MP Comrade

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy